সৌন্দর্য শিল্প ছাড়াও যে সম্ভব, সেটা তো খুব স্পষ্ট। সারা পৃথিবীতে সৌন্দর্য ছড়ানো। সৌন্দর্য একটা গাছের পাতার গঠন থেকে সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের যে মেঘের রং—সর্বত্র দেখতে পাই। কিন্তু শিল্প যখন বলি, তখন তা মানুষের সৃষ্টি। সে অর্থে সুন্দর, বৈচিত্র্যে, ব্যাপ্তিতে শিল্পের চেয়ে অনেক বড়। শিল্প যে মুখ্যত সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য এসেছে, এটা আমার মনে হয় না। শিল্পের মূল কাজ হলো, মানুষের ভেতরে যা এখনো ব্যক্ত হয়নি, যা অব্যক্ত রয়ে গেছে, তাকে আকার দেওয়া। সেই আকার যদি মনে হয় যে একটা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, তাহলে সেটা শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে।
মানুষের শিল্পকর্ম মুখ্যত মানুষের পরিচয়। আর সৌন্দর্য হলো যা এই অস্তিত্বের মধ্যেই মানুষকে আনন্দ দেয়। শিল্পও এর মধ্যে একটা, যা আনন্দ দেয়; কিন্তু শিল্প আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত হয় না। শিল্প রচনা হয় মুখ্যত প্রকাশের জন্য। এই প্রকাশ করতে গিয়ে আমি যা সৃষ্টি করি, তা আর একজনকে আনন্দ না-ও দিতে পারে। সে মনে করতে পারে, এটা খুব বেদনাদায়ক। আমরা জানি যে বোদলেয়ার থেকে যে কাব্য গড়ে উঠেছে, তার ভেতরে একজন কবির মনের যন্ত্রণাই প্রকাশ পেয়েছে। এই যন্ত্রণায় কোনো সৌন্দর্য নেই। যেটুকু সৌন্দর্য আছে, তা হলো, এই যন্ত্রণার প্রকাশ কতখানি পূর্ণতা লাভ করছে, তাতে। অর্থাৎ আমরা যখন বোদলেয়ারের কবিতা পড়ি, তখন একজন মানুষের যন্ত্রণার হাহাকার, যে হাহাকারের মধ্যে থেকেও সে নিজেকে ধ্বংস করেনি, সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তারই প্রকাশ দেখতে পাই। এই প্রকাশকে মূল্য দিই। মানুষ বলেই মূল্য দিই। অন্য কোনো প্রাণী একে মূল্য দিতে পারে না। সুতরাং, আমার মনে হয় না, শিল্প ও সৌন্দর্যের মধ্যে একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে বলে মনে করার কোনো কারণ আছে।
সূত্র: উৎপল ভট্টাচার্য ও অদ্রীশ বিশ্বাস কর্তৃক শিবনারায়ণ রায়ের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ‘সাক্ষাৎকার সংগ্রহ’, পৃষ্ঠা ৩৮

স্মৃতিচারণা করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তখন দুটো-আড়াইটা হবে। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ এবং পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা তখন ধোঁয়াচ্ছন্ন রণক্ষেত্র। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ১নং রুম কন্ট্রোল রুমে পরিণত হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ, ধীরেন দত্ত, শামসুদ্দীন ও কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা পরিষদ বয়কট...
২ দিন আগে
সাঈদ হায়দার স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে: ‘দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, সংঘর্ষের তীব্রতা কমল না। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতাকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে শান্ত করতে পারল না। তারা গুলি চালালো, গুলি চালালো মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তায়। জব্বার আর রফিক প্রাণ হারালো।
৪ দিন আগে
মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী এবং একুশের প্রথম সংকলনের প্রকাশক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা রাত ১টায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এক বৈঠকে মিলিত হই।
৯ দিন আগে
২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
১০ দিন আগে