সাহিত্যে নোবেল পাওয়া কবি ও গীতিকার বব ডিলান মঞ্চে ওঠেন সানগ্লাস পরে। একসময়ের রক স্টার জন লেনন, এলটন জন, এলভিস কসটিলো, বনো, ওজি ওসবোনে, স্টিব ওয়ান্ডার, মাইকেল জ্যাকসন সবার ফ্যাশন অনুষঙ্গে সানগ্লাস জড়িয়ে ছিল। ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্তকেও অধিকাংশ সময় সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। শুধু সংগীতশিল্পী, বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা সানগ্লাস পরেন বিষয়টা এমন নয়। সানগ্লাস সবার জন্য। এটি এখন কেবল ফ্যাশনের অংশ নয়, এটি রোজকার প্রয়োজনের অংশ। চোখকে সরাসরি রোদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে সানগ্লাস। এতে অতিবেগুনি রশ্মি চোখের ক্ষতি করতে পারে না। সেই সঙ্গে এটি স্টাইলিশ লুক আনে।
সানগ্লাসের প্রচলন ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তার সঠিক তথ্য জানা যায় না। ১২০০ সালের দিকে চীনদেশে একধরনের কাঠের ফ্রেম ব্যবহার করা হতো। কিন্তু তাতে কোনো গ্লাস ছিল না। পরবর্তী সময়ে চশমা ও সানগ্লাসের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গবেষণা চলতে থাকে এবং ১৯২০ সালের দিকে সানগ্লাসের প্রচলন বাড়তে থাকে অভিজাত শ্রেণিতে।
সময় বদলেছে। বেড়েছে সানগ্লাসের ব্যবহার। পোশাকের মতো করে সানগ্লাসের ফ্রেম, নকশা ও ডিজাইনে যোগ হচ্ছে নতুনত্ব। বৃত্তাকার, গোলাকার, চার কোনা, বাইকার গগলস, শিল্ড, রেট্রো স্কয়ার, সেমি রিমলেস, লাভ আকৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন ফ্রেমের সানগ্লাস বাজারে পাওয়া যায়। ফ্রেমে পাতলা, গাঢ় সব রংই মানিয়ে যাচ্ছে।
ফ্রেম ও গ্লাসের ধরন
প্লাস্টিক, অ্যাসিটেট, মেটাল ইত্যাদি দিয়ে চশমার ফ্রেম তৈরি হয়। প্লাস্টিকের ফ্রেমের সানগ্লাস দামে তুলনামূলক সস্তা হয়। মেটালের ফ্রেমগুলো প্লাস্টিকের মতো অতটা টেকসই নয়। এগুলো প্লাস্টিকের ফ্রেমের তুলনায় দামি। সানগ্লাসের গ্লাস প্লাস্টিক, অপটিক্যাল গ্লাস, পলিকার্বোনেড, এস আর-৯১ লেন্স ইত্যাদির হয়ে থাকে। এসআর-৯১ লেন্স সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেয়। এটি পানি ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী। গ্লাসে লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলা, বাদামি, বেগুনি ও নীল রঙের শেড পাওয়া যায়।
ফ্রেমের বাহারি নকশা
দিনে দিনে চশমার ফ্রেমে বাড়ছে ডিজাইন। বাদামি ও কালো শেড দেওয়া এমন ফ্রেমগুলো আগে থেকেই গ্রহণযোগ্য। কচ্ছপের খোলের মতো ডিজাইন, চিতাবাঘ প্রিন্ট, সলিড রং, ক্যাটস আই—কী নেই ফ্রেমে! দেশীয় ঐতিহ্য রিকশাপেইন্টকেও সানগ্লাস ও চশমার ফ্রেমে নিয়ে এসেছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল রিকশার পেছনের সেই চিরচেনা চিত্রকে চশমার ফ্রেমে নিয়ে আসেন বহু বছর আগেই। পরবর্তী সময়ে ফিনারি, আর্টজেনিক্স, স্বপ্নযাত্রা, নৈসর্গিকসহ আরও অনেক পেজের ডিজাইনাররা সানগ্লাসের ফ্রেমে রিকশাচিত্র তুলে ধরেছেন।
চেহারার ধরন অনুযায়ী সানগ্লাস
যাঁদের মুখের আকৃতি গোল, তাঁদের চোখে গোল আকৃতির গ্লাস ভালো মানায়। ক্যাটস আই কিংবা অ্যাভিয়েটর ফ্রেমের সানগ্লাসও মানিয়ে যাবে অনায়াসে। আয়তাকার ফ্রেমের সানগ্লাসও তাঁদের জন্য ভালো। লম্বা আকৃতির মুখমণ্ডলের নারী ও পুরুষের চার কোনা আকৃতির সানগ্লাস ভালো মানায়। তাঁদের চোখে মোটা ফ্রেম ও কিছুটা বড় আকৃতির সানগ্লাস বেশ মানিয়ে যায়। রিমলেস বা হাফ রিমলেস সানগ্লাসও মানিয়ে যাবে তাঁদের। যেসব নারী ও পুরুষের মুখমণ্ডল ছোট ও চ্যাপ্টা ধরনের, তাঁদের সঙ্গে মানাবে চিকন ফ্রেমের চশমা। আবার গায়ের রঙের সঙ্গে মিল রেখে বেছে নিতে পারেন চশমার ফ্রেম। যাঁদের গায়ের রং কালো তাঁরা কালো, কফি, গাঢ় বা হালকা বাদামি রঙের সানগ্লাস বেছে নিতে পারেন। যাঁদের গায়ের রং উজ্জ্বল তাঁরা যেকোনো রঙের ফ্রেম বেছে নিতে পারেন।
যত্নটা জেনে নিই
• খুব ঠান্ডা বা বেশি তাপমাত্রা পড়ে এমন জায়গায় সানগ্লাস রাখবেন না। এতে সানগ্লাসের ম্যাটেরিয়াল গলে যেতে পারে এবং এটি ব্যবহার অনুপযোগী হতে পারে।
• কেনার সময় সানগ্লাসের সঙ্গে মাইক্রোফাইবারের কাপড়ের টুকরো দেওয়া থাকে। এই কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে সানগ্লাস মুছে নিন। শুকনো কাপড় ও টিস্যু দিয়ে মুছবেন না।
• সানগ্লাসের গ্লাসের অংশটি শক্ত কোনো বস্তুর ওপর রাখবেন না। স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। রাখতে হবে বক্সের ভেতর।
• ডিটারজেন্ট ও সাবান দিয়ে সানগ্লাস পরিষ্কার করবেন না। এতে লেন্সের ক্ষতি হতে পারে।
• সানগ্লাস চুলের সঙ্গে আটকে রাখবেন না। এতে ফ্রেম নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
দরদাম
সানগ্লাসের দাম ডিজাইন, মান ও মডেল অনুযায়ী কম-বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটের চশমার দোকানে ব্র্যান্ডের সানগ্লাস কিংবা রেপলিকা পাওয়া যায়। ননব্র্যান্ডের এই সানগ্লাসগুলো ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। গুচি, রে ব্যান, আরমানি, পোলিশ, ফার্স্টট্র্যাক, প্রাডা ইত্যাদি ব্র্যান্ডের সানগ্লাস ৮ হাজার থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা কিংবা তার বেশি দামের হয়ে থাকে।

কাজের ব্যস্ততার মাঝে অফিসে বসে যখন প্রচণ্ড ঘুম আর ক্লান্তি ভর করে, তখন কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে চোখ খোলা রাখাটাই এক রকম নির্যাতন বলে মনে হয়। সুস্থ ও সুখী জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময় রাতে ঠিকঠাক ঘুমানোর পরও দেখা যায়, দুপুরের পর কোনো...
৯ ঘণ্টা আগে
ফারিকল হলো নরওয়ের জাতীয় খাবার। এই খাবার বিশেষ করে দেশটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববারে রাতের খাবার হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়। এটি মূলত ভেড়া বা খাসির মাংস ও বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু স্টু জাতীয় খাবার। দেশটিতে সাধারণত শরৎকালে এই খাবার বেশি খাওয়া হয়। প্রতিবছরের সেপ্টেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবার...
১০ ঘণ্টা আগে
শিশু জুস খেতে পছন্দ করে? বাইরের জুস না দিয়ে মৌসুমি ফল আম দিয়েই তৈরি করে দিন স্বাস্থ্যকর জুস। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১৩ ঘণ্টা আগে
স্প্যানিশশৈলীর চেয়ে রোমান্টিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন খুব কমই রয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অংশ হিসেবে, স্প্যানিশ ইন্টেরিয়রগুলো উষ্ণ, আন্তরিক এবং অত্যন্ত স্টাইলিশ হয়ে থাকে। ঐতিহ্যবাহী স্টাকো দেয়াল, আলংকারিক টাইলসের কাজ এবং গম্বুজাকৃতির ছাদ সহজেই বলে দেয় স্প্যানিশ আভিজাত্য়ের কথা। যদি নিজের বাড়ি তৈরির কথা...
১৪ ঘণ্টা আগে