সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস এখন অসংক্রামক মহামারি রোগ। কয়েক দশক আগেও এটি স্বল্প পরিচিত রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সারা বিশ্বে এটি বিস্তার লাভ করছে। সারা বিশ্বে প্রায় ৭২৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত; অর্থাৎ প্রায় ১১ জনে ১ জন ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত।
সঠিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। যেমন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, রেনাল ফেইলিউর, ডায়াবেটিক ফুট ও জটিল ক্ষত, অন্ধত্ব। ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে অনেকেরই ডায়াবেটিক ফুট হয়।
ডায়াবেটিক ফুটের কারণ
- দীর্ঘদিন অনিয়মিত ডায়াবেটিস
- স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
- পায়ের গঠনগত ত্রুটি
- নখ দেবে যাওয়া এবং নখের ইনফেকশন
- রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিন পায়ের যত্ন না নেওয়া
লক্ষণ
- পায়ের পাতা বা পা ফুলে যাওয়া
- পায়ের চামড়ার রং পরিবর্তন
- পায়ের বোধ শক্তি লোপ পাওয়া
- পায়ের ফাঁকে ফাঁকে ছত্রাক বা ইনফেকশন
- পায়ের গোড়ালির ক্ষত ভালো হতে সময় নেওয়া
- পায়ের বিভিন্ন অংশ কালো হয়ে যাওয়া, পচন ধরা, দুর্গন্ধ হওয়া।
যাঁরা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং ডায়াবেটিস ফুট হওয়ার উচ্চঝুঁকিতে আছেন, তাঁরা অবশ্যই–
- ৬ মাসে একবার ফুট স্ক্রিনিং করাবেন
- পা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে চেষ্টা করুন
- পায়ে তেল অথবা ক্রিম দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখার চেষ্টা করুন
- অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ থাকলে মাঝে মাঝে বিরতি নিন
- খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
ডায়াবেটিস রোগী, যাঁরা পায়ের ক্ষতের উচ্চঝুঁকিতে আছেন, তাঁরা অবশ্যই পা ফাটা, রঙের পরিবর্তন, ঘা, কাটা বা পোড়া বা ছত্রাক সংক্রামক ইত্যাদি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অকালে পা কাটা পড়া বা অ্যাম্পুটেশন রোধ করুন। ডায়াবেটিক ফুট স্পেশালিস্ট অথবা ডায়াবেটিক ফুট সার্জনের পরামর্শ নিন।
লেখক: সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, সার্জারি জরুরি বিভাগ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল
আরও পড়ুন:










