
২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিন দিনের ভারত সফরের শেষ দিনে এক কাব্যিক ইশারা করেছিলেন তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। তিনি বলেছিলেন, ‘ড্রাগন আর হাতির একসঙ্গে নাচা উচিত।’ তিনি মূলত ‘ট্যাঙ্গো’ শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন। সাধারণত, সমান অংশীদারত্ব বোঝাতে এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়।
এখানে ড্রাগন মানে চীন, হাতি মানে ভারত। এই উপমা এর আগে পশ্চিমা একাডেমিক ও গণমাধ্যমে তুলনামূলক কাঠামো হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু ওয়েনের মন্তব্যের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কূটনৈতিক শব্দভান্ডারে ঢুকে পড়ে।
গত ১৫ বছরে দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা আর অস্বস্তিকর পুনঃসম্পর্ক স্থাপনের নানা চক্র পেরিয়েও, চীনের এই আকাঙ্ক্ষিত প্রাণী-উপমা শান্তিকালীন এক ধ্রুবক হয়ে আছে। নেতারা এটি বলেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তা ছড়িয়ে দেয়, আর একই প্যাটার্ন নিয়ম মেনে পুনরাবৃত্তি হয়। কিন্তু ভারত এই রূপক আহ্বানে সাড়া দেয়নি—নাচের মঞ্চে হোক বা তার বাইরে।
কিছু ভারতীয় বিশেষজ্ঞের মতে, বেইজিংয়ের এই কাব্যিক আহ্বান গ্রহণে নয়াদিল্লির অনীহা আসলে চীনকে দেখার তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতীকের চেয়ে বেশি নির্ভর করে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অভিজ্ঞতা আর সঞ্চিত অবিশ্বাসের ওপর। অন্যদিকে চীনা বিশ্লেষকদের যুক্তি, এই শব্দবন্ধ দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যের প্রতি বেইজিংয়ের সম্মানও নির্দেশ করে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় আবারও এই উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, দুই দেশকে ‘ড্রাগন ও হাতির ট্যাঙ্গোর’ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত বছরের আগস্টে তিয়ানজিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকেও সি এই ধারণার কথা তোলেন। আগের মতোই, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ট্যাঙ্গো’ প্রসঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। গত বছরের ৭ মার্চ, চীনের বার্ষিক আইনসভা অধিবেশন ‘টু সেশনসের’ ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আবারও এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। ওয়াং বলেন, ‘ড্রাগন আর হাতির সহযোগিতামূলক প দ্য দ্যু–ই (বা ব্যালে নৃত্যের যুগল পদক্ষেপ) দুই পক্ষের জন্য একমাত্র সঠিক পথ।’
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির ঘনিষ্ঠ সহচর এবং চীন-ভারত সম্পর্ক জোরদারের প্রবক্তা সুধেন্দ্র কুলকার্নি বলেন, চীনের এই আহ্বান দেখায় যে তাদের শীর্ষ নেতারা ‘সত্যিকার অর্থেই ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চান।’ তিনি বলেন, ‘তারা শুধু অকারণ সুমধুর আহ্বান জানাচ্ছে না।’
চীনে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত থাকা অশোক কণ্ঠ মনে করেন, চীনা সরকার যখন এই উপমাকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ব্যবহার শুরু করে, তখন তিনি বেশ আমোদিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম যখন ড্রাগন-হাতির ট্যাঙ্গো শুনি, তখনই মনে হয়েছিল, ড্রাগন আর হাতি খুব অদ্ভুত নৃত্যসঙ্গী হবে—একজন কোরিওগ্রাফারের দুঃস্বপ্ন।’
ভারত সরকার এই আহ্বান উপেক্ষা করবে—এটা তাঁকে অবাক করেনি। তিনি দিল্লির অবস্থানকে ‘ইচ্ছাকৃত এবং বোধগম্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক ভাষা কখনোই নিরপেক্ষ নয়। আপনি যখন অন্যের কাঠামো গ্রহণ করেন, তখন আংশিকভাবে তাদের বিশ্বদৃষ্টিকেও বৈধতা দেন।’
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরূপমা রাও বলেন, ভারত সাধারণত ‘অন্য পক্ষ তৈরি করা রূপক গ্রহণ এড়িয়ে চলে, বিশেষ করে যখন তা সম্পর্ককে পরোক্ষভাবে সংজ্ঞায়িত করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাষা মাটিতে পা রেখে চলে। আমরা বলি পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং মতপার্থক্য ব্যবস্থাপনার কথা। এর মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আছে। আমরা প্রতীকের চেয়ে বাস্তবতাকেই প্রাধান্য দিই।’
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আদিল ব্রার বলেন, অনেক ভারতীয় ‘স্বাভাবিকভাবেই এই উপমার বিরোধিতা করেন।’ কারণ, তারা এই সম্পর্ককে প্রতীকের বদলে ক্ষমতা, সমতা এবং সীমান্তে চাপ প্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন। তিনি যোগ করেন, ‘বেইজিংয়ে যে উপমা আশ্বস্ত শোনাতে পারে, ভারতে তা পুরোনো, বাস্তবতা-বিবর্জিত বা এমনকি কৌশলী মনে হতে পারে, কারণ বছরের পর বছর সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের পর এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
ব্রার প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এই সমস্যা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস। এই ইস্যুই ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় এবং পরবর্তী ছয় দশকে বারবার সংঘর্ষের জন্ম দেয়। এর মধ্যে ২০২০ সালের জুনে এক সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন।
এই ঘটনার পর দুই পক্ষই ভারী অস্ত্রসহ হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে এবং চার বছরের বেশি সময় অচলাবস্থায় থাকে। ভারত চীনা বহু অ্যাপ নিষিদ্ধ করে এবং চীনা কোম্পানির ওপর কঠোর বিনিয়োগ যাচাই ব্যবস্থা চালু করে। ২০২৪ সালে একাধিক সীমান্ত সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমতে শুরু করে। এর ফলে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ, নিয়মিত ফ্লাইট এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়।
এ মাসে দুই দেশ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) আওতায় প্রথম দ্বিপক্ষীয় সংলাপও করে। এই ইউরেশীয় নিরাপত্তা জোটে রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ রয়েছে। সীমান্ত সমস্যার বাইরে, ভারতের সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনে বেইজিংয়ের ওপর দিল্লির নির্ভরশীলতাও বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।
নিরূপমা রাও বলেন, গুরুতর উত্তেজনার সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চীনের ‘ড্রাগন-হাতি ট্যাঙ্গো’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে যাওয়া এক ধরনের অনমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘এটি এক ধরনের প্রিয় ও নির্দেশক সুর, যা সম্পর্কের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি।’
সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির গাও জিয়ান স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত অবিশ্বাস’ এখনো রয়ে গেছে। তবে তাঁর যুক্তি, বেইজিং মনে করে উভয় পক্ষেরই ‘বড় বাস্তবতা’ মাথায় রেখে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, চীনের ‘ড্রাগন-হাতি’ উপমার ব্যবহারকে ‘পূর্বের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে’ দেখার প্রয়োজন আছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত ও চীনের উভয় সংস্কৃতিতেই হাতি জ্ঞান, শক্তি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির প্রতীক। তাঁর ভাষায়, এই উপমার ব্যবহার ভারতের সভ্যতার গভীর ঐতিহ্য ও বিশালতাকে সম্মান জানিয়ে করা হয়েছে। কুলকার্নিও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর মতে, ড্রাগনের বিপরীতে হাতিকে ব্যবহার করা যথার্থ, কারণ ‘দুই প্রাণীই নিজ নিজ সংস্কৃতিতে শুভ কিছুর প্রতীক।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা ভারতীয়রা হাতির দেবতা গণেশকে শ্রদ্ধা করি, যিনি সব বাধা দূর করেন।’
তবে দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমালয় স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক জাবিন জ্যাকব এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘এই উপমার উদ্দেশ্য হচ্ছে চীনের মহিমা বা শক্তির অনুভূতি তুলে ধরা, যেখানে হাতিকে খুব কমই সমপর্যায়ের শক্তির অধিকারী হিসেবে দেখা হয়। বরং ড্রাগনের তুলনায় এটিকে বড় হলেও ধীর গতির এবং কিছুটা অগোছালো বলে মনে করা হয়।’
জ্যাকব আরও উল্লেখ করেন, চীন এই উপমার জন্য ভারতের জাতীয় পশু বেঙ্গল টাইগারকে নয়, হাতিকে বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি এর মধ্যে কোনো অর্থ না থাকত, তাহলে চীন হাতির বদলে টাইগার ব্যবহার করত। কিন্তু তারা তা করবে না, কারণ এই প্রতীকগুলো অর্থ বহন করে। আর চীনের উদ্দেশ্য ভারতের শক্তিশালী ভাবমূর্তি তুলে ধরা নয়, বরং তুলনায় দুর্বল দেখানো।’
তবে নিরূপমা রাওয়ের মতে, বিতর্কের মূল বিষয় প্রাণীগুলো নয়, বরং চীন ভারতের সম্মতি ছাড়াই তার জন্য একটি প্রতীক নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘চীন নিজের প্রতীক হিসেবে ড্রাগন বেছে নিয়েছে এবং কার্যত ভারতের প্রতীকটিও নির্ধারণ করে দিয়েছে। অস্বস্তির জায়গাটা এখানেই। বিষয়টি প্রাণী নয়, বরং কে সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণ করছে এবং কীভাবে করছে।’
ভারতই একমাত্র বড় শক্তি, যার জন্য চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রাণী-উপমা ব্যবহার করে। চীন-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে কখনো কখনো চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ড্রাগন-ভালুক উপমা শোনা গেলেও, তা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন-ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই উপমার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ‘ড্রাগন-হাতি’ ধারণাটি চীনা প্রেসিডেন্টের তৈরি এবং মজার ছলে যোগ করেন, পরে মিডিয়া এতে রাশিয়ার ভালুককেও যুক্ত করেছে।
সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির গাও জিয়ানের মতে, ভারতকে আলাদা করে এই উপমায় তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, চীন পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টাতে চায়, যেখানে এই দুই এশীয় শক্তির উত্থানকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখানো হয়। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাইরের পর্যবেক্ষকেরা, বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম, চীন ও ভারতের একসঙ্গে উত্থানকে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে দেখে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ড্রাগন ও হাতির ট্যাঙ্গো’ ধারণার মাধ্যমে চীন বোঝাতে চায় যে, এই দুই দেশ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার।
এই উপমা ১৯৫০-এর দশকের জনপ্রিয় স্লোগান ‘হিন্দি-চিনি ভাই ভাই’—এর প্রতিধ্বনি, যখন ভারত ও চীন ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতি’ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করে। কিন্তু সেই ঐক্য স্থায়ী হয়নি, যার পরিণতি ১৯৬২ সালের সংঘাতে গড়ায়।
অশোক কণ্ঠর মতে, এই ইতিহাসই ব্যাখ্যা করে কেন ভারতে এখনো ‘আকর্ষণীয় কিন্তু ভুল এই উপমা’ গ্রহণে গভীর অনীহা রয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, ‘চীন ভারতকে সমমর্যাদার দেশ হিসেবে দেখে না এবং আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক ইস্যুতে তার সঙ্গে নাচতেও আগ্রহী নয়।’
জ্যাকবও মনে করেন, চীনের এই উপস্থাপন উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের উপমা অবিশ্বাসকে আরও জোরদার করে। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে ‘স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, সেটিকে যদি স্থিতিশীলতা বলা যায়, সেটিও কৌশলগত।’
তবে কুলকার্নি চান, ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা ‘অর্থহীন সমালোচনা ও খুঁত খোঁজা’ থেকে বেরিয়ে এসে চীন-ভারত ঐক্যকে গুরুত্ব দিক, বিশেষ করে এই অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের মূল বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তখন প্রতীকের বিতর্ক অর্থহীন হয়ে যাবে।’
ব্রারও একমত যে, ভারতের ‘সবচেয়ে ভালো প্রতিক্রিয়া হবে শব্দ নিয়ে ক্ষোভ নয়, বরং ধারণাগত স্বচ্ছতা’ রাখার মাধ্যমে। তবে তিনি মনে করেন, দিল্লির উচিত ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে এই প্রতীকী কাঠামো প্রত্যাখ্যান করা।’ অশোক কণ্ঠর মতে, ভারতের ‘নীরবভাবে বেইজিংয়ের ভাষা গ্রহণ না করাই একটি বার্তা।’ তাঁর কথায়, ‘ড্রাগন নাচের প্রস্তাব দিতে পারে, কিন্তু ভারতকে সেই নাচে নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ইরান যুদ্ধের বাস্তব চিত্রে স্পষ্ট কোনো বিজয়ী নেই; বরং ইরানের জনগণ, লেবানন, উপসাগরীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে, আর চীন, জ্বালানি কোম্পানি ও আংশিকভাবে রাশিয়া কিছু কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের দাবার বোর্ডে নতুন চাল দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফার শান্তি প্রস্তাবের জবাবে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব পেশ করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া...
৯ ঘণ্টা আগে
সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের এই ফাটল নতুন কিছু নয়, তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সৌদি আরবের বিমানবাহিনী ইয়েমেনের মুক্তা বন্দরে আমিরাত-সমর্থিত একটি সামরিক যান (অস্ত্রবাহী) লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক-কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই একটি অত্যন্ত সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধকে পাশ কাটিয়ে ইরানে পণ্য পরিবহনের জন্য ছয়টি স্থলপথ বা ‘ল্যান্ড ব্রিজ’ উন্মুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ।
১ দিন আগে