মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

অস্ত্র কেনায় শীর্ষ ১০ দেশ, শীর্ষ রপ্তানিকারক যারা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ২৩:০৩

পৃথিবীতে অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ছবি: এএফপি ভূরাজনীতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক ক্ষমতাবলয়ের মেরু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এর মধ্যে বাড়ছে অস্ত্রের মজুত। সমরাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে অনেক দেশ। বড় অস্ত্রাগারের মালিক হয়ে উঠছে নতুন নতুন দেশ। বর্তমানে অস্ত্র আমদানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে ভারত ও সৌদি আরব। 

ভারতের বিজেপি সরকার বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রতিরক্ষা খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’–এর বিজ্ঞাপন করে যাচ্ছে। অর্জন হিসেবে সরকার দেশে ‘নির্মিত’ যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও সাবমেরিনের কথা বলছে। শিগগিরই রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছে। 

অথচ নরেন্দ্র মোদির আমলে (২০১৮–২০২২ সাল) সমরাস্ত্রের মোট বৈশ্বিক আমদানির ১১ শতাংশই ভারতের। সে হিসাবে ভারত এখনো বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই ‘অর্জনে’ মোদি সরকার কৌশলগতভাবে দুর্বল এবং বিব্রতকর অবস্থানে চলে গেছে। 

গত ১৩ মার্চ স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অস্ত্র স্থানান্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮–২০২২ সময়সীমার মধ্যে ভারত মোট আমদানির ৪৫ শতাংশই করেছে রাশিয়া থেকে। অর্থাৎ ভারতে রাশিয়ার হিস্যা কিছুটা কমলেও এখনো দেশটিতে বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী তারা। 

এরপরের অবস্থানেই আছে ফ্রান্স। ভারতের মোট আমদানির ২৯ শতাংশ হিস্যা ফ্রান্সের। মূলত দিল্লি ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৫৯ হাজার কোটি রুপির চুক্তি করায় ভারতে অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে গেছে ফ্রান্স। উল্লেখিত সময়ে ভারতের মোট আমদানির ১১ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। 

 ২০১৮–২২ সাল পর্যন্ত হিসাবে অস্ত্র আমদানিতে ভারতের পরেই সৌদি আরবের অবস্থান। সমরাস্ত্রের বৈশ্বিক আমদানির ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কিনেছে সৌদি আরব। এরপরেই আছে যথাক্রমে—কাতার (৬.৪ %), অস্ট্রেলিয়া (৪.৭ %), চীন (৪.৬%), মিশর (৪.৫%), দক্ষিণ কোরিয়া (৩.৭%) এবং পাকিস্তান (৩.৭%)। 

তবে স্ট্যাটিস্টার সর্বশেষ (১০ মার্চ, ২০২৩) তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ দশ অস্ত্র আমদানিকারক দেশের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে যৌথভাবে ভারত ও সৌদি আরব। বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানির ১১ শতাংশই কেনে এই দুই দেশ। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে—মিসর (৫.৭ শতাংশ), অস্ট্রেলিয়া (৫.৪ %), চীন (৪.৮ শতাংশ), কাতার (৪.৬ শতাংশ), দক্ষিণ কোরিয়া (৪.১ শতাংশ), পাকিস্তান (৩ %), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২.৮ %) এবং জাপান (২.৬ %)। 

আর শীর্ষ ১০ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র (৪০ %), রাশিয়া (১৬ %), ফ্রান্স (১১ %), চীন (৫.২ %), জার্মানি (৪.২ %), ইতালি (৩.৮ %), যুক্তরাজ্য (৩.২ %), স্পেন (২.৬ %), দক্ষিণ কোরিয়া (২.৪ %) এবং ইসরায়েল (২.৩ %)। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, পাকিস্তানের আমদানির ৭৭ শতাংশই সরবরাহ করেছে চীন। 

বর্তমানে শীর্ষ ১০ সমরাস্ত্র আমদানিকারক দেশ। সূত্র: স্ট্যাটিস্টা এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক বাজেট এখন ভারতের। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে ‘আঁত্‌মানির্ভারতা’ (স্বনির্ভরতা) অর্জনের দিকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ‘ইতিবাচক স্বদেশীকরণ তালিকা’ এবং এফডিআই (বিদেশি বিনিয়োগ) সীমা বাড়ানো থেকে শুরু করে ভারতীয় বিক্রেতাদের জন্য ‘একটি অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করার উদ্যোগ। পাশাপাশি ২০২৩–২৪ সালে দেশীয় শিল্প থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে এ খাতের বাজেটের ৭৫ শতাংশ ব্যয় করার একটা উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও রয়েছে। 

গত ১৩ মার্চ এই প্রতিবেদন প্রকাশের দিন ভারতের জুনিয়র প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অজয় ভাট রাজ্যসভাকে বলেন, বিদেশি উৎস থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ব্যয় ২০১৮–১৯ সালের ৪৬ শতাংশ থেকে কমে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি কৌশলের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

এসআইপিআরআই–এর তথ্য অনুসারে, ভারত ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। প্রতিবেদনে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা-শিল্প ভিত্তি তৈরিতে ভারতের ক্রমাগত ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। 

সংস্থাটির ডেটায় দেখা যাচ্ছে, ভারতের অস্ত্র আমদানি ২০১৩–২০১৭ এবং ২০১৮–২২ সালের মধ্যে ১১ শতাংশ কমেছে। এই হ্রাস ভারতের ধীর এবং জটিল অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া, অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা এবং দেশীয়ভাবে ডিজাইন করা ও উৎপাদিত প্রধান অস্ত্র দিয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাসহ বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। 

এদিকে ২০১৩–১৭ এবং ২০১৮–২২ উভয় সময়েই ভারতে বৃহত্তম সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। কিন্তু ভারতের মোট অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ এখন ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার অবস্থান অন্যান্য সরবরাহকারী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়া, ভারতীয় অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন হামলার কারণে রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়া।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    অবশেষে কারামুক্ত হলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

    রাশিয়ার প্লাতান ইনস্টিটিউটের অফিস ভবনে হঠাৎ আগুন, নিহত ৮ 

    হাঁটতে গিয়ে হারিয়ে গেলেন পাহাড়ি বনে, করলেন টিকে থাকার লড়াই

    বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক নিয়ে মোদিকে কড়া ভাষায় মমতার চিঠি

    হাঙরের আক্রমণে প্রাণ হারালেন পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান অভিনেতা

    হিন্দু নামে জাল নথি বানিয়ে গুজরাটে গ্ৰেপ্তার বাংলাদেশি মুসলিম যুবক

    আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরী মণি 

    উত্তরা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

    যে শঙ্কায় বিয়ে করছেন না সালমান, জানালেন বাবা সেলিম খান

    বাগেরহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী চাচা নিহত

    আজকের পত্রিকায় চাকরির সুযোগ

    সেমিফাইনাল করতে করতে ম্যাচই হারল বাংলাদেশ, আফগানরা গড়ল ইতিহাস