
বাংলাদেশকে দেওয়া ঋণের শর্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশের সরকারি ব্যাংকে খেলাপির হার মোট ঋণের ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে তা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সময় বেঁধে দিয়েছে। খেলাপি কমাতে চুক্তিও করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু ফলাফল প্রায় শূন্য। উল্টো খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে কিস্তি পরিশোধে গ্রাহককে ও প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যাংকগুলোর ছাড় দেওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতে নাজুক অবস্থা চলছে। এর কারণ, খেলাপি গ্রাহক ও ব্যাংককে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবার অর্থঋণ আদালতের সুযোগ নিয়ে অনেকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হচ্ছে, যা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণে যত বেশি উদারতা দেখাচ্ছে, খেলাপি তত বাড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে কোনো চুক্তি বা আইএমএফের শর্ত কাজে লাগবে না।
জানা গেছে, ২০১২ সালের দিকে গ্রাহকদের কিস্তি পরিশোধে কয়েক বছরের ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৮ সালেও ঋণগ্রহীতাদের ছাড় দেওয়া হয়। করোনাকালে ঋণ পরিশোধের কিস্তিতে মরাটরিয়াম সুবিধা পায় গ্রাহক। এরপর ২০২২ সালে ব্যাংকগুলোর হাতে ঋণ পুনঃ তফসিলের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এ ছাড়া চলতি বছর আরেক সুবিধা দিয়ে বলা হয়, কিস্তির ৫০ শতাংশ শোধ করলে খেলাপি নয়; পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রক্ষায় বিশেষ ছাড় পায়।
গ্রাহক ও ব্যাংকগুলোকে দেওয়া একের পর এক এমন ছাড়ই খেলাপি বাড়িয়ে তুলেছে। এখন এসব সুবিধা বন্ধ করে খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খাতাকলমে দেখানো হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু বাস্তবে এই ঋণের অঙ্ক অনেক বেশি। খেলাপি ঋণ ধারাবাহিক বাড়তে থাকা মানে ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে। এতে করে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগও কমে যাবে। ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে, যা আমাদের কাম্য নয়। এখন সুবিধা বন্ধ করে খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। কঠোর অবস্থায় যাওয়া ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প উপায় নেই।’

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকে সর্বত্র একধরনের অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ঘোষণা এল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধির। সেটাও বেশ বড় বৃদ্ধি, ১৭ দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৫৯৯ টাকা।
৩ ঘণ্টা আগে
সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ সরবরাহ এত দিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় হিসাবে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে এখন জেলা প্রশাসনের...
৬ ঘণ্টা আগে
দেশের অনেক তরুণ এখন উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন, গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন নতুন স্টার্টআপ। তরুণদের এসব উদ্ভাবন ও সামাজিক উদ্যোগকে টেকসই রূপ দিতে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক। এ লক্ষ্যে ব্র্যাকের ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ‘আমরা নতুন তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা ফেলোশিপ প্রোগ্রাম’।
৯ ঘণ্টা আগে
চিফ হুইপ এমপিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং একটি রূপক বা স্যাটায়ার তিমি ও হাঙর মাছের নাম ব্যবহার করেছিলেন। তার মিম শেয়ার করার কারণে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা হয়েছে। এই ধারা মূলত যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োগের কথা, কিন্তু একটি মিম শেয়ার করার মধ্যে যৌন নির্যাতন কোথায়...
৯ ঘণ্টা আগে