২৩ দেশ ঘুরে ২০ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মণিপুরে ফিরল দুই বাজপাখি

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা দুটি আমুর বাজপাখি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের মণিপুরে ফিরেছে। অপাপাং ও আলাং নামের পাখি দুটি ২৩টি দেশ অতিক্রম করে এক বছরের দীর্ঘ পরিযান সম্পন্ন করেছে। এই যাত্রায় উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আফ্রিকার সোমালিয়া পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার পথ টানা ছয় দিনে উড়ে পাড়ি দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (ডব্লিউআইআই) বিজ্ঞানীরা মণিপুরের তামেংলং জেলার চিউলুয়ান এলাকায় পাখি তিনটির শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত করেছিলেন। অপাপাং ও আলাংয়ের পাশাপাশি আহু নামের আরও একটি আমুর বাজপাখিকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে সোমালিয়ার কোথাও আহুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চীন থেকে উড়ে আসা অপাপাং ও আলাং গতকাল বৃহস্পতিবার মণিপুরে পৌঁছায়। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ পাখি দুটি তামেংলং জেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তারা আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নেবে।
আমুর বাজপাখির পরিযানের পথে উত্তর-পূর্ব ভারত গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল। এখানে পাখিগুলো উইপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে শরীরে চর্বি জমায়। এই শক্তিই তাদের আরব সাগরের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জলরাশিসহ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সহায়তা করে।
ভারতের পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দর যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবছর এই পাখিদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন এবং তাদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখেন। পাখি দুটির পূর্ণাঙ্গ পরিযান সম্পন্ন করা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
২০১৩ সালে নাগাল্যান্ডে আমুর বাজপাখি সংরক্ষণ ও শিকার বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে স্যাটেলাইটে পাখি পর্যবেক্ষণ প্রকল্প শুরু হয়। স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে একসময় পাখি শিকারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই তাদের রক্ষকের ভূমিকায় আসেন। পরে এই উদ্যোগ মণিপুর ও আসামেও ছড়িয়ে পড়ে।
আমুর বাজপাখি সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছায় এবং মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে। এরপর এপ্রিল-মে মাসে উত্তর চীন ও সাইবেরিয়ার প্রজননক্ষেত্রে ফিরে যায়। এই পরিযায়ী পাখির জীবনযাত্রা, যাত্রাপথ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক গবেষণা।









