Ajker Patrika

উত্তরণ

লোন বাতিল বা স্থগিত করার নির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানতে চাওয়া যায়

ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩৮
লোন বাতিল বা স্থগিত করার নির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানতে চাওয়া যায়

প্রশ্ন: একটি স্কুটি কেনার জন্য ঋণের আবেদন করেছি। আমি একটি স্কুলে পড়াই এবং বেতনসংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আট মাস ধরে আমাকে এই লোনের জন্য ঘোরানো হচ্ছে। আমি ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়েছি। আমরা তিন বোন এবং আমার বাবা নেই। আমার মা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। লোনের গ্যারান্টার কাকে করা হলে আমার লোন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে? এই বিষয়ে আমার কি উচিত কোনো আইনি সহায়তা নেওয়া?

সানজিদা মনীষা, গাজীপুর

উত্তর: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আট মাস ধরে একই লোনের আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হলে বিষয়টি লিখিতভাবে পরিষ্কার করা উচিত। শুধু ‘গ্যারান্টার বদলান’ বলেই আপনাকে বারবার ঘোরানো হচ্ছে কি না, সেটিও জানা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোক্তা-অর্থায়নকাঠামো অনুযায়ী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিশোধের ক্ষমতা, ক্রেডিট ঝুঁকি এবং নিজস্ব নথিভুক্ত যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করতে হয়। অর্থাৎ, কোন গ্যারান্টার দিলে লোন নিশ্চিত হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্রেডিট পলিসির ওপর নির্ভর করে।

আপনার ক্ষেত্রে কাকে গ্যারান্টার করা তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে? আপনার মা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁর যদি নিয়মিত পেনশন থাকে এবং তার প্রমাণ দেখানো গেলে তিনি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত মানুষের ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টার পলিসিতে সমস্যা হতে পারে।

আপনার জন্য সাধারণত এমন গ্যারান্টার বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যিনি—

  • নিয়মিত ও প্রমাণযোগ্য মাসিক আয় করেন
  • চাকরি স্থায়ী
  • বয়স প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমার মধ্যে
  • আইবিতে কোনো খেলাপির রেকর্ড নেই
  • নিজের নামে অতিরিক্ত ঋণ নেই
  • বেতন বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী পরিশোধের ক্ষমতা দেখাতে পারেন
  • প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও পরিষ্কারভাবে দেখাতে পারেন।

তবে আগে ব্যাংককে লিখিতভাবে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের বর্তমান পলিসি অনুযায়ী আপনার প্রস্তাবিত গ্যারান্টারের কোন যোগ্যতা লাগবে।

আট মাস ধরে ঘোরানোর বিষয়টি প্রসঙ্গে আমি দৃঢ়ভাবে এগোতে বলব। আপনি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বা লোন অফিসারকে একটি লিখিত আবেদনপত্র দিয়ে জানতে চান, আপনার লোন আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা কী, কোনো ডকুমেন্ট বা যোগ্যতার কমতি আছে কি না। এ ছাড়া লোন বাতিল বা স্থগিত করার নির্দিষ্ট কারণও লিখিতভাবে জানতে চান। আপনার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর, সাবমিশনের তারিখ এবং আগে জমা দেওয়া ডকুমেন্টের তালিকা তৈরি রাখবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহকসেবা-বিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিতে অভিযোগ জানাতে হয়। সমাধান না হলে তাদের অভিযোগ সেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে উত্থাপন করা যায়। এরপরও সমাধান না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা কেন্দ্রে (সিআইপিসি) অভিযোগ করা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইপিসির বর্তমান যোগাযোগ—হটলাইন: ১৬২৩৬, ই-মেইল: [email protected]। এ ছাড়া অনলাইন অভিযোগও করা যায়।

এই মুহূর্তে আইনি সহায়তা নেওয়ার বা সরাসরি মামলা করার চেয়ে প্রথমে লিখিতভাবে কারণ জানতে চাওয়া বেশি যুক্তিসংগত।

পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত