‘পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু থেকে থাকে,
তার নাম ভালোবাসা, তার নাম প্রেম।
জ্বলে পুড়ে মরার মাঝেও যদি কোনো সুখ থাকে,
তার নাম ভালোবাসা তার নাম প্রেম।...’
দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে মান-অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি, তিক্ততা-বিরক্তি থাকবে না তা কি হয়? ভালোবাসায় যেমন অসংখ্য সুখকর মুহূর্ত থাকে, আনন্দঘন সময় থাকে, তেমনি থাকে কিছু জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়ার সময়। প্রেম দুজন মানুষকে রোমাঞ্চকর সজীবতা উপহার দেয়। আবার প্রেম দুটি হৃদয়কে ভেতর থেকে পোড়ায়। হ্যাঁ, এটাই প্রেম। এটাই সম্পর্ক। তবে প্রশ্ন হলো আপনি ঠিক কতটুকু জ্বলবেন? কতটুকু দগ্ধ হবেন?
প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্কে বোঝাপড়া বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সঙ্গীকে কতটুকু বুঝবেন, কতটুকু ছাড় দেবেন, কোথায় গিয়ে থামতে হবে, আপনাকে এই বিষয়গুলো জানতে হবে।
একটা সম্পর্কের সুতোয় আপনি যখন বাধা থাকবেন, তখন অনেকগুলো বিষয় আপনাকে আনন্দ দেবে। কিছু কিছু বিষয় আপনাকে যন্ত্রণা দেবে। এটি নির্ভর করে আপনি কতটুকু নিজের আবেগ, পরিস্থিতি ও সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, তার ওপর। সব সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটা ভাবাটাও বোকামি। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করা যেতে পারে। নয় তো তিলে তিলে গড়া সম্পর্ক ভাঙতে সময় লাগবে না।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যদি ছন্দপতন ঘটে, তাহলে কিছু বিষয় মাথায় রেখে সেখানে প্রাণ ফেরানো যায়। সম্পর্ককে সজীব করা যায়। ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় বিষয়। ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব।
দোষারোপ নয়
একসঙ্গে চলতে গেলে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। ছোট ছোট অভিযোগ জমতে জমতে একসময় পাহাড় সমান হয়ে যায়। তখন দুজনের মনে তীব্র রাগ, অভিমান জমা হয়। এমন সময় দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। দুজন দুজনকে বুঝতে পারে না। এমনকি বোঝার চেষ্টাও করে না। একজন অন্যজনকে দোষারোপ করতে থাকে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে সম্পর্ক কীভাবে টিকবে, বলুন? আপনি অন্য যেকোনো সম্পর্কে জড়ান না কেন, যদি ইগো, রাগ ও অভিমানের তীব্রতা গাঢ় হয়, তাহলে সম্পর্ক টিকবে না। কাদা ছোড়াছুড়ি ও একে অন্যকে দোষারোপ করে সম্পর্ক ভালো রাখা যায় না। সম্পর্কে যদি দূরত্ব সৃষ্টি হয়, তিক্ততা চলে আসে, তাহলে বিরতি নিন। সঙ্গীকে দোষারোপ করবেন না।
যত্নশীল ও বিনয়ী হোন
সম্পর্ক যত্নে টেকে। যদি প্রেমের সম্পর্ককে বিয়েতে রূপান্তর করতে চান, তাহলে সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল হোন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী হোন। তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দিন। সঙ্গীর মতামত ও দর্শনকে আপনি যদি অশ্রদ্ধা করেন, তাহলে সে আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে, তা ভাবা বোকামি। তাই তাঁকে সম্মান করুন। তাহলে তিনিও আপনাকে সম্মান করবেন।
ক্ষমা করুন
ক্ষমা মহৎ গুণ। সঙ্গীর দোষ–ত্রুটিগুলোকে ক্ষমা করতে শিখুন। অতিরিক্ত রাগ-ক্ষোভ-অভিমান মানসিক যন্ত্রণা বাড়িয়ে তোলে। ক্ষমা করলে আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।
ভুল স্বীকার করুন
নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন না। রেগে গিয়ে সঙ্গীকে আঘাত করে কথা বললে অনুতপ্ত হোন। নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন। নিজেকে শুধরে নিন। তাঁকে ‘সরি’ বলুন। একটি ‘সরি’ অনেকগুলো সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
অনেকে ইগো নিয়ে বসে থাকেন। ইগোকে ব্যক্তিত্ব মনে করেন। ইগো কখনোই ব্যক্তিত্বের অংশ হতে পারে না। ইগোকে দূরে রেখে সঙ্গীর কাছে নিজেকে সহজ করে তুলুন। তবে সস্তা হবেন না।
সঙ্গীর গুণগুলোকে গুরুত্ব দিন
আপনি যার সঙ্গে বছরের পর বছর প্রেম করছেন, তাঁর নিশ্চয় অনেক গুণ আছে। নয় তো আপনাদের সম্পর্ক অনেক আগেই ভেঙে যেত। যখন সম্পর্কে টানাপোড়েন ও দূরত্ব চলে আসে, তখন সঙ্গীর গুণগুলোর কথা ভাবুন। আপনাদের একসঙ্গে কাটানো ভালো মুহূর্তের কথা ভাবুন। দোষগুলোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে গুণের দিকে মনোযোগ দিন।
ছাড় দিন, ছেড়ে যাবেন না
সম্পর্কে প্রাণ ফেরাতে দুজন দুজনকে ছাড় দিতে শিখুন। সংসারে ছাড় দিতে হয়। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে চলতে গেলেও ছাড় দিতে হয়। সম্পর্ক টেকাতে গেলেও ছাড় দিতে হবে। আপনি নিজে যদি ছাড় না দেন, তাহলে সঙ্গীর কাছ থেকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আশা করবেন না। তাই ছাড় দিন কিন্তু ছেড়ে যাবেন না। নিজেকে শুধরে নিন। তাঁকে শুধরানোর সুযোগ দিন।
আপনি হয়তো সঙ্গীকে সহ্য করতে পারছেন না। তাঁকে শ্রদ্ধা করতে পারছেন না। যদি না পারেন তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবে সম্পর্ক টেকানোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তবে মাথায় রাখুন সারা জীবন কোনো মানুষ একা থাকে না। আপনিও একা থাকবেন না। কাউকে না কাউকে সঙ্গী হিসেবে চাইবেন। নিজেকে যদি সংশোধন না করেন তাহলে অন্য কোথাও গিয়েও সুখী হতে পারবেন না। সেখানেও একই ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি হবে।
জীবনকে সহজ ভাবুন
জীবন ঠিক আপনার ভাবনার মতোই সহজ কিংবা জটিল। আপনি জীবনকে যেভাবে দেখবেন, জীবন আপনার কাছে ঠিক সেভাবেই ধরা দেবে। তাই ইতিবাচক হোন। সবকিছুকে সহজভাবে গ্রহণ করুন। মেনে নিতে শিখুন। জীবনে অনেক ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সমস্যা আসবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনার যদি প্রচেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে সব সমস্যার সমাধান আপনি নিজেই করতে পারবেন। তাই সহজ হোন। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে বিদায় দিন। একটা সম্পর্ক গড়তে অনেক সময় লাগে। যত্নে গড়া সম্পর্ককে খুব সহজে ভাঙতে দেবেন কেন?

দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে বসে আমরা কত খাবারই না অপচয় করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই খাদ্য অপচয় রোধে আইন করে পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স? বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা সুপারমার্কেটগুলোর ভালো খাবার ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো বললে অনেকে না-ও চিনতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারকে। কিন্তু যদি বলা হয় ‘কুটি রোমেরো’ তাহলে বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমী চিনবেন তাঁকে। হ্যাঁ, আপনাদের প্রিয় কুটি রোমেরোর পুরো নাম ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলবেন না
১৩ ঘণ্টা আগে
২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির স্ত্রী! আন্তোনেলা রোকুজ্জো এই পরিচয়ে পরিচিত হলেও তিনি নিজেই আসলে মডেল হিসেবে বিখ্যাত ও সফল। রোকুজ্জো টিফানি অ্যান্ড কোং ও অ্যাডিডাসের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পল ম্যাককার্টনির ফ্যাশন ডিজাইনার কন্যা স্টেলা ম্যাককার্টনির সঙ্গেও জুটি বেঁধে কাজ করেছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে