প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মোখা’, কেন্দ্রে বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ তার কেন্দ্রের শক্তি বৃদ্ধি করে আগাচ্ছে উপকূলের দিকে ৷ ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-৭ এ এই তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে দুপুর ২টায় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তাকে ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে হ্যারিকেন গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বা ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখনও উপকূলের কোন এলাকায় আঘাত হানবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। শুক্রবার দুপুরের পর নির্দিষ্ট গতিপথ জানা যাবে। এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্ধ্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়’ মোখা’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি আজ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত উত্তর দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হয়ে পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে ক্রমান্বয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হলো।
আরও পড়ুন:
- ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’: সাগরে নিম্নচাপ, ডাঙায় গরম
- ঘূর্ণিঝড় মোখা: গতিপথ কোন দিকে, আঘাত হানবে কি বাংলাদেশে
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সৃষ্টির পূর্বাভাস
- সাগরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- কবে কোথায় কত মাইল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোখা?
- লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা
- ঘূর্ণিঝড়ের কোন সংকেতে কী বোঝায়
- ঘূর্ণিঝড় মোখায় রূপ নিল নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মোখা’, কেন্দ্রে বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ









