Alexa
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

ডায়াবেটিসে দাঁতের যত্ন

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২১, ১৭:০৩

রক্তে চিনির বাড়তি মাত্রা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে শুরু করে। বংশগত এই রোগের কারণে হৃৎপিণ্ড, চোখ, কিডনি, স্নায়ুর পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের মুখগহ্বরের অন্যতম প্রধান সমস্যা মুখের লালা শুকিয়ে যাওয়া। মেডিকেল সায়েন্সে একে বলে জেরোস্টেমিয়া বা হাইপোস্যালাইভেশন।

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের মুখের লালাগ্রন্থি থেকে অনবরত লালা নিঃসরণ হয়। এই লালা মুখে জমে থাকা খাবারের টুকরো ও জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। লালা নিঃসরণ কমে গেলে মুখে জীবাণুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ফলস্বরূপ দাঁতের গোড়ায় ও মাড়িতে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায়। মুখের লালা নিঃসরণ কমে গেলে জিভ ও মুখ শুকিয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে বারবার পানি পানের পাশাপাশি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। রোগ থেকে রক্ষা পেতে মাড়ি ও দাঁতের বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। নিয়ম করে দুবার সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করার পাশাপাশি ডেন্টাল ফ্লসিং করা জরুরি।

ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শে মাউথওয়াশ দিয়ে ভালো করে কুলকুচি করতে হবে। ডায়াবেটিসের রোগীদের পেরিওডেন্টাল ডিজিজের ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। দাঁতের গোড়া বা মাড়িতে নানা সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সে কারণে হাড়ে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে মাড়ির নিচে থাকা হাড় ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত আলগা হয়ে যায়। এতে দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে পকেট তৈরি হয়ে খাবার জমে ডেন্টাল ক্যারেজ হয়। তবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিসে মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন—কেক, জ্যাম জেলি, পেস্ট্রি, চকোলেট খাওয়া উচিত নয়। এসব খাবার খেলে সঙ্গে সঙ্গে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। দাঁতের ফাঁকে যেন খাবার আটকে না থাকে। মুখের মধ্যে জমে থাকা খাবারে জীবাণু যে অ্যাসিড তৈরি করে, তা দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করে, ফলে দাঁতে সেনসিটিভিটি শুরু হয়।

মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস থাকলে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিসের রোগীরা দাঁতে অসুবিধা হলেও ব্যথা টের পান না। আর এ কারণেই বছরে দুবার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে চেকআপ করালে ছোটখাটো সমস্যা হলেও রোগ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করালে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মুখের লালা নিঃসরণ কমে গেলে কফি, অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত চা পান করলে সমস্যা বেড়ে যায়। ধূমপানসহ যেকোনো তামাক একেবারেই বাদ দিতে হবে। অনেক সময় চিনিমুক্ত চুইংগাম ব্যবহার করলে মুখের লালা নিঃসরণ কিছুটা বাড়ে। 

লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট (ডেন্টাল ইউনিট), আল-হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা

আরও পড়ুন:

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    যেভাবে শনাক্ত হয়েছিল ওমিক্রন

    টনসিলের কারণে গলাব্যথা হলে

    ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা

    দাঁত রক্ষায় রুট ক্যানেল

    স্বাস্থ্যনীতি পুনর্গঠনের দাবি বিশেষজ্ঞদের

    জাককানইবি এলাকায় লাগামহীন ভাড়ায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

    আমিনবাজারে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    আলীকদমে নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

    লালপুরে দুই দিনে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    ছাগল চুরি করে খেয়ে ফেলার অভিযোগে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা