
তাঁকে বাঁচাতে সব রকম চেষ্টাই করা হয়েছে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ওপারে চলে গেলেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার। গত রাতেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রুবেলকে শেষ বিদায় জানান বন্ধু, সতীর্থসহ দেশের ক্রিকেটাররা।
সাধারণত খেলা না থাকলে শেরেবাংলার ফ্লাড লাইট জ্বলে না। গতকাল জ্বলে উঠেছে রুবেলের জানাজার জন্য। প্রয়াত ক্রিকেটারকে বিদায় জানাতে ছুটে এসেছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার ও কোচরা। রুবেলের ভক্ত, স্বজন, সংগঠকেরাও এসেছেন। এ সময় শোকের চিহ্ন ফুটে উঠেছে মাশরাফি-মুশফিকদের চোখেমুখে। তাঁদের কাঁধে চড়েই শেষবারের মতো শেরেবাংলায় এসেছেন রুবেল।
ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আম্পায়ার, বিসিবি পরিচালক, স্টেডিয়ামে কর্মরত কর্মী, পৃষ্ঠপোষক, প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্মকর্তারাও ছুটে আসেন রুবেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সাইরেন বাজিয়ে যেমন স্টেডিয়ামে ঢুকেছে লাশবাহী গাড়ি; তেমনি সাইরেন বাজিয়েই প্রস্থান হলো রুবেলকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। মাঝের সময়টায় মিরপুরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
জানাজা শেষে রাতেই রুবেলকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বনানী কবরস্থানে। রুবেলের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মাতমটা যেন বেড়ে গেল কয়েকগুণ। জানাজা শেষে রুবেলের স্মৃতিচারণ করে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খান বলেছেন, ‘একটা ভালো মানুষের যেসব গুণ থাকা দরকার, রুবেলের সব ছিল। উদাহরণ দেওয়ার মতো একজন মানুষকে আজ (মঙ্গলবার) আমরা হারালাম।’
রুবেলকে শেষবার মাঠে দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে। বিপিএলের ওই মৌসুমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে খেলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচটাও ছিল এই মিরপুরেই; ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৪০ বছর বয়সী রুবেল বাংলাদেশ দলের হয়ে পাঁচটি ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যাট হাতে করেন ২৬ রান। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭২টি ম্যাচে ৫৫০টির বেশি উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
রুবেলের বাঁচার যুদ্ধ শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চে। ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে তাঁর। লম্বা সময় ধরে লড়াই করছিলেন তিনি। অস্ত্রোপচার করানোর পর প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। গত জানুয়ারিতে পুরোনো ব্যাধিতে নতুন করে আক্রান্ত হন রুবেল। পুনরায় শুরু হয় কেমোথেরাপি। গত মাসের মাঝামাঝিতে তাঁকে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যন্ত নেওয়া হয় রুবেলকে। পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল দেশের ক্রিকেটের প্রায় সব মহল। চিকিৎসার ব্যয় তাতে কিছুটা হলেও সংকুলান হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে গেলেন রুবেল। অথচ আগামী সপ্তাহে আবার কেমোথেরাপি নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
দেশের ক্রিকেটে মঙ্গলবার দিনটা ছিল বড় একটা শোকের দিন। সকালে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে পেসার সামিউর রহমান সামির মৃত্যুর খবর এসেছে। ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সামি। সেই ধাক্কাটা সামাল দেওয়ার আগেই রুবেলের মৃত্যুর সংবাদ। জাতীয় দলের সাবেক দুই ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে।

নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম ওয়ানডেতে হারকে পাশ কাটিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিল উইকেটের আচরণ। যেখানে মানিয়ে নিতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর সাইফ হাসান-লিটন দাস জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
১৯ মিনিট আগে
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হারার কারণে একটু বেশিই তোপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের ২৪৭ রান তাড়া করতে পারেনি স্বাগতিকেরা; অলআউট হয়েছে ২২১ রানে। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন শরীফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেল এই পেসারকে।
১ ঘণ্টা আগে
প্রথম ওয়ানডে শুরুর আগে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে একদফা নাটক হয়ে গেছে। প্রথমে একাদশে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে দেখা যায়নি মোস্তাফিজুর রহমানকে। বাঁ হাতি পেসারের চোটের কারণে একাদশ পরিবর্তন আনে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এরপর থেকেই ভক্তদের কৌতুহল—কেমন আছেন মোস্তাফিজ।
২ ঘণ্টা আগে
মাঠের লড়াইয়ে একজন অতন্দ্র প্রহরী, অন্যজনের চেষ্টা করেন দুর্ভেদ্য দেয়াল রূপে আবির্ভূত হওয়ার। একজন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে নির্দেশনা দিচ্ছেন, অন্যজন প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিতে লড়ছেন সামনে থেকে। কাকতালীয়ভাবে তাঁরা যমজ বোন।
৩ ঘণ্টা আগে