Ajker Patrika

বিএনপির জয় ভূরাজনীতিতে কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিএনপির জয় ভূরাজনীতিতে
কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা
তারেক রহমান। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় পেয়েছে। এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই অঞ্চলের অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান ও চীনকে ঘিরে যে আঞ্চলিক শক্তির বলয় রয়েছে, সেই বলয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের যে কূটনৈতিক কৌশল ছিল, এর সঙ্গে নতুন সরকারের কূটনৈতিক কৌশলের বেশ ফারাক থাকবে।

বাংলাদেশের নতুন সরকার কেমন হতে পারে, এ নিয়ে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসাইন। তাঁর মতে, এবার নির্বাচনের ফলাফল ‘ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি নতুন মোড়’। তিনি বলেন, কোন দেশের সঙ্গে কী সম্পর্ক হবে, কেন হবে এবং সেটা বাস্তবায়নে কৌশল কী হবে, সেসব বিষয়ে নতুন সরকার হয়তো একটি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণ করবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে, সেটা অনেকটা নির্ভর করবে ভারত-পাকিস্তান ও চীন-ভারত বিরোধের ওপর। সম্পর্কের ধরন ও গভীরতা নির্ধারণে এটা বড় ভূমিকা পালন করবে।

ভোটে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের যাত্রায় ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশকে আলাদা করে গুরুত্ব দেয় ভারত ও চীন; বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব ধরে রাখতে এই পথে হাঁটে দেশ দুটি। তবে ২০২৪ সালে হাসিনা সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতেই মতবিরোধও দেখা দেয়। তবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে ভারত। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে এসেছেন। এটা খানিকটা সম্পর্ক ঠিক করারই কৌশল। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসাইন বলেন, বিএনপির সঙ্গে কাজ করার ঐতিহ্য রয়েছে ভারতের। জয়শঙ্করের সফরের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত বিএনপি সরকারের সঙ্গে আবারও কাজ করার আগ্রহই প্রকাশ করে গেছেন। এখন নির্বাচন হয়ে গেছে। বিএনপি জিতেছে। সেটা এখন বাস্তবে রূপ নেবে।

এ প্রসঙ্গে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকার ভারতের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্কে ফিরে যাওয়ার জন্য থাকবে। যদি সেটা না-ও হয়, সেই চেষ্টা থাকবে। তবে শেখ হাসিনার অধীনে যে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল, সেটা করা উচিত হবে না।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে, এটা নিয়ে খানিকটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে এটাকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চালু হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা দুই দেশ সফর করেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির নতুন সরকারের অধীনে এর গতি আরও বাড়বে।

পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক সালমান বশির এ নিয়ে আল জাজিরার সঙ্গে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলে যাওয়ার সূচনা। এর মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে দীর্ঘদিনের হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল, তার অবসান হবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুনরায় সূচনা হবে। এই কূটনীতিক মনে করেন, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ভারসাম্য রাখতে হবে, এর কোনো মানে নেই।

তবে এ বিষয়ে খানিকটা সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা বলছেন জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভৌগোলিক অবস্থান এটাই বলে দেয়, ভারত তার প্রধান প্রতিবেশী হিসেবেই থাকবে।

আল জাজিরা বলছে, সম্ভবত বাংলাদেশ সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হবে চীনের সঙ্গে। চীন শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তা অব্যাহত ছিল। চীন ইতিমধ্যে বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

অধ্যাপক দেলওয়ার হোসাইন বলেন, বিএনপি সরকারে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের খানিকটা বিরোধের মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত