
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশন শুরু হয়েছে গত ১০ সেপ্টেম্বর। আর সাধারণ পরিষদে উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ অধিবেশনে গত রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ৯৪টি দেশ এবং সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২৪টি দেশ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে সমর্থন দিয়েছে দাবিতে একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার রাতে ‘ব্যারিস্টার জহিরুল ইসলাম (Barrister Johirul Islam)’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে এমন দাবিতে পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটিতে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজারের বেশি রিয়েকশন পড়েছে। শেয়ার হয়েছে প্রায় ৬শ।
দাবিটি ফেসবুকে সায়মা ওয়াজেদ ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইনানের নামে খোলা ফেসবুক পেজ, সাপোর্টার্স অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের ফেসবুক গ্রুপসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ ও পেজ থেকে ভাইরাল হয়েছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে দেখা যায়, ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবিটির পক্ষে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেশি–বিদেশি কোনো সংবাদমাধ্যমে দাবিটির পক্ষে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত রোববার ও সোমবার (২২–২৩ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের ‘সামিট অব দ্য ফিউচার’ শীর্ষক কার্যক্রম চলে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে বৈশ্বিক সুশাসনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এখানে আলোচনা করেন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে ‘সামিট অব দ্য ফিউচার’ সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে খুঁজেও জাতিসংঘ অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১১৮ দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসিনার পক্ষে এমন স্বীকৃতি এলে তা আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচার করার কথা। আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতেও এমন কোনো তথ্য নেই।
বরং আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দলটির নেতা–কর্মী, সমর্থকদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটিতে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ, টেলিগ্রাম চ্যানেল, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব চ্যানেলের বাইরে অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমের পেজ বা মিডিয়া থেকে কোনো দলীয় হালনাগাদ তথ্য এলে তা সংগঠনটির ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ব্যারিস্টার জহিরুল ইসলাম (Barrister Johirul Islam), সায়মা ওয়াজেদ ঐক্য পরিষদ নামের পেজগুলো থেকে ভিত্তিহীন তথ্য, বিকৃত ছবি ব্যবহার করে গুজব ছড়াতে দেখেছে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ। এর মধ্যে আছে, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র জাতিসংঘে জমা না দিলে সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের ছবি সম্পাদনা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক— নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি প্রচার।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট, জাতিসংঘ অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১১৮ দেশের দুই দফায় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ভাইরাল তথ্যটি ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশে ২০ বছর বয়সী এক হিন্দু তরুণীকে জোর করে ৬৫ বছর বয়সী এক মুসলিম বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
দিল্লিতে কনফারেন্সে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
চলন্ত ট্রেনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি করছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাতাহাতির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আলোচিত দাবিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ছড়িয়ে পড়া ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রাষ্ট্রপতির চেয়ারে’ বসেছিলেন—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে