বায়ুদূষণ
যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। যানবাহন, শিল্পকারখানা ও ইটের ভাটায় কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া বিভিন্ন ধরনের পার্টিকুলেট ম্যাটার, ধূলিকণা, সিসা, কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎস, যা প্রতিনিয়তই দূষিত করছে বায়ু। রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ
থেকে শুরু করে অফিস-আদালত এবং ঘরে ব্যবহৃত এসি, মশার কয়েলের বিষাক্ত ধোঁয়া–সবই বায়ুদূষণের উৎস।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
বায়ুদূষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করা, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, অ্যালার্জি অন্যতম।
রোগ
দীর্ঘ মেয়াদে বায়ুদূষণ ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিস রোগের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া বায়ুদূষণ বিভিন্ন চর্মরোগও তৈরি করতে পারে।
শব্দদূষণ
যেসব উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে আমাদের কানের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা-ই শব্দদূষণ। যেমন যানবাহনের উচ্চ মাত্রার হর্ন, মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ,
মাইকের উচ্চ শব্দ, ভবন নির্মাণের শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, কারখানা থেকে নির্গত উচ্চ শব্দ দূষণের জন্য দায়ী। উচ্চ শব্দ হাসপাতাল ও
বাড়িতে থাকা বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের জন্য গুরুতর একটি সমস্যা।
রোগ
শব্দদূষণের কারণে মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর কারণে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ ও স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ আওয়াজ শুনলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং একপর্যায়ে বধির হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
মাটিদূষণ
বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জিনিস মাটিতে মিশে মাটি দূষিত হয়। রাসায়নিক সার, কীটনাশক, বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ মাটিকে দূষিত করছে। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে, দূষিত মাটিতে উৎপন্ন খাদ্যদ্রব্য খেয়ে মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। এ কারণেই মাটিদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শাকসবজিতে লেগে থাকা দূষিত মাটি বমি বমি ভাব, ক্লান্তি ও মাথা ধরার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া দূষিত মাটি ত্বকে লাগলে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঘাসহ বিভিন্ন চর্মরোগ হতে পারে।
রোগ
বালাইনাশক ও রাসায়নিক সারের মধ্যে থাকা বেনজিন, ক্রমিয়াম এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের জন্য ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পারদ ও সাইক্লোডাইনসের জন্য হতে পারে কিডনি ও লিভারের রোগ।
পানিদূষণ
কলকারখানার বর্জ্য, মানুষের বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা, মৃত জীবজন্তু, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক পানিতে মিশে পানি দূষিত হয়।
রোগ
পয়োনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকলে মল দিয়ে খাওয়ার পানি দূষিত হলে ডায়রিয়া, কলেরা প্রভৃতি রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া দূষিত পানি টাইফয়েড, হেপাটাইটিসজনিত জন্ডিস ও নানা চর্মরোগের জন্য দায়ী। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় হতে পারে আর্সেনিকের প্রভাবে বিভিন্ন রোগ।
খাদ্যদূষণ
ফলমূল, শাকসবজি, মাছসহ বিভিন্ন খাবারে কীটনাশক, প্রিজারভেটিভ হিসেবে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, যেমন ফরমালিন, কারবাইড, কৃত্রিম রং ইত্যাদি মেশালে খাদ্য দূষিত হয়। এ ছাড়া খাবারে অনিরাপদ পানির ব্যবহারও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
খাদ্যদূষণের কারণে অন্ত্রের নানা রোগসহ, লিভার, কিডনির কার্যক্ষমতাও হ্রাস পায়। গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। কখনো কখনো এসব কারণে ক্যানসারও হতে পারে।
সংক্রামক রোগ
দূষিত পরিবেশ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ সব রকম জীবাণুর উৎস। দূষিত খাবার, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। দূষিত পরিবেশের কারণে টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, বসন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, পরিবেশগত কারণে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সংক্রামক রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
তাপমাত্রার প্রভাব
পরিবেশদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর। ফলে অতিউচ্চ বা নিম্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশে উচ্চ তাপমাত্রার জন্য হিট ক্র্যাম্প থেকে হিট স্ট্রোক খুব সাধারণ একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছে। হিট স্ট্রোক মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। পরিবেশকে প্রেক্ষাপট থেকে বাদ দিয়ে জীবন ধারণের কথা কল্পনা করা অসম্ভব। ফলে নিজেদের সুস্থ, স্বাভাবিক, নিরাপদ জীবনের স্বার্থে পরিবেশের প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, দূষিত পরিবেশ রোগের আঁতুড়ঘর।
লেখক: মেডিকেল অফিসার, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, ঢাকা

ফার্মেসির তাকে সাজানো হাজারো পণ্যের ভিড়ে লেবেল দেখে আমরা অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কোথাও লেখা এসপিএফ ১৫, কোথাও ৩০ বা ৫০+, ব্রড স্পেকট্রাম, ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট কিংবা ‘রিফ-সেফ’। কিন্তু ত্বক সুরক্ষার পাশাপাশি এই সানস্ক্রিনগুলো আমাদের পরিবেশ, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাণিকুলের ওপর কী প্রভাব...
২ ঘণ্টা আগে
বর্ষার টানা বৃষ্টি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাধা তৈরি করে। তেমনি শখের বারান্দা বা ছাদবাগানের সবুজ গাছগুলোর জন্য তা সব সময় আনন্দের বার্তা না-ও আনতে পারে। বর্ষাকালে ইনডোর প্ল্যান্টের পাতা হলুদ হয়ে যায়, কাণ্ড ঝুলে পড়ে এবং টব থেকে একধরনের ভ্যাপসা বা পচা গন্ধ বের হয়।
৪ ঘণ্টা আগে
পেটের অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ কমানো অনেকের জন্যই কঠিন কাজ। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক উপাদানে তৈরি স্যুপ যুক্ত করলে এই প্রক্রিয়া অনেক সহজ হতে পারে। পুষ্টিকর এবং কম ক্যালরির স্যুপ শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে আপনাকে দ্রুত স্লিম হতে সাহায্য করবে।
৬ ঘণ্টা আগে
দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে বসে আমরা কত খাবারই না অপচয় করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই খাদ্য অপচয় রোধে আইন করে পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স? বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা সুপারমার্কেটগুলোর ভালো খাবার ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে