
হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এবার (২০২৫ সালে) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন তাঁর দীর্ঘ, দার্শনিক বাক্য ও মানবজীবনের বিশৃঙ্খলার গভীর অনুসন্ধানী সাহিত্যকর্মের জন্য। সুইডিশ একাডেমি তাঁকে সম্মান জানিয়েছে ‘শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার’ জন্য। লেখক সুসান সনটাগ অবশ্য তাঁকে একসময় ‘মহাপ্রলয়ের হাঙ্গেরিয়ান গুরু’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
সাহিত্যজগতে অনেকের কাছে ক্রাসনাহোরকাইয়ের নোবেল পাওয়ার এই ঘোষণাটি যেন কয়েক দশক ধরে চলা একটি বাক্যের সমাপ্তি।
১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির ছোট শহর জিউলা-তে জন্ম নেওয়া ক্রাসনাহোরকাই ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে গল্প লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস স্যাটানট্যাঙ্গো (১৯৮৫) একটি বৃষ্টিস্নাত, ধ্বংসপ্রায় গ্রামের কাহিনি—যেখানে প্রতারক, মাতাল ও হতাশ মানুষেরা মিথ্যা আশায় আঁকড়ে থাকে। পরিচালক বেলা-তার তাঁর এই উপন্যাসটিকে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার এক সাদাকালো চলচ্চিত্রে রূপ দেন। এই বইতেই ধরা পড়ে ক্রাসনাহোরকাইয়ের লেখার বৈশিষ্ট্যসমূহ, যেমন—অবিরাম দীর্ঘ বাক্য, দার্শনিক হাস্যরস ও পতনের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের প্রতিচ্ছবি।
তাঁর পরবর্তী উপন্যাসগুলো—দ্য মেলানকোলি অব রেজিস্ট্যান্স (১৯৮৯), ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার (১৯৯৯) ও সেইবো দেয়ার বিলো (২০০৮)—তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে মহাজাগতিক পরিসরে বিস্তৃত করেছে। ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’–এ তিনি এক নথি প্রহরীর গল্প বলেছেন, যিনি রহস্যময় এক পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করতে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান এবং আত্মহত্যা করেন—যেন ক্রম বিলীন পৃথিবীতে অর্থ ধরে রাখার এক মরিয়া চেষ্টা তাঁর।
ক্রাসনাহোরকাইয়ের লেখায় কাহিনি প্রায় সময়ই বাক্যের ভেতর হারিয়ে যায়। তিনি লিখেছেন এমন বাক্য, যা একাধিক পৃষ্ঠা জুড়ে পাঠককে টেনে নেয় অবচেতনে, অবিরাম প্রবাহে।
তাঁর সাহিত্যে হাস্যরস ও ট্র্যাজেডি পাশাপাশি চলে। স্যাটানট্যাঙ্গো–এর মাতাল নাচের দৃশ্য যেমন নিঃশেষের প্রতীক, তেমনি ‘ব্যারন ওয়েঙ্কহাইমস হোমকামিং’ (২০১৬)-এ দেখা যায়, ফিরে আসা এক পরাজিত অভিজাতকে। যার মাধ্যমে প্রকাশ পায় সভ্যতার পচন ও মানুষের হাস্যকর ভ্রান্তি।
২০১৫ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান ক্রাসনাহোরকাই। অনুবাদক জর্জ সির্টেস ও ওটিলি মুলজেট তাঁর জটিল হাঙ্গেরিয়ান ভাষাকে ইংরেজিতে রূপ দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ‘হাডসন রিভিউ’ তাঁকে বর্ণনা করেছিল ‘অন্তহীন বাক্যের ভ্রমণশিল্পী’ হিসেবে।
চল্লিশ বছরের সৃষ্টিতে ক্রাসনাহোরকাইয়ের ভুবন চিত্র, সংগীত, দর্শন ও ভাষার মিলনে বিস্তৃত। সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ (২০২৪)–এ তিনি এক প্রবাহিত বাক্যে লিখেছেন নব্য-নাৎসি, নেকড়ে আর এক হতভাগ্য পদার্থবিদের কাহিনি—আধুনিক ইউরোপের নৈতিক পক্ষাঘাতের রূপক হিসেবে।
তাঁর সমগ্র সাহিত্যজগৎ এক অন্ধকার ও ধ্যানমগ্ন মহাবিশ্ব—যেখানে পতন, শূন্যতা ও করুণা পাশাপাশি থাকে। ‘সেইবো দেয়ার বিলো’ বইটিতে তিনি লিখেছেন, ‘সৌন্দর্য, যত ক্ষণস্থায়ীই হোক না কেন, তা পবিত্রতার প্রতিবিম্ব।’ এই বিশ্বাসই লাসলো ক্রাসনাহোরকাইকে সেই বিরল লেখক করে তুলেছে, যাঁর নৈরাশ্যও মুক্তির মতো দীপ্ত।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মহাপ্রয়াণ দিবসে উপলক্ষে আজ রাজধানীর ধানমন্ডির বিডিওএসএন কার্যালয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্ত আসর এবং নজরুলচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ‘আমিই নজরুল’ আয়োজন করে ‘নজরুল স্মরণে’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা আবৃত্তি...
১ দিন আগে
চিত্রকলা, ড্রয়িং, কোলাজ, সেলাই, টেক্সটাইল, সংগৃহীত উপকরণ এবং পরীক্ষামূলক বইয়ের নানা রূপের মাধ্যমে শিল্পীরা স্মৃতি, পরিচয়, ঐতিহ্য, হারানো, আকাঙ্ক্ষা ও জীবন-অভিজ্ঞতার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন শিল্পীরা। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও স্মৃতিকে তাঁরা রূপ দিয়েছেন দৃশ্যমান ও বস্তুগত শিল্পভাষায়...
২ দিন আগে
জুলাইয়ের দিনগুলোতে রাজপথ যেমন প্রতিবাদের প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছিল, তেমনি শহরের দেয়ালগুলোও হয়ে উঠেছিল মানুষের ক্ষোভ, স্বপ্ন, শোক, প্রতিরোধ ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের এক উন্মুক্ত ক্যানভাস। যে দেয়াল এতদিন কেবল স্থাপত্যের অংশ ছিল, সেই দেয়ালই হঠাৎ কথা বলতে শুরু করে ওঠে।
৩ দিন আগে
বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আজ রাজধানীর ধানমন্ডির বিডিওএসএন কার্যালয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্ত আসর ও স্বপ্ন ৭১ প্রকাশন আয়োজন করে ‘শতবর্ষে সুকান্ত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা গান, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা ও আবু...
১৬ দিন আগে