রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে গেলে নিরাপত্তা, ভোটার নিবন্ধন ও আইনগত কাঠামোসহ বড় ধরনের বাধা অতিক্রম করতে হবে।
ইউক্রেনে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করার পর দেশটিতে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এই আইনের অধীনে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউক্রেনের পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে যুদ্ধ চলছে। রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়মিতভাবে সামনের সারি থেকে দূরের শহরগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, নির্বাচন বিবেচনার আগে অন্তত একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। এরপর নির্বাচন আয়োজনের সময়, নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারণে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা করতে প্রায় ছয় মাস লাগতে পারে।
ভোটারদের কাছে পৌঁছানোও বড় সমস্যা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৪৪ লাখের বেশি ইউক্রেনীয় অস্থায়ী সুরক্ষার অধীনে রয়েছেন। তাদের ভোটের সুযোগ দিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শত শত ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। দেশের ভেতরেও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। তাদের ভোটার নিবন্ধন হালনাগাদ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করাও জটিল।
রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকাগুলো আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২৪ সালেও প্রায় ৪৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এসব অঞ্চলে ছিলেন। ইউক্রেনের প্রায় ১৯ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মস্কো এসব এলাকায় নিজস্ব নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যা কিয়েভ অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচন হলে জেলেনস্কির অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুদ্ধের শুরুতে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রায় ৯০ শতাংশে উঠলেও বর্তমানে তা বিভিন্ন জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ। তবে তিনি এখনো ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিকদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। সাবেক সেনাপ্রধান ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি এবং সাবেক সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান কিরিলো বুদানভও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী।
এদিকে ৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ ও সংস্কারপন্থী ফেদোরভও দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। ইউক্রেনের এনভি মিডিয়ার উদ্ধৃত SOCIS জরিপে জেলেনস্কি ২২, জালুঝনি ২১ এবং ফেদোরভ ১৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় জালুঝনি বা ফেদোরভ—উভয়ই জেলেনস্কিকে হারাতে পারেন বলে কয়েকটি জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে জনসমর্থন এখনো সীমিত। ফলে যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা ও সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।

জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা এখন আর বাড়ছে না, বরং স্থায়ীভাবে কমতে শুরু করেছে। জনসংখ্যাবিদদের কাছে এটি মানব ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারির মতো সাময়িক কারণে অতীতে জনসংখ্যা কমেছে।
১ দিন আগে
গত জুনের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর পরপরই তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই চুক্তির পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে শুরু করেন। তাঁদের আশা ছিল, এই সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যাবে এবং যুদ্ধ ধীরে ধীরে অবসানের দিকে নেওয়া সম্ভব
১ দিন আগে
চীনে সরকারি চাকরি মানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ এক ক্যারিয়ার। তবে অনেকের কাছে শক্তিশালী এই অবস্থান ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিনিময়ে পাওয়া একধরনের সামাজিক চুক্তিও। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, বিদেশভ্রমণ, বিয়ে...
২ দিন আগে
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত এক মাসে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার তিনটি ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে জুনে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, যাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
২ দিন আগে