আজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এ সপ্তাহের শুরুতে পরিচালিত মধ্যরাতে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই অঙ্গীকারের সবচেয়ে নাটকীয় প্রকাশ—যেখানে তিনি আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আধিপত্যকে আবার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চান। হোয়াইট হাউস বর্তমানে পশ্চিম গোলার্ধের (Western Hemesphere) বিষয়ে যে নীতি গ্রহণ করছে, তা সাম্প্রতিক দশকগুলোর উদাসীন (laissez-faire) দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে বরং উনিশ শতকের সাম্রাজ্য বিস্তারের যুগের সঙ্গে অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্গঠনের সূত্রপাত হতে পারে। তাঁরা কিউবা ও কলম্বিয়ার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, তারাও পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ট্রাম্প ও তাঁর কিছু সমর্থক মেক্সিকোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পুরোনো আলোচনা আবারও সামনে আনছেন তাঁরা।
মাদুরোকে আটক করার ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প গর্ব করে উল্লেখ করেন ‘ডনরো ডকট্রিনের’, যা মূলত ১৮২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ঘোষিত ‘মনরো ডকট্রিনের’ ট্রাম্পীয় রূপান্তর। ওই নীতিতে ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে পশ্চিম গোলার্ধে হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে ‘ট্রাম্প করোলারি’র কথা বলা হয়েছে, যেখানে বলা হয়—এই নীতির লক্ষ্য হলো ‘নিজ ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার রক্ষা করা।’
এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকিও। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী বা সাধারণ মানুষ যদি ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন রাষ্ট্রগঠনমূলক আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলার অঙ্গীকার ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। একই সঙ্গে এতে রাশিয়া ও চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি দুর্বল হয়ে পড়বে, যেখানে ওয়াশিংটন বলে আসছে যে—তাদের প্রতিবেশীদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আরও বিস্তৃতভাবে বললে, এটি বৈশ্বিক রাজনীতির কাঠামোও বদলে দিতে পারে। কারণ, বহু ছোট দেশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করত, তারা এখন অন্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পথ খুঁজতে পারে।
তবে ট্রাম্পের কৌশলের সমর্থকেরা এসব সমালোচনা খাটো করে দেখছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া বহুদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। গতকাল রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এই নীতির লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলায় এমন পরিবর্তন আনা, যা প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী। কারণ, আমরা সেই দেশটির নাগরিকদের জন্য কাজ করি এবং একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যও উপকারী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।’ এর এক দিন আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মাদুরোর কার্যত উত্তরসূরি দেলসি রদ্রিগেজ তাঁর নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভেনেজুয়েলায় হামলা চালাতে প্রস্তুত।
কিউবান অভিবাসীর সন্তান রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার শাসকদের উৎখাতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই দেশের সরকার অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল উপেক্ষা করেছে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার পতন হলে কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য কারাকাসের ওপর নির্ভরশীল।
আমেরিকান মোমেন্ট নামের একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী নিক সোলহেইম বলেন, ‘পশ্চিম গোলার্ধের ওপর এই জোর কারও জন্যই অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের অন্য যে কোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এই সংগঠন ট্রাম্পের নীতির পক্ষে কাজ করে এবং তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়। তবে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।’
সোলহেইম বলেন, ‘এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে, আমাদের প্রতিবেশীরা যেন এমন কিছু না করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের বর্তমান সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ—চীনের দিকেও মনোযোগ দেওয়া। এটি বৈদেশিক নীতির জগৎ থেকে সরে আসা নয়; বরং বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার নির্ধারণ—কোন বিষয়গুলো সত্যিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানের পর মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী—উভয় দিক থেকেই সমালোচনা উঠেছে। আমেরিকা ফার্স্ট মতবাদের কিছু প্রভাবশালী সমর্থক বলেছেন, সামরিক সংঘাত কিংবা মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বিদেশি সুযোগ তৈরির জন্য ভোটাররা ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি। রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেসে মার্জোরি টেলর গ্রিন বলেন, ‘এটা সেই একই ওয়াশিংটনীয় ছক, যেটিতে আমরা বিরক্ত। এটি আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে না, বরং বড় করপোরেশন, ব্যাংক ও জ্বালানি কোম্পানির নির্বাহীদের স্বার্থ রক্ষা করে।’ গ্রিন দীর্ঘদিন ট্রাম্পের মিত্র ছিলেন, তবে এখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের পর কংগ্রেস ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে আমাদের প্রতিবেশী মনে করি না। আমাদের প্রতিবেশী হলো এই ৫০টি অঙ্গরাজ্য—দক্ষিণ গোলার্ধ নয়।’
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সরকার বসানোর ইতিহাস বহু পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও হয়েছে। তবে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৯১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এমন পদক্ষেপ নেয়নি। ভেনেজুয়েলা—যার জনসংখ্যা তিন কোটি এবং আয়তন ইরাকের দ্বিগুণ—এ ধরনের অভিযানের জন্য বিশেষভাবে বড় একটি দেশ।
ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ নামক থিংক ট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো জেনিফার কাভানাহ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, আমরা কীভাবে এখানে এসে পৌঁছেছি। কিন্তু পরিকল্পনার জটিলতা বা তারা যে পথ বেছে নিয়েছে, তা নিয়ে কোনো গভীর চিন্তা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর প্রয়োজনীয় পর্যায়ের বিস্তারিত পরিকল্পনাও এখানে অনুপস্থিত।’ এই থিংক ট্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষে।
কাভানাহ বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে চীন ও রাশিয়া আরও সাহসী হয়ে উঠবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। কারণ, তারা ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রতিবেশীদের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রাসী আচরণ করছে। তবে তাঁর মতে, ট্রাম্প এমন সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাতে যেতে অনিচ্ছুক, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘এই ধরনের নাটকীয় অভিযান তাঁর (ট্রাম্পের) পরিচিত কৌশলের সঙ্গেই মেলে। তিনি এমন প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে পছন্দ করেন, যারা পাল্টা আঘাত হানতে পারে না—হোক তা ছোট মাদক পাচারের নৌকা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা ইরান, বা দুর্বল ভেনেজুয়েলা। এ কারণেই রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে তাঁর তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখা যায়। কিন্তু এ ধরনের এই দৃষ্টিভঙ্গি রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।’
ট্রাম্পের সাবেক কিছু উপদেষ্টা সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলছেন, তা ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের তুলনায় আরও বিপজ্জনক হতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল একচ্ছত্র বৈশ্বিক শক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য প্রসারের নেতৃত্ব দেওয়া দেশ। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ ফিওনা হিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাঁর প্রধান রাশিয়া-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা যেন আবার ১৮ ও ১৯ শতকে ফিরে যাওয়া। যদি আপনি ধরে নেন যে, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা অনিবার্য এবং রাশিয়া ও চীন নিজেদের অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করবেই, তাহলে এর যৌক্তিক পরিণতি এটাই।’
হিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মৈত্রী থাকা সত্ত্বেও যেসব দেশ ট্রাম্পের পদক্ষেপে হুমকির মুখে পড়ছে, তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করবে, শক্তিশালী নয়।
এই অভিযানের ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিবেশীর বিরুদ্ধেও তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে পানামা খাল দখলের দাবি, কানাডাকে ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব, গ্রিনল্যান্ড দখল এবং কিউবার সরকার উৎখাতের হুমকি। রোববার ট্রাম্প বলেন, তিনি হাভানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন না, তবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা এমনিতেই পড়ে যাবে। কোনো পদক্ষেপের দরকার হবে না। আপনি কি কখনো লড়াই দেখেছেন? তারা একসময় মাটিতে পড়ে যায়। কিউবাও তেমনই পড়ে যাচ্ছে।’
গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল আরও কড়া। এই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটা ভীষণ কৌশলগত। এখন গ্রিনল্যান্ডজুড়ে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ ঘোরাফেরা করছে... ডেনমার্ক এটা সামলাতে পারবে না।’ এর আগে, গত শনিবার হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী সাবেক সহকারী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বসানো গ্রিনল্যান্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে খুব সরাসরি বলতে চাই—গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলা সম্পূর্ণ অর্থহীন।’ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিত্র এবং গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক প্রবেশাধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি—একটি ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং এমন একটি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, যারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।’
ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এ সপ্তাহের শুরুতে পরিচালিত মধ্যরাতে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই অঙ্গীকারের সবচেয়ে নাটকীয় প্রকাশ—যেখানে তিনি আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আধিপত্যকে আবার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চান। হোয়াইট হাউস বর্তমানে পশ্চিম গোলার্ধের (Western Hemesphere) বিষয়ে যে নীতি গ্রহণ করছে, তা সাম্প্রতিক দশকগুলোর উদাসীন (laissez-faire) দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে বরং উনিশ শতকের সাম্রাজ্য বিস্তারের যুগের সঙ্গে অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্গঠনের সূত্রপাত হতে পারে। তাঁরা কিউবা ও কলম্বিয়ার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, তারাও পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ট্রাম্প ও তাঁর কিছু সমর্থক মেক্সিকোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পুরোনো আলোচনা আবারও সামনে আনছেন তাঁরা।
মাদুরোকে আটক করার ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প গর্ব করে উল্লেখ করেন ‘ডনরো ডকট্রিনের’, যা মূলত ১৮২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ঘোষিত ‘মনরো ডকট্রিনের’ ট্রাম্পীয় রূপান্তর। ওই নীতিতে ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে পশ্চিম গোলার্ধে হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে ‘ট্রাম্প করোলারি’র কথা বলা হয়েছে, যেখানে বলা হয়—এই নীতির লক্ষ্য হলো ‘নিজ ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার রক্ষা করা।’
এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকিও। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী বা সাধারণ মানুষ যদি ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন রাষ্ট্রগঠনমূলক আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলার অঙ্গীকার ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। একই সঙ্গে এতে রাশিয়া ও চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি দুর্বল হয়ে পড়বে, যেখানে ওয়াশিংটন বলে আসছে যে—তাদের প্রতিবেশীদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আরও বিস্তৃতভাবে বললে, এটি বৈশ্বিক রাজনীতির কাঠামোও বদলে দিতে পারে। কারণ, বহু ছোট দেশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করত, তারা এখন অন্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পথ খুঁজতে পারে।
তবে ট্রাম্পের কৌশলের সমর্থকেরা এসব সমালোচনা খাটো করে দেখছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া বহুদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। গতকাল রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এই নীতির লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলায় এমন পরিবর্তন আনা, যা প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী। কারণ, আমরা সেই দেশটির নাগরিকদের জন্য কাজ করি এবং একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যও উপকারী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।’ এর এক দিন আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মাদুরোর কার্যত উত্তরসূরি দেলসি রদ্রিগেজ তাঁর নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভেনেজুয়েলায় হামলা চালাতে প্রস্তুত।
কিউবান অভিবাসীর সন্তান রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার শাসকদের উৎখাতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই দেশের সরকার অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল উপেক্ষা করেছে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার পতন হলে কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য কারাকাসের ওপর নির্ভরশীল।
আমেরিকান মোমেন্ট নামের একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী নিক সোলহেইম বলেন, ‘পশ্চিম গোলার্ধের ওপর এই জোর কারও জন্যই অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের অন্য যে কোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এই সংগঠন ট্রাম্পের নীতির পক্ষে কাজ করে এবং তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়। তবে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।’
সোলহেইম বলেন, ‘এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে, আমাদের প্রতিবেশীরা যেন এমন কিছু না করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের বর্তমান সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ—চীনের দিকেও মনোযোগ দেওয়া। এটি বৈদেশিক নীতির জগৎ থেকে সরে আসা নয়; বরং বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার নির্ধারণ—কোন বিষয়গুলো সত্যিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানের পর মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী—উভয় দিক থেকেই সমালোচনা উঠেছে। আমেরিকা ফার্স্ট মতবাদের কিছু প্রভাবশালী সমর্থক বলেছেন, সামরিক সংঘাত কিংবা মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বিদেশি সুযোগ তৈরির জন্য ভোটাররা ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি। রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেসে মার্জোরি টেলর গ্রিন বলেন, ‘এটা সেই একই ওয়াশিংটনীয় ছক, যেটিতে আমরা বিরক্ত। এটি আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে না, বরং বড় করপোরেশন, ব্যাংক ও জ্বালানি কোম্পানির নির্বাহীদের স্বার্থ রক্ষা করে।’ গ্রিন দীর্ঘদিন ট্রাম্পের মিত্র ছিলেন, তবে এখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের পর কংগ্রেস ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে আমাদের প্রতিবেশী মনে করি না। আমাদের প্রতিবেশী হলো এই ৫০টি অঙ্গরাজ্য—দক্ষিণ গোলার্ধ নয়।’
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সরকার বসানোর ইতিহাস বহু পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও হয়েছে। তবে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৯১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এমন পদক্ষেপ নেয়নি। ভেনেজুয়েলা—যার জনসংখ্যা তিন কোটি এবং আয়তন ইরাকের দ্বিগুণ—এ ধরনের অভিযানের জন্য বিশেষভাবে বড় একটি দেশ।
ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ নামক থিংক ট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো জেনিফার কাভানাহ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, আমরা কীভাবে এখানে এসে পৌঁছেছি। কিন্তু পরিকল্পনার জটিলতা বা তারা যে পথ বেছে নিয়েছে, তা নিয়ে কোনো গভীর চিন্তা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। আর প্রয়োজনীয় পর্যায়ের বিস্তারিত পরিকল্পনাও এখানে অনুপস্থিত।’ এই থিংক ট্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষে।
কাভানাহ বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে চীন ও রাশিয়া আরও সাহসী হয়ে উঠবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। কারণ, তারা ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রতিবেশীদের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রাসী আচরণ করছে। তবে তাঁর মতে, ট্রাম্প এমন সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাতে যেতে অনিচ্ছুক, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘এই ধরনের নাটকীয় অভিযান তাঁর (ট্রাম্পের) পরিচিত কৌশলের সঙ্গেই মেলে। তিনি এমন প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে পছন্দ করেন, যারা পাল্টা আঘাত হানতে পারে না—হোক তা ছোট মাদক পাচারের নৌকা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা ইরান, বা দুর্বল ভেনেজুয়েলা। এ কারণেই রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে তাঁর তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখা যায়। কিন্তু এ ধরনের এই দৃষ্টিভঙ্গি রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।’
ট্রাম্পের সাবেক কিছু উপদেষ্টা সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলছেন, তা ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের তুলনায় আরও বিপজ্জনক হতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল একচ্ছত্র বৈশ্বিক শক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য প্রসারের নেতৃত্ব দেওয়া দেশ। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ ফিওনা হিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাঁর প্রধান রাশিয়া-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা যেন আবার ১৮ ও ১৯ শতকে ফিরে যাওয়া। যদি আপনি ধরে নেন যে, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা অনিবার্য এবং রাশিয়া ও চীন নিজেদের অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করবেই, তাহলে এর যৌক্তিক পরিণতি এটাই।’
হিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মৈত্রী থাকা সত্ত্বেও যেসব দেশ ট্রাম্পের পদক্ষেপে হুমকির মুখে পড়ছে, তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করবে, শক্তিশালী নয়।
এই অভিযানের ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিবেশীর বিরুদ্ধেও তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে পানামা খাল দখলের দাবি, কানাডাকে ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব, গ্রিনল্যান্ড দখল এবং কিউবার সরকার উৎখাতের হুমকি। রোববার ট্রাম্প বলেন, তিনি হাভানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন না, তবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা এমনিতেই পড়ে যাবে। কোনো পদক্ষেপের দরকার হবে না। আপনি কি কখনো লড়াই দেখেছেন? তারা একসময় মাটিতে পড়ে যায়। কিউবাও তেমনই পড়ে যাচ্ছে।’
গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল আরও কড়া। এই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটা ভীষণ কৌশলগত। এখন গ্রিনল্যান্ডজুড়ে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ ঘোরাফেরা করছে... ডেনমার্ক এটা সামলাতে পারবে না।’ এর আগে, গত শনিবার হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী সাবেক সহকারী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বসানো গ্রিনল্যান্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে খুব সরাসরি বলতে চাই—গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলা সম্পূর্ণ অর্থহীন।’ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিত্র এবং গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক প্রবেশাধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি—একটি ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং এমন একটি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, যারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।’
ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলাটি গত ছয় বছর ধরেই কার্যত স্থবির ছিল। সম্প্রতি তাঁকে আটক করে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে হাজির করা হলেও, এই মামলা বিচারে যেতে আরও বহু বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন
১২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলটা ফোর্স কমান্ডোদের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে শয়নকক্ষ থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নীরবতা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
দশকের পর দশক ধরে ভারত—কখনো প্রকাশ্যে, কখনো নীরবে—খালেদা জিয়ার ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের’ বিরোধিতা করে এসেছে। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া তাঁর সমর্থকদের বড় অংশের কাছে ছিলেন আশির দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক, যার পথ ধরে তিনি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে দ্বন্দ্ব বহুদিন ধরেই নীরবে জ্বলে উঠছিল। তবে ইসরায়েল ও ইউএইর মধ্যকার উদীয়মান জোট এবং বৃহত্তর ঐতিহ্যগত শক্তিগুলোকে দুর্বল করার তাদের অভিন্ন নীতি রিয়াদকে স্বভাববিরুদ্ধভাবে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে