Alexa
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

সেকশন

epaper
 

‘গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিতে শিশুমৃত্যুর হার বেশি’

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১৬:২৫

‘গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিতে শিশুমৃত্যুর হার বেশি’ গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিতে শিশুমৃত্যুর হার বেশি। যেখানে বস্তিতে প্রতি হাজারে ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়, সেখানে গ্রামে হাজারে মারা যায় ৪৯ জন বলে জানিয়েছে ঢাকা কলিং প্রকল্প।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রভাব’ শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় ঢাকা কলিং প্রকল্প। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের শহরগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বর্জ্য শুধু ঢাকা শহরেই উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন উৎপাদিত এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের একটি বৃহত্তর অংশই আবার থেকে যাচ্ছে অসংগৃহীত অবস্থায়, যা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে নগরের আশপাশের রাস্তা, খাল, বিল, জলাধার, নিম্নাঞ্চল ইত্যাদি জায়গায়।

বিক্ষিপ্তভাবে নিক্ষিপ্ত ও অসংগৃহীত এসব কঠিন বর্জ্য সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে নিষ্কাশন বা পুনর্ব্যবহারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ায় নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, যা আমাদের পরিবেশগত সাংবিধানিক অধিকারকেও ক্ষুণ্ন করছে। আর বর্জ্যের এসব অব্যবস্থাপনার নেতিবাচক প্রভাব ও ক্ষতির সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে নগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যাদের আবাস মূলত আমাদের নগরের বস্তি এলাকাগুলোতে। কঠিন বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট পরিবেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, চর্মরোগ, প্রস্রাবে ইনফেকশন, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যানসার, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড রোগের মতো বিপজ্জনক রোগের বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ধরনের রোগ সাধারণত অবিশুদ্ধ ও অনিরাপদ পানি খাওয়া, অনেকক্ষণ ময়লার মধ্যে থাকা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ নোংরা পরিবেশের কারণে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। ২৭ শতাংশ মানুষ ময়লা পানির জন্য এবং ১৯ শতাংশ জলাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিবাসীদের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার বেশি। যেখানে বস্তিতে প্রতি হাজারে ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়, সেখানে গ্রামে মারা যায় ৪৯ জন। এসব রোগশোকে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পরিবারে তাদের বোঝা বলে মনে করা হয়। ফলে অনেকেই তাদের ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রান্তিক নাগরিকেরা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই থাকে না বরং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার সুচিকিৎসার অভাবে তাদের স্বাস্থ্যগত নানা রকম জটিলতা তৈরি করে। এগুলো তাঁদের মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে এ সময় ঢাকা কলিং প্রকল্প বেশ কিছু দাবি জানয়। এগুলো হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেমন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কাজ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তার নিজ নিজ কর্মপরিসরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে কাজ করতে পারে; বস্তি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহসহ পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো উদ্যোগ নিতে পারে; বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা; প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করা; মানসিক রোগ এখনো বাংলাদেশে নীরব খুনির ভূমিকায় আছে। আর স্বল্প আয়ের মানুষ একে রোগ হিসেবে বিবেচনাই করে না। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে প্রান্তিক নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে তার আশু সমাধানে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিদ্যমান আইনগুলোতে জনস্বাস্থ্য অনুপস্থিত। এটি শুধু বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এই দায়িত্বের আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মিলে যৌথ পরিকল্পনা ও মনিটরিং কার্যক্রম গ্রহণ করা।

এ ছাড়া বর্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সাধারণ নাগরিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনে সরকারকে বিশেষভাবে উদ্যোগী হওয়া; কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—বাসাবাড়ির পচনশীল বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার, মনুষ্য বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ইত্যাদির মাধ্যমে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আবার উন্নত দেশগুলোর আদলে বর্জ্য রিফিউজড ডিরাইভড ফুয়েল উৎপাদন করা যেতে পারে; সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিস্তারিত ও ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করে বর্জ্যের কারণে জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলো নিরূপণ করে তা সমাধানে কাজ করা এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ, বাংলাদেশ রিসার্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওরের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, ঢাকা কলিং প্রকল্পের কারিগরি উপদেষ্টা সুমন আহসানুল ইসলামসহ অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকলে হাসপাতালে যেতে হয় না: আরেফিন সিদ্দিক

    উন্নয়ন ফি নিজের কাছে রাখায় ঢাবি কর্মকর্তার পদাবনতি

    পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রায় ১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    করোনা সংক্রমণ বাড়ায় অনলাইন ক্লাসে ফিরছে বুয়েট

    ইঞ্জিন কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে রেল ভবনে দুদকের অভিযান

    শিক্ষক হত্যা, স্কুলের অ্যাডহক কমিটি স্থগিত

    ব্যাংক এশিয়ার ৫৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান

    খেলা শেষে নদীতে গোসলে নেমে ২ কিশোরের মৃত্যু

    সরকারি খাতে ঋণ বাড়িয়ে বেসরকারিতে কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সাংবাদিকের প্রেমে পড়ে স্ত্রীকে ছেড়েছেন বায়ার্ন কোচ

    কলম্বো বন্দরের সরকারি টার্মিনালে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশি জাহাজ

    খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আভাস