ডা. গুলজার হোসেন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কবি, গীতিকবি, সুরকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এমন বিভিন্ন পরিচয়ে জানি। তবে অনেকের অজানা আছে যে সংগীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ কিছু নতুন তালও সৃষ্টি করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট তালের যে নামগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো ঝম্পক, ষষ্ঠী, রূপ কড়া, নবতাল, একাদশী ও নব পঞ্চ। এর মধ্যে ষষ্ঠী তালটিকেই তিনি তুলনামূলক বেশি ব্যবহার করেছেন। অন্য তালগুলো তিনি বিশেষ ব্যবহার করেননি।
সে হিসেবে বলা যায়, নতুন তালের অধিকাংশ কবির নিরীক্ষাধর্মী মনোভাব থেকে উৎসারিত। সেগুলো খুব পরিকল্পিত কিছু ছিল না বলেই মনে হয়। যে কারণে পরবর্তী জীবনে সেই সব তালে আর গান রচনা করেননি তিনি। আবার এই তালগুলোর মধ্যে শুধু রূপ কড়া, নবতাল আর একাদশী এই তিনটি তালের বোল বা ঠেকা লিখে গেছেন কাঙালীচরণ সেন। অন্যগুলোর প্রামাণ্য ঠেকা পাওয়া যায় না। এতে বোঝা যায় এটা তাঁর এক প্রকারের খেয়ালই ছিল।
তবলার তালে সম ও ফাঁক বলে দুটি বিষয় থাকে। একে তালি এবং খালিও বলে। রবীন্দ্র-সৃষ্ট তালগুলোর কোনোগুলোতে ফাঁক বা খালি নেই—শুধু তালি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ঝম্পক তালের কথা। এটি পাঁচ মাত্রার তাল। এর মাত্রা বিভাগ ৩। ২, সাধারণত মধ্য থেকে দ্রুত লয়। ঝম্পক তালে যে গানগুলো তিনি রচনা করেছেন সেগুলো হলো ‘আজি ঝড়ের রাতে’ (তবলা, বিলম্বিত-ঘেঁষা মধ্য), ‘কোথা বাইরে দূরে, (খোল, মধ্য), ‘ঘুমের ঘন গহন হতে’ (মৃদঙ্গ, দ্রুত-ঘেঁষা মধ্য)। সুবিনয় রায় কৃত ঠেকা
তবলা: I ধিন্ ধিন্ না । ধিন্ না I
মৃদঙ্গ: I ধা দেন্ তা । তেটে ঘেনে I
রবীন্দ্র সৃষ্ট ষষ্ঠী ছয় মাত্রার তাল। এর মাত্রা বিভাগ ২। ৪, লয় দ্রুত, কখনো মধ্য, কদাচিৎ বিলম্বিত। দক্ষিণ ভারতীয় তাল ‘পত্তি’র সঙ্গে মিল আছে। ষষ্ঠী নামটি রবীন্দ্র তিরোভাবের পর রাখা হয়, আগে এটি ‘দুই-চার’ তাল নামে পরিচিত ছিল। এই তালে লেখা গানের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া নাই বা গেলে’ (তবলা, মধ্য), ‘নিদ্রাহারা রাতের এ গান’ (খোল, দ্রুত), ‘নীলাঞ্জন ছায়া’ (তবলা, বিলম্বিত)। এর ঠেকাটি লিখিত আকারে প্রকাশ করেন শিল্পী সুবিনয় রায়।
শুরুতে বলেছিলাম, কিছু অপ্রচলিত তালকে তিনি ঈষৎ পরিবর্তন করে তাঁর গানে ব্যবহার করেন। যেমন সুর ফাকতা। ফাকতা ফারসি শব্দ। কবুতর ও ঘুঘুর মিশ্র প্রজননে এক বিশেষ প্রজাতির ছোট পায়রার জন্ম হয়, যাকে ফারসিতে বলে ফাকতা। ছোট পায়রা বা ফাকতার উড়ালের ছন্দ তবলার তালে বেঁধে এই সুর ফাকতা তালের সৃষ্টি হয়েছিল। এটি একটি ‘হিন্দুস্তানি তাল’। ধারণা করা যায় এটি ভারতে আসা মুসলমান সংগীতকারদের সৃষ্ট তাল।
এই তাল ধ্রুপদে ব্যবহার হতো। রবীন্দ্রনাথ এই তালের ছন্দ ঈষৎ পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু কীভাবে, যেন কালক্রমে এর নাম হয়ে গেছে ‘সুর ফাঁক তাল’ এবং ‘সুর ফাঁক তাল’। আদি সুর ফাকতায় ফাঁক ছিল। রবীন্দ্রনাথের সুর ফাকতায় ফাঁক বা খালি তুলে দেওয়া হয়েছে। তবু এর নাম ‘সুর ফাঁক তাল’ হয়ে গেল কীভাবে সেটা বলা কঠিন। হয়তো মুখে মুখে।
যা হোক, তবলার তালে পায়রার উড়ালের শব্দ এক অদ্ভুত সাংগীতিক দ্যোতনা সৃষ্টি করে। আমাদের আদি সংগীতকারেরা কতটা গভীরতার সঙ্গে সুর ও প্রকৃতির সাধনা করেছেন, সেটা ভাবলে অবাকই হতে হয়। রবীন্দ্রনাথের সংগীত সাধনা ও ভাবনার গভীরতাও যতই অনুসন্ধান করি ততই বিস্মিত হই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কবি, গীতিকবি, সুরকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এমন বিভিন্ন পরিচয়ে জানি। তবে অনেকের অজানা আছে যে সংগীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ কিছু নতুন তালও সৃষ্টি করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট তালের যে নামগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো ঝম্পক, ষষ্ঠী, রূপ কড়া, নবতাল, একাদশী ও নব পঞ্চ। এর মধ্যে ষষ্ঠী তালটিকেই তিনি তুলনামূলক বেশি ব্যবহার করেছেন। অন্য তালগুলো তিনি বিশেষ ব্যবহার করেননি।
সে হিসেবে বলা যায়, নতুন তালের অধিকাংশ কবির নিরীক্ষাধর্মী মনোভাব থেকে উৎসারিত। সেগুলো খুব পরিকল্পিত কিছু ছিল না বলেই মনে হয়। যে কারণে পরবর্তী জীবনে সেই সব তালে আর গান রচনা করেননি তিনি। আবার এই তালগুলোর মধ্যে শুধু রূপ কড়া, নবতাল আর একাদশী এই তিনটি তালের বোল বা ঠেকা লিখে গেছেন কাঙালীচরণ সেন। অন্যগুলোর প্রামাণ্য ঠেকা পাওয়া যায় না। এতে বোঝা যায় এটা তাঁর এক প্রকারের খেয়ালই ছিল।
তবলার তালে সম ও ফাঁক বলে দুটি বিষয় থাকে। একে তালি এবং খালিও বলে। রবীন্দ্র-সৃষ্ট তালগুলোর কোনোগুলোতে ফাঁক বা খালি নেই—শুধু তালি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ঝম্পক তালের কথা। এটি পাঁচ মাত্রার তাল। এর মাত্রা বিভাগ ৩। ২, সাধারণত মধ্য থেকে দ্রুত লয়। ঝম্পক তালে যে গানগুলো তিনি রচনা করেছেন সেগুলো হলো ‘আজি ঝড়ের রাতে’ (তবলা, বিলম্বিত-ঘেঁষা মধ্য), ‘কোথা বাইরে দূরে, (খোল, মধ্য), ‘ঘুমের ঘন গহন হতে’ (মৃদঙ্গ, দ্রুত-ঘেঁষা মধ্য)। সুবিনয় রায় কৃত ঠেকা
তবলা: I ধিন্ ধিন্ না । ধিন্ না I
মৃদঙ্গ: I ধা দেন্ তা । তেটে ঘেনে I
রবীন্দ্র সৃষ্ট ষষ্ঠী ছয় মাত্রার তাল। এর মাত্রা বিভাগ ২। ৪, লয় দ্রুত, কখনো মধ্য, কদাচিৎ বিলম্বিত। দক্ষিণ ভারতীয় তাল ‘পত্তি’র সঙ্গে মিল আছে। ষষ্ঠী নামটি রবীন্দ্র তিরোভাবের পর রাখা হয়, আগে এটি ‘দুই-চার’ তাল নামে পরিচিত ছিল। এই তালে লেখা গানের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া নাই বা গেলে’ (তবলা, মধ্য), ‘নিদ্রাহারা রাতের এ গান’ (খোল, দ্রুত), ‘নীলাঞ্জন ছায়া’ (তবলা, বিলম্বিত)। এর ঠেকাটি লিখিত আকারে প্রকাশ করেন শিল্পী সুবিনয় রায়।
শুরুতে বলেছিলাম, কিছু অপ্রচলিত তালকে তিনি ঈষৎ পরিবর্তন করে তাঁর গানে ব্যবহার করেন। যেমন সুর ফাকতা। ফাকতা ফারসি শব্দ। কবুতর ও ঘুঘুর মিশ্র প্রজননে এক বিশেষ প্রজাতির ছোট পায়রার জন্ম হয়, যাকে ফারসিতে বলে ফাকতা। ছোট পায়রা বা ফাকতার উড়ালের ছন্দ তবলার তালে বেঁধে এই সুর ফাকতা তালের সৃষ্টি হয়েছিল। এটি একটি ‘হিন্দুস্তানি তাল’। ধারণা করা যায় এটি ভারতে আসা মুসলমান সংগীতকারদের সৃষ্ট তাল।
এই তাল ধ্রুপদে ব্যবহার হতো। রবীন্দ্রনাথ এই তালের ছন্দ ঈষৎ পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু কীভাবে, যেন কালক্রমে এর নাম হয়ে গেছে ‘সুর ফাঁক তাল’ এবং ‘সুর ফাঁক তাল’। আদি সুর ফাকতায় ফাঁক ছিল। রবীন্দ্রনাথের সুর ফাকতায় ফাঁক বা খালি তুলে দেওয়া হয়েছে। তবু এর নাম ‘সুর ফাঁক তাল’ হয়ে গেল কীভাবে সেটা বলা কঠিন। হয়তো মুখে মুখে।
যা হোক, তবলার তালে পায়রার উড়ালের শব্দ এক অদ্ভুত সাংগীতিক দ্যোতনা সৃষ্টি করে। আমাদের আদি সংগীতকারেরা কতটা গভীরতার সঙ্গে সুর ও প্রকৃতির সাধনা করেছেন, সেটা ভাবলে অবাকই হতে হয়। রবীন্দ্রনাথের সংগীত সাধনা ও ভাবনার গভীরতাও যতই অনুসন্ধান করি ততই বিস্মিত হই।

আলসেমি শরীরে এদিক-ওদিক চেয়ে আটকে গেল চোখ পশ্চিমান্তে। রক্তিম সূর্যের বিদায় ধীর গতিতে। খুব লাল হয়েছে, সারা দিনের জ্বলন্ত প্রহরে পেয়েছে এক অপূর্ব রূপ।
২৩ নভেম্বর ২০২৫
হুমায়ূন আহমেদ তখন ক্যানসার আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। হঠাৎ চিকিৎসকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে চলে এলেন নুহাশপল্লীতে। নাটক বানাবেন। অভিনেতা ফারুক আহমেদকে ডাকলেন। নুহাশপল্লীতে নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে গল্প করছিলেন হুমায়ূন ও ফারুক। হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘কী আশ্চর্য, তাই না ফারুক!’
১৩ নভেম্বর ২০২৫
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ চলচ্চিত্র মঞ্চস্থ করেছে স্কলাস্টিকার শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার স্কলাস্টিকা উত্তরা সিনিয়র শাখার নাটক, সংগীত ও নৃত্যকলা ক্লাবের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক নাট্যানুষ্ঠানে এটি মঞ্চস্থ করা হয়।
০৮ নভেম্বর ২০২৫
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় উপস্থাপিত আরবি সাহিত্য নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা ইতিহাসের বহুল প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এত দিন মনে করা হতো, আব্বাসীয় আমলের (৭৫০-১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর আরবি সাহিত্য প্রায় ৮০০ বছর বছর স্থবির হয়ে ছিল।
২০ অক্টোবর ২০২৫