
জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। একই সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়িয়ে সম্মান না দেখানো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা জাতীয় সংসদের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন—সেসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের নাম সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার শামিল।’
উদীচী নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়িয়ে সম্মান না দেখানোও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় সংগীত শুধু একটি গান নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ এবং জাতিসত্তার প্রতীক। এ ধরনের আচরণ দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও জাতির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
উদীচী নেতারা বলেন, জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ধরনের অবমাননার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করার চেষ্টা এবং জাতীয় প্রতীকসমূহের অবমাননার বিরুদ্ধে দেশের সব প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।