Ajker Patrika

সমাবর্তন সভার স্মৃতি

সম্পাদকীয়
সমাবর্তন সভার স্মৃতি

২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তখন তো সেখানে দাঁড়িয়ে নো নো বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমাকে বলতে শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার সহযোদ্ধারা, অন্য ছাত্ররাও নো নো বলে চিৎকার করে ওঠে। সেই সময়টাকে মনে পড়লে শিহরণ হয়। কী করছি, এর ফল কী হবে এসব না ভেবে, যেটা ঠিক মনে করেছি, সেটা করেছি।

আমি নিজেও নিজেকে ধন্য মনে করি যে, আমি তো ওই সাহসী কাজটা করেছিলাম। আমাকে অনেকে পরে বকাবকি করেছে। তবে হ্যাঁ, তাঁরা আমার ভালো চাইতেন বলেই বকেছেন। তবে অন্যটাও ছিল। অনেকে আমাকে পরমুহূর্ত থেকে বলা শুরু করল যে, তুই তো বিপদে পড়বি। এসব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। ছাত্রদের ঢোকা উচিত হবে না। একসময় দেখবা, পাশে কেউ নেই। নানা রকমের ভয় দেখানো। বরং তাদের এসব কমেন্ট আমার নিজেকে বুঝতে হেল্প করেছিল, এখনো করে।

মানে হলো, আমি নেগেটিভ মন্তব্য থামিয়ে দিই না। আমি সেটা এগুতে দিই। একই সঙ্গে সেগুলো শুনে আমি নিজের বিবেচনা কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। যখন কেউ বলে, তোমাকেই কেন করতে হবে? আমি বুঝি আমার কিছু করণীয় আছে। ফলে সবাইকে বলতে দিতে হবে। সবারটা শুনতে হবে। আমার ভাষা, আমার কথা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রথম জায়গাতেই দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে বুঝিয়ে দিয়েছি যে কাজটা আসলে আমরা ভালোভাবে নিচ্ছি না। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ বলে—কী দরকার ছিল? তাহলে বুঝতে হবে, আমরা ঠিক লাইনে আছি।

তথ্যসূত্র: উদিসা ইসলাম কর্তৃক আবদুল মতিনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত