‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ বইয়ের শেষ ভাগে বলেছিলাম, আমি নারীবাদী নই। কারণ আমি তখন বিশ্বাস করতাম যে সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়েদের সমস্যার সমাধান হবে। নারীবাদী অভিধাটির দ্বারা আমি তখন বোঝাতে চেয়েছিলাম, শ্রেণি-সংগ্রাম নিরপেক্ষভাবে শুধুই সুনির্দিষ্ট নারী ইস্যুতে সংগ্রাম করা। আজও আমি সেই মতেই বিশ্বাসী। আমার সংজ্ঞায়, নারীবাদী হলো সেই নারীরা অথবা পুরুষেরাও যারা কখনো শ্রেণি-সংগ্রামের পাশাপাশি, কখনো-বা শ্রেণি-সংগ্রাম ব্যতিরেকেই নারীর অবস্থান বদলের জন্য চেষ্টা করছে, তাদের অভীষ্ট বদলগুলোকে পুরোপুরি সমাজ বদলের ওপর নির্ভরশীল না করেই। সেই অর্থে আমি বলব যে আজ আমি নিজেও একজন নারীবাদী। কারণ আজ বেশ বুঝতে পারছি যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই, ঠিক এইখানে এবং এই মুহূর্ত থেকেই নারীর অবস্থানের জন্য লড়াই শুরু করতে হবে। পাশাপাশি এ কথাও আজ বুঝতে পারছি যে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতেও নারী-পুরুষের সমতা অর্জিত হয়নি।
এ জন্যই মেয়েদের উচিত নিজের নিয়তি নিজের হাতে তুলে নেওয়া। এ কারণেই আমি এখন নারীমুক্তি আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। আরও একটি কারণ আছে এবং আমি বিশ্বাস করি, এত বেশি নারী যে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আসছে, তার অন্যতম কারণ হলো, ফ্রান্সের বিভিন্ন বাম ঘরানার বিপ্লবী গোষ্ঠী ও সংগঠনসমূহের ভেতরেও নারী-পুরুষের মধ্যে এক গভীর অসাম্য বিদ্যমান। মেয়েরা সব সময় সবচেয়ে নিচু স্তরের ও নেপথ্যের কাজগুলো করে, পাশাপাশি পুরুষেরা সব সময়ই মুখপাত্র, তারা প্রবন্ধ লেখে, চিত্তাকর্ষক কাজগুলো করে এবং মূল দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং এসব গোষ্ঠীর মাঝেও যাদের তাত্ত্বিক লক্ষ্য নারীসহ গোটা মানবপ্রজাতিকে মুক্ত করা, সেখানেও নারীরা অধস্তন। আর একটি ব্যাপার হলো—সবাই যদিও না, তবে বামদের ভেতরে প্রচুরসংখ্যক পুরুষ নারীমুক্তির উগ্র বিরোধী। তারা আমাদের খোলাখুলিভাবে ঘেন্না করে।
সূত্র: দ্বিতীয় লিঙ্গের পরে, সিমোন দ্য বোভোয়ারের সঙ্গে অ্যালিস শোয়ার্জারের কথোপকথন, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা আলম খোরশেদ,
পৃষ্ঠা: ২২-২৩

পয়লা বৈশাখের ক্ষেত্রে, ষাটের দশকের শেষ দিকে ব্যাপারটা একধরনের প্রতিবাদের মধ্য দিয়েই নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেটা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অগণতান্ত্রিক ও বাংলাদেশ-বিরোধী, পূর্ববঙ্গ-বিরোধী, এই অঞ্চলের জনমানুষ ও বাঙালি জনগোষ্ঠী-বিরোধী যে অবস্থান—সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের অংশ হিসেবেই আসলে...
৩ দিন আগে
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইলোরা। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিলাখোদিত গুহার সমষ্টি। ইউনেসকো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখানে ১০০টির বেশি গুহা চরনন্দ্রী পাহাড়ের ভেতর থেকে খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, এনজিও, সিভিল সোসাইটি কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়ে থাকেন। এনজিও, সিভিল সোসাইটি তাদের অর্থেই পরিচালিত হয়। ফলে মার্কিনদের বিশ্বরাজনীতি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। অথচ বলা উচিত। আমাদের সবারই দাবি তোলা উচিত মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো থেকে...
১০ দিন আগে
১৮৭৯ সালে স্প্যানিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ মার্সেলিনো সানজ দে সাউতুওলা ও তাঁর মেয়ে মারিয়া সানজ দে সাউতুওলা স্পেনের উত্তরে কান্তাব্রিয়া অঞ্চলে খুঁজে পান আলতামিরা গুহা। তাঁরা এই গুহায় আবিষ্কার করেন প্রাগৈতিহাসিক যুগের শিল্পকর্ম। এখানে মূলত বাইসন বা বনগরু, ঘোড়া ও হরিণের জীবন্ত ও বাস্তবধর্মী চিত্র লাল...
১৪ দিন আগে