মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

উপজেলা নির্বাচন: এমপিদের কাছে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছোটাছুটি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৭

 ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দিলেও জয়-পরাজয় নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব বাড়বে। প্রার্থী হতে যাওয়া দলীয় নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে এবার জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। এই অবস্থায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার এমপির কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা থেকেই আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি বাইরে থাকলেও যাতে নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারণা, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব আরও বাড়বে। কারণ, স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনেও সংসদ সদস্যদের প্রভাব আছে। ওই নেতারা বলছেন, দলীয় কোন্দল ও সহিংসতা কমাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এমপিরা নির্বাচনে যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেদিকে নজর থাকবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন অবশ্য আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রার্থীরা জেতার জন্য সবার কাছে যাবেন।

রা আশীর্বাদ নিতে এমপির কাছে যাবেন, আওয়ামী লীগ নেতার কাছে যাবেন। কারণ, নির্বাচনী এলাকায় সবার ব্যক্তিগত ভোট রয়েছে। তবে আমরা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেব না, এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।’

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, ‘সমর্থন নিতে অনেকে আসছেন। তবে তাঁদের উদ্দেশে একটাই বক্তব্য, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।’

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, যাঁরা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা কোনো না কোনোভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা এলাকায় উন্নয়ন যেভাবে করেন, সেভাবে দলের ভালো-মন্দও দেখেন। এতে তাঁদের একটা প্রভাব সমাজে থাকেই। তাই স্বাভাবিক কারণে প্রার্থীরা এমপিদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলতে চান।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন করা হয় ২০১৫ সালে। এর পর থেকে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি আওয়ামী লীগকে ভাবিয়ে তুলেছিল। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার জন্য দলীয় ফোরামে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছিল। বিএনপিবিহীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অংশগ্রহণমূলক দেখাতে নৌকা প্রতীক দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দিয়েছিল দলটি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করছেন, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বজায় রাখতে সংসদ সদস্যরা পছন্দের ব্যক্তিকে উপজেলা পরিষদে জিতিয়ে আনতে নানা কৌশল নিতে পারেন। তাঁদের মতে, যেসব এলাকায় স্থানীয় এমপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছিলেন, সেখানে অপছন্দের প্রার্থীকে হারানোর জন্য চেষ্টা করবেন। স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব থাকার সুযোগে কিছু এমপি নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ও সহিংসতা ঠেকাতে নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু কিছু এলাকা থেকে যেসব তথ্য পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে, এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছেন। এতে ভোট নিয়ে দলীয় কোন্দল বাড়তে পারে। তবে দলীয় প্রতীক না থাকায় সহিংসতা হলে দায় এড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, হাতের পাঁচটি আঙুল যেমন সমান নয়, ঠিক তেমনি কিছু এমপি নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার ধারণা, বিএনপি অংশ না নিলেও প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হবেন। এক নেতা বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্বাচনে সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় এমপি এবং জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সুযোগ কম থাকবে। কোনো এলাকায় তা ঘটলে সংশ্লিষ্ট জেলার নেতা ও সংসদ সদস্যের জবাবদিহি চাওয়া হবে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মজিবর রহমান মজনু অবশ্য বলেন, ‘যাঁরা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন, তাঁদের সবাই তো আমাদের দলের। তাই তাঁরা তো চেষ্টা করবেন এমপি ও জেলার নেতারা তাঁর পক্ষে থাকুক, এটা স্বাভাবিক। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে কারও প্রতি অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ আছে বলে মনে করি না।’

নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় এমপির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের অন্য কোনো দাবি নেই, আমরা চাই একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ভোট হোক।’

দলীয় প্রতীক না থাকায় উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের ওপর এমপিদের প্রভাব বাড়বে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার বলেন, কোনো বড় কাজ করতে হলে কিছু ছোট বিষয় আছে, এগুলো এর মধ্যে এসে পড়বে। কারও ইচ্ছায় নির্বাচন প্রভাবিত হবে, এমন কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী, এবার তারা প্রমাণ করেছে এবং তারা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রকার সমর্থন দেব না। জনগণ যাকে পছন্দ, তাকে নির্বাচিত করবে; যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    বরেন্দ্রভূমিতে ৪ কোটি টাকা ঘুষে ৩৫ নলকূপের ছাড়পত্র

    কেন ভালো হয় না বাংলাদেশের উইকেট

    বন্যা পরিস্থিতি: বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে ঘরে ফেরা মানুষ

    পাহাড়ে ঝুঁকিতে লাখো বসতি

    ঢাকার ওয়েব সিরিজে কলকাতার শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়

    সাক্ষাৎকার

    প্রত্যেকটি বয়সের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে: মেহজাবীন চৌধুরী

    জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া

    অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষায় রেখে সেমিতে ভারত

    পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই, বেড়েছে প্রচেষ্টা

    ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়ে মালদ্বীপে ১৮ লাখ নতুন পর্যটক, পেছনে পড়ল সেশেলস 

    শরীফার গল্প: জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে নতুন গল্প যুক্ত করার নির্দেশ