প্রমিতি কিবরিয়া ইসলাম

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে পুরুষদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। যদিও বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের সমান অধিকার দেয় এবং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর আইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক ভূমিকায় নারীকে এখনো কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা—এসব মিলিয়ে বাংলাদেশের পুরুষেরা নারীকে অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, যেখানে নারীর স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হয়।
পুরুষদের মধ্যে কেন নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার মনোভাব দেখা যায়? এর উত্তরটি সহজ নয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতার সমস্যা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা একটি জটিল বিষয়। বাংলাদেশে নারীর অবস্থান, তার অধিকার, তার স্বাধীনতা এবং সম্মান—এসব বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কিত। নারীকে দমিয়ে রাখা, পুরুষদের অধীনস্থ বা নিচু অবস্থানে রাখার প্রবণতা— এটি শুধু বাংলাদেশেই বিদ্যমান তা নয়, কম বেশি সব দেশেই দেখা যায়।
যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
সচেতনতার অভাব
পুরুষেরা সাধারণত নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আলাদা করে ভাবেন না বা গুরুত্ব দেন না। পুরুষেরা ঠিকই একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে জানে, যেমন: বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম? এর একটি সরল ব্যাখ্যা হতে পারে, হয় তারা বিপরীত লিঙ্গকে সম্মান দিতে জানে না, অথবা সমান যোগ্য বিবেচনায় সেটি ভেবেই দেখে না। এটি এক ধরনের অবহেলা বা উপেক্ষা হতে পারে।
পুরুষেরা জানে কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, তা সে সামাজিক পরিবেশে হোক, কর্মক্ষেত্রে হোক বা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে হোক। অজুহাত হিসেবে পুরুষেরা যদি দাবি করে যে, তারা কখনো নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে ভাবেনি বা জানে না, তাহলে তারা আসলে নারীদের প্রতি তাদের আচরণ, সম্পর্কে ক্ষেত্রে সমান না ভাবা এবং সাধারণত নারী–পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে যে বৈষম্য বিদ্যমান, তা নিয়ে চিন্তা বা আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এই প্রতিক্রিয়া একটি সমাজের অবচেতন নৈতিক চর্চার প্রতিফলন, যেখানে নারীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশিত বা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয় না।
নারী ও পুরুষের কাজ আলাদা
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা দায়িত্ব এড়ানোর জন্য পুরুষদের আরেকটি সাধারণ কৌশল হলো নারীদের প্রশংসা করা! যেমন: নারীরা এসব কাজে অনেক ভালো। এটি বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ (রান্না, সূচিকর্ম, ঘর গোছানো ইত্যাদি), সন্তান লালন–পালন এবং আবেগ সম্পর্কিত কাজে। সমাজে ছেলেদের আবেগবর্জিত কঠোর বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়ার চল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের আবেগী, কোমল হৃদয়ের বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের বাহানা আসলে সূক্ষ্মভাবে ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকাকেই শক্তিশালী করে।
পুরুষেরা বলে, নারীরা শিশুদের দেখাশোনায় তাদের চেয়ে ভালো। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে নারীর প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে যা ঘটছে, তা হলো এক ধরনের চালাকি—প্রশংসার ছদ্মবেশে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা বশীভূত করে রাখার একটি মোক্ষম কৌশল হিসেবে সাধারণত ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কর্তৃত্ববাদীরা নিজস্ব ধারণা প্রচার করে। ওই জনগোষ্ঠীর আচরণ, মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার ভান করে। ঠিক একই ভাবে পুরুষেরাও হয় নারীদের সম্পর্কে নিজেদের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় অথবা নারীদের বুঝতে অক্ষমতার দোহাই দেয়।
কখনো কখনো প্রশংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করা হয়। প্রকৃত প্রশংসা থেকে এটি আলাদা। কারণ এটি সাধারণত কাউকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা এমনভাবে কাজ করে যা প্রশংসাকারী ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়। এটা এমন এক ধরনের প্রশংসা যা খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করে এবং যার ফলে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে বিশেষ, প্রশংসিত বা স্বীকৃত বলে ভাবতে পারে। তার অজান্তেই এর মাধ্যমে প্রশংসাকারী ব্যক্তি গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করে।
এই কৌশলটি শুধু নারীদের ওপর দায়িত্বের বোঝা চাপায় না, বরং তাদের সময় ও শক্তি মূল্যহীন করে তোলে। পরিবর্তে, এই কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডগুলোতে পুরুষের অংশগ্রহণ না থাকাকে যুক্তিসংগত করে তোলা হয়। পুরুষেরা দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে, নারীদের ওপর আরও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়।
শর্তসাপেক্ষে সম্মান
কিছু পুরুষ শুধু তখনই নারীদের সম্মান করবে যখন তাদের মা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ (কর্মস্থল ইত্যাদি) বলবে যে, তাদের এটি করা উচিত। এই ধরনের সম্মানের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকে না। বরং পরিণতির ভয় থেকে করা হয়।
সমাজে সাধারণত, নারীদের সম্মান করতে শেখানো হয় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে। অর্থাৎ, পুরুষদের ওপর সামাজিক বা পারিবারিক চাপ থাকে, এর সঙ্গে নারীর মর্যাদা অনুধাবনের কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে, তাদের মুখের কথা এবং কাজে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। নারীদের সম্মান করে বলে দাবি করলেও, তাদের আচরণে সব সময় তা প্রকাশ পায় না। তারা মূলত শাস্তি (আইনগত) বা বিচার (পাবলিক জাজমেন্ট) এড়ানোর জন্য সামাজিক চর্চা মেনে চলে মাত্র। তারা সমতা এবং সম্মানের গুরুত্বকে মানসিকভাবে গভীর ও অর্থপূর্ণভাবে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়।
ঐতিহাসিক অস্বীকৃতি এবং সমাজের অবজ্ঞা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, পুরুষদের বর্তমান লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনকে অস্বীকার করা। কিছু পুরুষ এখনো বিশ্বাস করে যে, নারীদের সম্মান করার প্রয়োজন নেই বা লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা অতিরঞ্জিত বা নারীদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। যখন নারীদের সমান করে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তোলা হয়, তখন তারা প্রায়ই নারীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে খাটো করে দেখে অথবা নারীর প্রতি অসম্মানকে সমাজের একটি সমস্যা হিসেবেও অগ্রাহ্য করে।
নারীদের অধিকার অর্জনের সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অস্বীকৃতির বিষয়টি বোঝার জন্য, নিম্নলিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলকগুলোর সময়রেখা বিবেচনা করা যেতে পারে—
১৮৪৮–সেনেকা ফলস কনভেনশন: প্রথম নারীদের অধিকার সম্মেলন, যেখানে নারীদের ভোটাধিকার এবং সমান অধিকার দাবি করা হয়।
১৯১৯–আমেরিকার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার অর্জন।
১৯৪৫–জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার জাতিসংঘের সনদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৬৩–যুক্তরাষ্ট্র: নারী-পুরুষের সমান বেতন দেওয়ার আইন পাস হয়।
১৯৭২–যুক্তরাষ্ট্র: শিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়।
১৯৭৫–জাতিসংঘের নারীদের প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ: নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হয়।
২০১০–আইসিডব্লিউআর (সিইডিএডব্লিউ): নারী অধিকারের জন্য বৈশ্বিক সংবিধান, যা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাধ্য করে।
এই মাইলফলকগুলো নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে অসংখ্য সংগ্রামের ফলস্বরূপ, যা বর্তমানে সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে, কিছু পুরুষ এখনো এসব পরিবর্তনকে অস্বীকার করে, যা এই সংগ্রামের অগ্রগতি এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে তাদের গভীরভাবে অবহিত না হওয়ারই ইঙ্গিত।
এই আইনগত অগ্রগতির পরেও, অনেক পুরুষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্বীকার করতে চায় না। নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে সাধিত পরিবর্তনগুলোকে অস্বীকার বা হালকা করে দেখিয়ে, পুরুষেরা তাদের নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে চায়।
এ ধরনের অস্বীকৃতি পুরুষদের যে সুবিধা দেয়—
পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের মনে যে বাধা, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো—পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে পুরুষদের ক্ষমতার উচ্চস্থানে বসিয়ে, নারীদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আইন, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুশাসনে পুরুষদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল।
সামাজিকীকরণ: লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা
ছোটবেলা থেকে ছেলে-মেয়েদের কঠোর লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা অনুসরণ করতে শেখানো হয়, যা ছেলেদের আধিপত্যশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং আবেগহীন হতে উদ্বুদ্ধ করে—যা সাধারণত ‘প্রথাগত পৌরুষ’–এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, মেয়েদের কোমল এবং সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করা হয়। মনোবিজ্ঞানী মাইকেল কিমেল তাঁর বই ম্যানহুড ইন আমেরিকা–তে যুক্তি দেন, এই লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশাগুলো পুরুষদের ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা এমন পুরুষত্বের মডেল অনুসরণ করে যা নারীদের দুর্বল বা অক্ষম হিসেবে দেখায়।
এই ধরনের লিঙ্গভিত্তিক নিদর্শনগুলো মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং এমনকি পরিবারের মধ্যে প্রচারিত হয়, যা নারীদের কম সম্মানযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আলফা মেল’ নামে এমন এক পুরুষের ধারণা দেওয়া, যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং অন্যদের, বিশেষত নারীদের, স্বাধীনতা সংকুচিত করে। এই সাংস্কৃতিক মডেল অনেক পুরুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, যা তাদের নারীদের সমান হিসেবে সম্মান করতে বাধা দেয়।
ক্ষমতা এবং বিশেষাধিকার হারানোর ভয়
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার আরেকটি কারণ হলো, পুরুষদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করে। লিঙ্গ সমতার আন্দোলনের উত্থান এই ক্ষমতার কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার ফলে কিছু পুরুষ পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। এই ভয় বিভিন্ন আচরণে প্রতিফলিত হয়, যেমন ম্যানস্প্লেনিং (পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি), গ্যাসলাইটিং, অথবা সরাসরি আক্রমণ, যা আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: নিরাপত্তাহীনতা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অভাব
কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে না পারার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে। যেমন: নিরাপত্তাহীনতা অথবা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) অভাব। অনেক পুরুষকে আবেগ বা মানবিক দুর্বলতা দমন করতে শেখানো হয়, যার ফলে তারা সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে চলতে অক্ষম। এই আবেগ শূন্যতা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে, কারণ তারা নিজেদের অক্ষমতা বা হুমকির সম্মুখীন হলে নিরাপত্তাহীনতা থেকে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
মিসোজিনি এবং অধিকারবোধ
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের যে সমস্যা, তার মূল কারণ হলো মিসোজিনি বা নারীদের প্রতি ঘৃণা বা সংস্কার। মিসোজিনি শুধু প্রকাশ্য ঘৃণার বিষয় নয়, এটি আরও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন নারীদের অর্জনকে তুচ্ছ করা, তাদের অবজ্ঞা করা।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)–এর গবেষণা দেখিয়েছে, যারা মিসোজিনিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে, তারা নারীদের কম সক্ষম, কম অধিকারের যোগ্য এবং তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের জন্য নিজেরাই দায়ী বলে মনে করে। কারণ পুরুষদের মনোভাব হলো, নারীর ওপর তাদের কিছু বিশেষাধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে তারা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে পুরুষদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। যদিও বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের সমান অধিকার দেয় এবং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর আইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক ভূমিকায় নারীকে এখনো কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা—এসব মিলিয়ে বাংলাদেশের পুরুষেরা নারীকে অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, যেখানে নারীর স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হয়।
পুরুষদের মধ্যে কেন নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার মনোভাব দেখা যায়? এর উত্তরটি সহজ নয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতার সমস্যা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা একটি জটিল বিষয়। বাংলাদেশে নারীর অবস্থান, তার অধিকার, তার স্বাধীনতা এবং সম্মান—এসব বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কিত। নারীকে দমিয়ে রাখা, পুরুষদের অধীনস্থ বা নিচু অবস্থানে রাখার প্রবণতা— এটি শুধু বাংলাদেশেই বিদ্যমান তা নয়, কম বেশি সব দেশেই দেখা যায়।
যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
সচেতনতার অভাব
পুরুষেরা সাধারণত নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আলাদা করে ভাবেন না বা গুরুত্ব দেন না। পুরুষেরা ঠিকই একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে জানে, যেমন: বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম? এর একটি সরল ব্যাখ্যা হতে পারে, হয় তারা বিপরীত লিঙ্গকে সম্মান দিতে জানে না, অথবা সমান যোগ্য বিবেচনায় সেটি ভেবেই দেখে না। এটি এক ধরনের অবহেলা বা উপেক্ষা হতে পারে।
পুরুষেরা জানে কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, তা সে সামাজিক পরিবেশে হোক, কর্মক্ষেত্রে হোক বা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে হোক। অজুহাত হিসেবে পুরুষেরা যদি দাবি করে যে, তারা কখনো নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে ভাবেনি বা জানে না, তাহলে তারা আসলে নারীদের প্রতি তাদের আচরণ, সম্পর্কে ক্ষেত্রে সমান না ভাবা এবং সাধারণত নারী–পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে যে বৈষম্য বিদ্যমান, তা নিয়ে চিন্তা বা আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এই প্রতিক্রিয়া একটি সমাজের অবচেতন নৈতিক চর্চার প্রতিফলন, যেখানে নারীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশিত বা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয় না।
নারী ও পুরুষের কাজ আলাদা
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা দায়িত্ব এড়ানোর জন্য পুরুষদের আরেকটি সাধারণ কৌশল হলো নারীদের প্রশংসা করা! যেমন: নারীরা এসব কাজে অনেক ভালো। এটি বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ (রান্না, সূচিকর্ম, ঘর গোছানো ইত্যাদি), সন্তান লালন–পালন এবং আবেগ সম্পর্কিত কাজে। সমাজে ছেলেদের আবেগবর্জিত কঠোর বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়ার চল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের আবেগী, কোমল হৃদয়ের বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের বাহানা আসলে সূক্ষ্মভাবে ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকাকেই শক্তিশালী করে।
পুরুষেরা বলে, নারীরা শিশুদের দেখাশোনায় তাদের চেয়ে ভালো। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে নারীর প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে যা ঘটছে, তা হলো এক ধরনের চালাকি—প্রশংসার ছদ্মবেশে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা বশীভূত করে রাখার একটি মোক্ষম কৌশল হিসেবে সাধারণত ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কর্তৃত্ববাদীরা নিজস্ব ধারণা প্রচার করে। ওই জনগোষ্ঠীর আচরণ, মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার ভান করে। ঠিক একই ভাবে পুরুষেরাও হয় নারীদের সম্পর্কে নিজেদের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় অথবা নারীদের বুঝতে অক্ষমতার দোহাই দেয়।
কখনো কখনো প্রশংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করা হয়। প্রকৃত প্রশংসা থেকে এটি আলাদা। কারণ এটি সাধারণত কাউকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা এমনভাবে কাজ করে যা প্রশংসাকারী ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়। এটা এমন এক ধরনের প্রশংসা যা খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করে এবং যার ফলে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে বিশেষ, প্রশংসিত বা স্বীকৃত বলে ভাবতে পারে। তার অজান্তেই এর মাধ্যমে প্রশংসাকারী ব্যক্তি গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করে।
এই কৌশলটি শুধু নারীদের ওপর দায়িত্বের বোঝা চাপায় না, বরং তাদের সময় ও শক্তি মূল্যহীন করে তোলে। পরিবর্তে, এই কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডগুলোতে পুরুষের অংশগ্রহণ না থাকাকে যুক্তিসংগত করে তোলা হয়। পুরুষেরা দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে, নারীদের ওপর আরও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়।
শর্তসাপেক্ষে সম্মান
কিছু পুরুষ শুধু তখনই নারীদের সম্মান করবে যখন তাদের মা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ (কর্মস্থল ইত্যাদি) বলবে যে, তাদের এটি করা উচিত। এই ধরনের সম্মানের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকে না। বরং পরিণতির ভয় থেকে করা হয়।
সমাজে সাধারণত, নারীদের সম্মান করতে শেখানো হয় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে। অর্থাৎ, পুরুষদের ওপর সামাজিক বা পারিবারিক চাপ থাকে, এর সঙ্গে নারীর মর্যাদা অনুধাবনের কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে, তাদের মুখের কথা এবং কাজে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। নারীদের সম্মান করে বলে দাবি করলেও, তাদের আচরণে সব সময় তা প্রকাশ পায় না। তারা মূলত শাস্তি (আইনগত) বা বিচার (পাবলিক জাজমেন্ট) এড়ানোর জন্য সামাজিক চর্চা মেনে চলে মাত্র। তারা সমতা এবং সম্মানের গুরুত্বকে মানসিকভাবে গভীর ও অর্থপূর্ণভাবে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়।
ঐতিহাসিক অস্বীকৃতি এবং সমাজের অবজ্ঞা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, পুরুষদের বর্তমান লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনকে অস্বীকার করা। কিছু পুরুষ এখনো বিশ্বাস করে যে, নারীদের সম্মান করার প্রয়োজন নেই বা লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা অতিরঞ্জিত বা নারীদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। যখন নারীদের সমান করে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তোলা হয়, তখন তারা প্রায়ই নারীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে খাটো করে দেখে অথবা নারীর প্রতি অসম্মানকে সমাজের একটি সমস্যা হিসেবেও অগ্রাহ্য করে।
নারীদের অধিকার অর্জনের সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অস্বীকৃতির বিষয়টি বোঝার জন্য, নিম্নলিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলকগুলোর সময়রেখা বিবেচনা করা যেতে পারে—
১৮৪৮–সেনেকা ফলস কনভেনশন: প্রথম নারীদের অধিকার সম্মেলন, যেখানে নারীদের ভোটাধিকার এবং সমান অধিকার দাবি করা হয়।
১৯১৯–আমেরিকার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার অর্জন।
১৯৪৫–জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার জাতিসংঘের সনদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৬৩–যুক্তরাষ্ট্র: নারী-পুরুষের সমান বেতন দেওয়ার আইন পাস হয়।
১৯৭২–যুক্তরাষ্ট্র: শিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়।
১৯৭৫–জাতিসংঘের নারীদের প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ: নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হয়।
২০১০–আইসিডব্লিউআর (সিইডিএডব্লিউ): নারী অধিকারের জন্য বৈশ্বিক সংবিধান, যা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাধ্য করে।
এই মাইলফলকগুলো নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে অসংখ্য সংগ্রামের ফলস্বরূপ, যা বর্তমানে সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে, কিছু পুরুষ এখনো এসব পরিবর্তনকে অস্বীকার করে, যা এই সংগ্রামের অগ্রগতি এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে তাদের গভীরভাবে অবহিত না হওয়ারই ইঙ্গিত।
এই আইনগত অগ্রগতির পরেও, অনেক পুরুষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্বীকার করতে চায় না। নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে সাধিত পরিবর্তনগুলোকে অস্বীকার বা হালকা করে দেখিয়ে, পুরুষেরা তাদের নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে চায়।
এ ধরনের অস্বীকৃতি পুরুষদের যে সুবিধা দেয়—
পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের মনে যে বাধা, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো—পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে পুরুষদের ক্ষমতার উচ্চস্থানে বসিয়ে, নারীদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আইন, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুশাসনে পুরুষদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল।
সামাজিকীকরণ: লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা
ছোটবেলা থেকে ছেলে-মেয়েদের কঠোর লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা অনুসরণ করতে শেখানো হয়, যা ছেলেদের আধিপত্যশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং আবেগহীন হতে উদ্বুদ্ধ করে—যা সাধারণত ‘প্রথাগত পৌরুষ’–এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, মেয়েদের কোমল এবং সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করা হয়। মনোবিজ্ঞানী মাইকেল কিমেল তাঁর বই ম্যানহুড ইন আমেরিকা–তে যুক্তি দেন, এই লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশাগুলো পুরুষদের ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা এমন পুরুষত্বের মডেল অনুসরণ করে যা নারীদের দুর্বল বা অক্ষম হিসেবে দেখায়।
এই ধরনের লিঙ্গভিত্তিক নিদর্শনগুলো মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং এমনকি পরিবারের মধ্যে প্রচারিত হয়, যা নারীদের কম সম্মানযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আলফা মেল’ নামে এমন এক পুরুষের ধারণা দেওয়া, যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং অন্যদের, বিশেষত নারীদের, স্বাধীনতা সংকুচিত করে। এই সাংস্কৃতিক মডেল অনেক পুরুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, যা তাদের নারীদের সমান হিসেবে সম্মান করতে বাধা দেয়।
ক্ষমতা এবং বিশেষাধিকার হারানোর ভয়
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার আরেকটি কারণ হলো, পুরুষদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করে। লিঙ্গ সমতার আন্দোলনের উত্থান এই ক্ষমতার কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার ফলে কিছু পুরুষ পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। এই ভয় বিভিন্ন আচরণে প্রতিফলিত হয়, যেমন ম্যানস্প্লেনিং (পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি), গ্যাসলাইটিং, অথবা সরাসরি আক্রমণ, যা আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: নিরাপত্তাহীনতা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অভাব
কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে না পারার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে। যেমন: নিরাপত্তাহীনতা অথবা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) অভাব। অনেক পুরুষকে আবেগ বা মানবিক দুর্বলতা দমন করতে শেখানো হয়, যার ফলে তারা সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে চলতে অক্ষম। এই আবেগ শূন্যতা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে, কারণ তারা নিজেদের অক্ষমতা বা হুমকির সম্মুখীন হলে নিরাপত্তাহীনতা থেকে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
মিসোজিনি এবং অধিকারবোধ
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের যে সমস্যা, তার মূল কারণ হলো মিসোজিনি বা নারীদের প্রতি ঘৃণা বা সংস্কার। মিসোজিনি শুধু প্রকাশ্য ঘৃণার বিষয় নয়, এটি আরও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন নারীদের অর্জনকে তুচ্ছ করা, তাদের অবজ্ঞা করা।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)–এর গবেষণা দেখিয়েছে, যারা মিসোজিনিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে, তারা নারীদের কম সক্ষম, কম অধিকারের যোগ্য এবং তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের জন্য নিজেরাই দায়ী বলে মনে করে। কারণ পুরুষদের মনোভাব হলো, নারীর ওপর তাদের কিছু বিশেষাধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে তারা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।
প্রমিতি কিবরিয়া ইসলাম

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে পুরুষদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। যদিও বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের সমান অধিকার দেয় এবং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর আইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক ভূমিকায় নারীকে এখনো কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা—এসব মিলিয়ে বাংলাদেশের পুরুষেরা নারীকে অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, যেখানে নারীর স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হয়।
পুরুষদের মধ্যে কেন নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার মনোভাব দেখা যায়? এর উত্তরটি সহজ নয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতার সমস্যা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা একটি জটিল বিষয়। বাংলাদেশে নারীর অবস্থান, তার অধিকার, তার স্বাধীনতা এবং সম্মান—এসব বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কিত। নারীকে দমিয়ে রাখা, পুরুষদের অধীনস্থ বা নিচু অবস্থানে রাখার প্রবণতা— এটি শুধু বাংলাদেশেই বিদ্যমান তা নয়, কম বেশি সব দেশেই দেখা যায়।
যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
সচেতনতার অভাব
পুরুষেরা সাধারণত নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আলাদা করে ভাবেন না বা গুরুত্ব দেন না। পুরুষেরা ঠিকই একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে জানে, যেমন: বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম? এর একটি সরল ব্যাখ্যা হতে পারে, হয় তারা বিপরীত লিঙ্গকে সম্মান দিতে জানে না, অথবা সমান যোগ্য বিবেচনায় সেটি ভেবেই দেখে না। এটি এক ধরনের অবহেলা বা উপেক্ষা হতে পারে।
পুরুষেরা জানে কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, তা সে সামাজিক পরিবেশে হোক, কর্মক্ষেত্রে হোক বা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে হোক। অজুহাত হিসেবে পুরুষেরা যদি দাবি করে যে, তারা কখনো নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে ভাবেনি বা জানে না, তাহলে তারা আসলে নারীদের প্রতি তাদের আচরণ, সম্পর্কে ক্ষেত্রে সমান না ভাবা এবং সাধারণত নারী–পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে যে বৈষম্য বিদ্যমান, তা নিয়ে চিন্তা বা আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এই প্রতিক্রিয়া একটি সমাজের অবচেতন নৈতিক চর্চার প্রতিফলন, যেখানে নারীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশিত বা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয় না।
নারী ও পুরুষের কাজ আলাদা
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা দায়িত্ব এড়ানোর জন্য পুরুষদের আরেকটি সাধারণ কৌশল হলো নারীদের প্রশংসা করা! যেমন: নারীরা এসব কাজে অনেক ভালো। এটি বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ (রান্না, সূচিকর্ম, ঘর গোছানো ইত্যাদি), সন্তান লালন–পালন এবং আবেগ সম্পর্কিত কাজে। সমাজে ছেলেদের আবেগবর্জিত কঠোর বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়ার চল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের আবেগী, কোমল হৃদয়ের বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের বাহানা আসলে সূক্ষ্মভাবে ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকাকেই শক্তিশালী করে।
পুরুষেরা বলে, নারীরা শিশুদের দেখাশোনায় তাদের চেয়ে ভালো। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে নারীর প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে যা ঘটছে, তা হলো এক ধরনের চালাকি—প্রশংসার ছদ্মবেশে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা বশীভূত করে রাখার একটি মোক্ষম কৌশল হিসেবে সাধারণত ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কর্তৃত্ববাদীরা নিজস্ব ধারণা প্রচার করে। ওই জনগোষ্ঠীর আচরণ, মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার ভান করে। ঠিক একই ভাবে পুরুষেরাও হয় নারীদের সম্পর্কে নিজেদের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় অথবা নারীদের বুঝতে অক্ষমতার দোহাই দেয়।
কখনো কখনো প্রশংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করা হয়। প্রকৃত প্রশংসা থেকে এটি আলাদা। কারণ এটি সাধারণত কাউকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা এমনভাবে কাজ করে যা প্রশংসাকারী ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়। এটা এমন এক ধরনের প্রশংসা যা খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করে এবং যার ফলে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে বিশেষ, প্রশংসিত বা স্বীকৃত বলে ভাবতে পারে। তার অজান্তেই এর মাধ্যমে প্রশংসাকারী ব্যক্তি গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করে।
এই কৌশলটি শুধু নারীদের ওপর দায়িত্বের বোঝা চাপায় না, বরং তাদের সময় ও শক্তি মূল্যহীন করে তোলে। পরিবর্তে, এই কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডগুলোতে পুরুষের অংশগ্রহণ না থাকাকে যুক্তিসংগত করে তোলা হয়। পুরুষেরা দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে, নারীদের ওপর আরও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়।
শর্তসাপেক্ষে সম্মান
কিছু পুরুষ শুধু তখনই নারীদের সম্মান করবে যখন তাদের মা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ (কর্মস্থল ইত্যাদি) বলবে যে, তাদের এটি করা উচিত। এই ধরনের সম্মানের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকে না। বরং পরিণতির ভয় থেকে করা হয়।
সমাজে সাধারণত, নারীদের সম্মান করতে শেখানো হয় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে। অর্থাৎ, পুরুষদের ওপর সামাজিক বা পারিবারিক চাপ থাকে, এর সঙ্গে নারীর মর্যাদা অনুধাবনের কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে, তাদের মুখের কথা এবং কাজে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। নারীদের সম্মান করে বলে দাবি করলেও, তাদের আচরণে সব সময় তা প্রকাশ পায় না। তারা মূলত শাস্তি (আইনগত) বা বিচার (পাবলিক জাজমেন্ট) এড়ানোর জন্য সামাজিক চর্চা মেনে চলে মাত্র। তারা সমতা এবং সম্মানের গুরুত্বকে মানসিকভাবে গভীর ও অর্থপূর্ণভাবে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়।
ঐতিহাসিক অস্বীকৃতি এবং সমাজের অবজ্ঞা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, পুরুষদের বর্তমান লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনকে অস্বীকার করা। কিছু পুরুষ এখনো বিশ্বাস করে যে, নারীদের সম্মান করার প্রয়োজন নেই বা লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা অতিরঞ্জিত বা নারীদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। যখন নারীদের সমান করে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তোলা হয়, তখন তারা প্রায়ই নারীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে খাটো করে দেখে অথবা নারীর প্রতি অসম্মানকে সমাজের একটি সমস্যা হিসেবেও অগ্রাহ্য করে।
নারীদের অধিকার অর্জনের সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অস্বীকৃতির বিষয়টি বোঝার জন্য, নিম্নলিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলকগুলোর সময়রেখা বিবেচনা করা যেতে পারে—
১৮৪৮–সেনেকা ফলস কনভেনশন: প্রথম নারীদের অধিকার সম্মেলন, যেখানে নারীদের ভোটাধিকার এবং সমান অধিকার দাবি করা হয়।
১৯১৯–আমেরিকার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার অর্জন।
১৯৪৫–জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার জাতিসংঘের সনদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৬৩–যুক্তরাষ্ট্র: নারী-পুরুষের সমান বেতন দেওয়ার আইন পাস হয়।
১৯৭২–যুক্তরাষ্ট্র: শিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়।
১৯৭৫–জাতিসংঘের নারীদের প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ: নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হয়।
২০১০–আইসিডব্লিউআর (সিইডিএডব্লিউ): নারী অধিকারের জন্য বৈশ্বিক সংবিধান, যা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাধ্য করে।
এই মাইলফলকগুলো নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে অসংখ্য সংগ্রামের ফলস্বরূপ, যা বর্তমানে সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে, কিছু পুরুষ এখনো এসব পরিবর্তনকে অস্বীকার করে, যা এই সংগ্রামের অগ্রগতি এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে তাদের গভীরভাবে অবহিত না হওয়ারই ইঙ্গিত।
এই আইনগত অগ্রগতির পরেও, অনেক পুরুষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্বীকার করতে চায় না। নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে সাধিত পরিবর্তনগুলোকে অস্বীকার বা হালকা করে দেখিয়ে, পুরুষেরা তাদের নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে চায়।
এ ধরনের অস্বীকৃতি পুরুষদের যে সুবিধা দেয়—
পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের মনে যে বাধা, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো—পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে পুরুষদের ক্ষমতার উচ্চস্থানে বসিয়ে, নারীদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আইন, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুশাসনে পুরুষদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল।
সামাজিকীকরণ: লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা
ছোটবেলা থেকে ছেলে-মেয়েদের কঠোর লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা অনুসরণ করতে শেখানো হয়, যা ছেলেদের আধিপত্যশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং আবেগহীন হতে উদ্বুদ্ধ করে—যা সাধারণত ‘প্রথাগত পৌরুষ’–এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, মেয়েদের কোমল এবং সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করা হয়। মনোবিজ্ঞানী মাইকেল কিমেল তাঁর বই ম্যানহুড ইন আমেরিকা–তে যুক্তি দেন, এই লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশাগুলো পুরুষদের ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা এমন পুরুষত্বের মডেল অনুসরণ করে যা নারীদের দুর্বল বা অক্ষম হিসেবে দেখায়।
এই ধরনের লিঙ্গভিত্তিক নিদর্শনগুলো মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং এমনকি পরিবারের মধ্যে প্রচারিত হয়, যা নারীদের কম সম্মানযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আলফা মেল’ নামে এমন এক পুরুষের ধারণা দেওয়া, যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং অন্যদের, বিশেষত নারীদের, স্বাধীনতা সংকুচিত করে। এই সাংস্কৃতিক মডেল অনেক পুরুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, যা তাদের নারীদের সমান হিসেবে সম্মান করতে বাধা দেয়।
ক্ষমতা এবং বিশেষাধিকার হারানোর ভয়
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার আরেকটি কারণ হলো, পুরুষদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করে। লিঙ্গ সমতার আন্দোলনের উত্থান এই ক্ষমতার কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার ফলে কিছু পুরুষ পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। এই ভয় বিভিন্ন আচরণে প্রতিফলিত হয়, যেমন ম্যানস্প্লেনিং (পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি), গ্যাসলাইটিং, অথবা সরাসরি আক্রমণ, যা আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: নিরাপত্তাহীনতা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অভাব
কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে না পারার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে। যেমন: নিরাপত্তাহীনতা অথবা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) অভাব। অনেক পুরুষকে আবেগ বা মানবিক দুর্বলতা দমন করতে শেখানো হয়, যার ফলে তারা সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে চলতে অক্ষম। এই আবেগ শূন্যতা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে, কারণ তারা নিজেদের অক্ষমতা বা হুমকির সম্মুখীন হলে নিরাপত্তাহীনতা থেকে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
মিসোজিনি এবং অধিকারবোধ
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের যে সমস্যা, তার মূল কারণ হলো মিসোজিনি বা নারীদের প্রতি ঘৃণা বা সংস্কার। মিসোজিনি শুধু প্রকাশ্য ঘৃণার বিষয় নয়, এটি আরও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন নারীদের অর্জনকে তুচ্ছ করা, তাদের অবজ্ঞা করা।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)–এর গবেষণা দেখিয়েছে, যারা মিসোজিনিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে, তারা নারীদের কম সক্ষম, কম অধিকারের যোগ্য এবং তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের জন্য নিজেরাই দায়ী বলে মনে করে। কারণ পুরুষদের মনোভাব হলো, নারীর ওপর তাদের কিছু বিশেষাধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে তারা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে পুরুষদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। যদিও বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের সমান অধিকার দেয় এবং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর আইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক ভূমিকায় নারীকে এখনো কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা—এসব মিলিয়ে বাংলাদেশের পুরুষেরা নারীকে অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, যেখানে নারীর স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হয়।
পুরুষদের মধ্যে কেন নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার মনোভাব দেখা যায়? এর উত্তরটি সহজ নয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতার সমস্যা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা একটি জটিল বিষয়। বাংলাদেশে নারীর অবস্থান, তার অধিকার, তার স্বাধীনতা এবং সম্মান—এসব বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কিত। নারীকে দমিয়ে রাখা, পুরুষদের অধীনস্থ বা নিচু অবস্থানে রাখার প্রবণতা— এটি শুধু বাংলাদেশেই বিদ্যমান তা নয়, কম বেশি সব দেশেই দেখা যায়।
যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
সচেতনতার অভাব
পুরুষেরা সাধারণত নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আলাদা করে ভাবেন না বা গুরুত্ব দেন না। পুরুষেরা ঠিকই একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে জানে, যেমন: বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম? এর একটি সরল ব্যাখ্যা হতে পারে, হয় তারা বিপরীত লিঙ্গকে সম্মান দিতে জানে না, অথবা সমান যোগ্য বিবেচনায় সেটি ভেবেই দেখে না। এটি এক ধরনের অবহেলা বা উপেক্ষা হতে পারে।
পুরুষেরা জানে কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, তা সে সামাজিক পরিবেশে হোক, কর্মক্ষেত্রে হোক বা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে হোক। অজুহাত হিসেবে পুরুষেরা যদি দাবি করে যে, তারা কখনো নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে ভাবেনি বা জানে না, তাহলে তারা আসলে নারীদের প্রতি তাদের আচরণ, সম্পর্কে ক্ষেত্রে সমান না ভাবা এবং সাধারণত নারী–পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে যে বৈষম্য বিদ্যমান, তা নিয়ে চিন্তা বা আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এই প্রতিক্রিয়া একটি সমাজের অবচেতন নৈতিক চর্চার প্রতিফলন, যেখানে নারীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশিত বা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয় না।
নারী ও পুরুষের কাজ আলাদা
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা দায়িত্ব এড়ানোর জন্য পুরুষদের আরেকটি সাধারণ কৌশল হলো নারীদের প্রশংসা করা! যেমন: নারীরা এসব কাজে অনেক ভালো। এটি বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ (রান্না, সূচিকর্ম, ঘর গোছানো ইত্যাদি), সন্তান লালন–পালন এবং আবেগ সম্পর্কিত কাজে। সমাজে ছেলেদের আবেগবর্জিত কঠোর বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়ার চল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের আবেগী, কোমল হৃদয়ের বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের বাহানা আসলে সূক্ষ্মভাবে ঐতিহ্যগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকাকেই শক্তিশালী করে।
পুরুষেরা বলে, নারীরা শিশুদের দেখাশোনায় তাদের চেয়ে ভালো। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে নারীর প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে যা ঘটছে, তা হলো এক ধরনের চালাকি—প্রশংসার ছদ্মবেশে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা বশীভূত করে রাখার একটি মোক্ষম কৌশল হিসেবে সাধারণত ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কর্তৃত্ববাদীরা নিজস্ব ধারণা প্রচার করে। ওই জনগোষ্ঠীর আচরণ, মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার ভান করে। ঠিক একই ভাবে পুরুষেরাও হয় নারীদের সম্পর্কে নিজেদের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় অথবা নারীদের বুঝতে অক্ষমতার দোহাই দেয়।
কখনো কখনো প্রশংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করা হয়। প্রকৃত প্রশংসা থেকে এটি আলাদা। কারণ এটি সাধারণত কাউকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা এমনভাবে কাজ করে যা প্রশংসাকারী ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়। এটা এমন এক ধরনের প্রশংসা যা খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করে এবং যার ফলে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে বিশেষ, প্রশংসিত বা স্বীকৃত বলে ভাবতে পারে। তার অজান্তেই এর মাধ্যমে প্রশংসাকারী ব্যক্তি গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করে।
এই কৌশলটি শুধু নারীদের ওপর দায়িত্বের বোঝা চাপায় না, বরং তাদের সময় ও শক্তি মূল্যহীন করে তোলে। পরিবর্তে, এই কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডগুলোতে পুরুষের অংশগ্রহণ না থাকাকে যুক্তিসংগত করে তোলা হয়। পুরুষেরা দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে, নারীদের ওপর আরও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়।
শর্তসাপেক্ষে সম্মান
কিছু পুরুষ শুধু তখনই নারীদের সম্মান করবে যখন তাদের মা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ (কর্মস্থল ইত্যাদি) বলবে যে, তাদের এটি করা উচিত। এই ধরনের সম্মানের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকে না। বরং পরিণতির ভয় থেকে করা হয়।
সমাজে সাধারণত, নারীদের সম্মান করতে শেখানো হয় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে। অর্থাৎ, পুরুষদের ওপর সামাজিক বা পারিবারিক চাপ থাকে, এর সঙ্গে নারীর মর্যাদা অনুধাবনের কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে, তাদের মুখের কথা এবং কাজে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। নারীদের সম্মান করে বলে দাবি করলেও, তাদের আচরণে সব সময় তা প্রকাশ পায় না। তারা মূলত শাস্তি (আইনগত) বা বিচার (পাবলিক জাজমেন্ট) এড়ানোর জন্য সামাজিক চর্চা মেনে চলে মাত্র। তারা সমতা এবং সম্মানের গুরুত্বকে মানসিকভাবে গভীর ও অর্থপূর্ণভাবে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়।
ঐতিহাসিক অস্বীকৃতি এবং সমাজের অবজ্ঞা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, পুরুষদের বর্তমান লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনকে অস্বীকার করা। কিছু পুরুষ এখনো বিশ্বাস করে যে, নারীদের সম্মান করার প্রয়োজন নেই বা লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা অতিরঞ্জিত বা নারীদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। যখন নারীদের সমান করে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তোলা হয়, তখন তারা প্রায়ই নারীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে খাটো করে দেখে অথবা নারীর প্রতি অসম্মানকে সমাজের একটি সমস্যা হিসেবেও অগ্রাহ্য করে।
নারীদের অধিকার অর্জনের সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অস্বীকৃতির বিষয়টি বোঝার জন্য, নিম্নলিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলকগুলোর সময়রেখা বিবেচনা করা যেতে পারে—
১৮৪৮–সেনেকা ফলস কনভেনশন: প্রথম নারীদের অধিকার সম্মেলন, যেখানে নারীদের ভোটাধিকার এবং সমান অধিকার দাবি করা হয়।
১৯১৯–আমেরিকার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার অর্জন।
১৯৪৫–জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র: নারী ও পুরুষের সমান অধিকার জাতিসংঘের সনদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৬৩–যুক্তরাষ্ট্র: নারী-পুরুষের সমান বেতন দেওয়ার আইন পাস হয়।
১৯৭২–যুক্তরাষ্ট্র: শিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়।
১৯৭৫–জাতিসংঘের নারীদের প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ: নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হয়।
২০১০–আইসিডব্লিউআর (সিইডিএডব্লিউ): নারী অধিকারের জন্য বৈশ্বিক সংবিধান, যা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাধ্য করে।
এই মাইলফলকগুলো নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে অসংখ্য সংগ্রামের ফলস্বরূপ, যা বর্তমানে সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে, কিছু পুরুষ এখনো এসব পরিবর্তনকে অস্বীকার করে, যা এই সংগ্রামের অগ্রগতি এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে তাদের গভীরভাবে অবহিত না হওয়ারই ইঙ্গিত।
এই আইনগত অগ্রগতির পরেও, অনেক পুরুষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্বীকার করতে চায় না। নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে সাধিত পরিবর্তনগুলোকে অস্বীকার বা হালকা করে দেখিয়ে, পুরুষেরা তাদের নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে চায়।
এ ধরনের অস্বীকৃতি পুরুষদের যে সুবিধা দেয়—
পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের মনে যে বাধা, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো—পিতৃতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে পুরুষদের ক্ষমতার উচ্চস্থানে বসিয়ে, নারীদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আইন, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুশাসনে পুরুষদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল।
সামাজিকীকরণ: লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা
ছোটবেলা থেকে ছেলে-মেয়েদের কঠোর লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা অনুসরণ করতে শেখানো হয়, যা ছেলেদের আধিপত্যশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং আবেগহীন হতে উদ্বুদ্ধ করে—যা সাধারণত ‘প্রথাগত পৌরুষ’–এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, মেয়েদের কোমল এবং সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করা হয়। মনোবিজ্ঞানী মাইকেল কিমেল তাঁর বই ম্যানহুড ইন আমেরিকা–তে যুক্তি দেন, এই লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশাগুলো পুরুষদের ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা এমন পুরুষত্বের মডেল অনুসরণ করে যা নারীদের দুর্বল বা অক্ষম হিসেবে দেখায়।
এই ধরনের লিঙ্গভিত্তিক নিদর্শনগুলো মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং এমনকি পরিবারের মধ্যে প্রচারিত হয়, যা নারীদের কম সম্মানযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আলফা মেল’ নামে এমন এক পুরুষের ধারণা দেওয়া, যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং অন্যদের, বিশেষত নারীদের, স্বাধীনতা সংকুচিত করে। এই সাংস্কৃতিক মডেল অনেক পুরুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, যা তাদের নারীদের সমান হিসেবে সম্মান করতে বাধা দেয়।
ক্ষমতা এবং বিশেষাধিকার হারানোর ভয়
নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করার আরেকটি কারণ হলো, পুরুষদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করে। লিঙ্গ সমতার আন্দোলনের উত্থান এই ক্ষমতার কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যার ফলে কিছু পুরুষ পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। এই ভয় বিভিন্ন আচরণে প্রতিফলিত হয়, যেমন ম্যানস্প্লেনিং (পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি), গ্যাসলাইটিং, অথবা সরাসরি আক্রমণ, যা আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: নিরাপত্তাহীনতা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অভাব
কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে না পারার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে। যেমন: নিরাপত্তাহীনতা অথবা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) অভাব। অনেক পুরুষকে আবেগ বা মানবিক দুর্বলতা দমন করতে শেখানো হয়, যার ফলে তারা সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে চলতে অক্ষম। এই আবেগ শূন্যতা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে, কারণ তারা নিজেদের অক্ষমতা বা হুমকির সম্মুখীন হলে নিরাপত্তাহীনতা থেকে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
মিসোজিনি এবং অধিকারবোধ
নারীদের সম্মান করতে পুরুষদের যে সমস্যা, তার মূল কারণ হলো মিসোজিনি বা নারীদের প্রতি ঘৃণা বা সংস্কার। মিসোজিনি শুধু প্রকাশ্য ঘৃণার বিষয় নয়, এটি আরও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন নারীদের অর্জনকে তুচ্ছ করা, তাদের অবজ্ঞা করা।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)–এর গবেষণা দেখিয়েছে, যারা মিসোজিনিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে, তারা নারীদের কম সক্ষম, কম অধিকারের যোগ্য এবং তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের জন্য নিজেরাই দায়ী বলে মনে করে। কারণ পুরুষদের মনোভাব হলো, নারীর ওপর তাদের কিছু বিশেষাধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে তারা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছ
৩ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
৪ ঘণ্টা আগে
পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন,
৫ ঘণ্টা আগে
বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
৬ ঘণ্টা আগেমুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছিলেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
মা, বাবা, ভাই, ভাবি এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে মাহমুদার পরিবার। সেখানে আর কেউ ছবি তোলে না; তাই ফটোগ্রাফি নিয়ে তাঁর যে জগৎ, সেটি পুরোপুরি নিজের হাতে গড়া। একাকী এই পথচলাই যেন তাঁকে আরও বিশেষ মনোযোগী করে তুলেছে, আরও অনুপ্রাণিত করেছে।
শুরুটা খুব সাধারণ, তারপরও বিশেষ
‘সুন্দর মুহূর্ত ধরে রাখতে ভালো লাগে’—এমনই এক সাধারণ অনুভূতি থেকে মাহমুদা ছবি তুলতে শুরু করেন। সময়কে কেউ থামাতে পারে না। কিন্তু ছবি সেই সময়ের ছাপকে ধরে রাখতে পারে। এই টান থেকে তাঁর ফটোগ্রাফির যাত্রা।
প্রথম ক্যামেরা? ক্যামেরা বলা যাবে না। কারণ, এখন পর্যন্ত তিনি মোবাইল ফোন দিয়েই ছবি তোলেন। এই মোবাইল যেন তাঁর হাতে এক জাদুর বাক্স।

স্বীকৃতির প্রথম ধাপ
মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা তাঁর ছবি প্রথমবার জায়গা করে নেয় ‘তরুণেরাই পরিবর্তনের প্রভাবক’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে। জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল প্রদর্শনী। সেখান থেকে তিনি পেয়েছেন একটি সার্টিফিকেট। এটি তাঁর কাছে শুধু একটি কাগজ নয়, নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সাহস।
অনলাইন প্রতিযোগিতায় তাঁর সাফল্য রয়েছে। ‘প্রাণোচ্ছ্বাস আত্মসেবা নয়, মানবসেবা’-এর ১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ফটোগ্রাফি কনটেস্টে তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন।

যেসব ছবি ছুঁয়ে যায়
প্রিয় ছবির কথা উঠলে তিনি স্মরণ করেন এই নভেম্বরের এক ভোরের স্মৃতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াশাঘেরা পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখেছিলেন, একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। চারদিকে কুয়াশা, ভোরের ঠান্ডা, নিস্তব্ধতা আর দুই বন্ধুর পথচলার মিষ্টি স্মৃতি। তিনি মোবাইল ফোনে মুহূর্তটাকে বন্দী করেছিলেন।
ভয়ের দিক
যে কাজ মানুষকে আনন্দ দেয়, সেটির পেছনেও ভয় থাকে। মাহমুদার ভয় খুব সাধারণ, কিন্তু বাস্তব। তা হলো, সব সময় অনুমতি নিয়ে ছবি তোলা যায় না। কেউ যদি বিরক্ত হয়! কেউ রাগ করলে? এসব মাঝে মাঝে তাঁকে থামিয়ে দেয়।

নারী ফটোগ্রাফার হওয়ার বাড়তি চ্যালেঞ্জ
বাইরের মানুষ বাজে কথা না বললেও অনেক জায়গায় শুনতে হয়, মেয়ে হয়ে ছবি তুলছেন? বিষয়টি সবাই ভালো চোখে দেখে না। তার ওপর বিশেষ চ্যালেঞ্জ হলো, বাড়ির লোকজন এখনো জানেই না, তিনি ছবি তোলেন! তাই নিজের ভালোবাসার কাজটুকু তাঁকে চুপিচুপি, নিজের মতো করে করতে হয়।
পাখির ছবি, প্রকৃতির ছবি
মাহমুদার ভালো লাগে ল্যান্ডস্কেপ, স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ও পোর্ট্রেট। বারান্দায় এসে ডেকে ওঠা শালিক পাখিগুলো তাঁর ছবি তোলার নিয়মিত বিষয়। খেলা করতে করতে শালিকদের যে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গি, সেগুলো তিনি ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

অভাববোধ করেন একজন গাইডের
মাহমুদার বড় আফসোস, কেউ নেই যিনি বলে দেবেন, কোন ছবি ভালো, কোনটা নয়, কোথায় ভুল, কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়। একজন অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে পথনির্দেশনা পেলে তিনি বিশ্বাস করেন, গল্প আরও গভীরভাবে বলতে পারবেন।
স্বপ্ন এখনো চলমান
একদিন চাকরি হবে, ব্যস্ততা তখন নিশ্চয় বাড়বে। কিন্তু ছবি তোলার নেশা কখনো হারিয়ে যাবে না। সুযোগ পেলে নিজের একটি ক্যামেরা কিনবেন; তখন আরও দক্ষভাবে, আরও গল্পময় ছবি তুলবেন। নতুন নতুন গল্পের সন্ধানে পথচলা অব্যাহত থাকবে— মাহমুদার স্বপ্ন আপাতত এতটুকুই।

মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছিলেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
মা, বাবা, ভাই, ভাবি এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে মাহমুদার পরিবার। সেখানে আর কেউ ছবি তোলে না; তাই ফটোগ্রাফি নিয়ে তাঁর যে জগৎ, সেটি পুরোপুরি নিজের হাতে গড়া। একাকী এই পথচলাই যেন তাঁকে আরও বিশেষ মনোযোগী করে তুলেছে, আরও অনুপ্রাণিত করেছে।
শুরুটা খুব সাধারণ, তারপরও বিশেষ
‘সুন্দর মুহূর্ত ধরে রাখতে ভালো লাগে’—এমনই এক সাধারণ অনুভূতি থেকে মাহমুদা ছবি তুলতে শুরু করেন। সময়কে কেউ থামাতে পারে না। কিন্তু ছবি সেই সময়ের ছাপকে ধরে রাখতে পারে। এই টান থেকে তাঁর ফটোগ্রাফির যাত্রা।
প্রথম ক্যামেরা? ক্যামেরা বলা যাবে না। কারণ, এখন পর্যন্ত তিনি মোবাইল ফোন দিয়েই ছবি তোলেন। এই মোবাইল যেন তাঁর হাতে এক জাদুর বাক্স।

স্বীকৃতির প্রথম ধাপ
মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা তাঁর ছবি প্রথমবার জায়গা করে নেয় ‘তরুণেরাই পরিবর্তনের প্রভাবক’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে। জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল প্রদর্শনী। সেখান থেকে তিনি পেয়েছেন একটি সার্টিফিকেট। এটি তাঁর কাছে শুধু একটি কাগজ নয়, নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সাহস।
অনলাইন প্রতিযোগিতায় তাঁর সাফল্য রয়েছে। ‘প্রাণোচ্ছ্বাস আত্মসেবা নয়, মানবসেবা’-এর ১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ফটোগ্রাফি কনটেস্টে তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন।

যেসব ছবি ছুঁয়ে যায়
প্রিয় ছবির কথা উঠলে তিনি স্মরণ করেন এই নভেম্বরের এক ভোরের স্মৃতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াশাঘেরা পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখেছিলেন, একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। চারদিকে কুয়াশা, ভোরের ঠান্ডা, নিস্তব্ধতা আর দুই বন্ধুর পথচলার মিষ্টি স্মৃতি। তিনি মোবাইল ফোনে মুহূর্তটাকে বন্দী করেছিলেন।
ভয়ের দিক
যে কাজ মানুষকে আনন্দ দেয়, সেটির পেছনেও ভয় থাকে। মাহমুদার ভয় খুব সাধারণ, কিন্তু বাস্তব। তা হলো, সব সময় অনুমতি নিয়ে ছবি তোলা যায় না। কেউ যদি বিরক্ত হয়! কেউ রাগ করলে? এসব মাঝে মাঝে তাঁকে থামিয়ে দেয়।

নারী ফটোগ্রাফার হওয়ার বাড়তি চ্যালেঞ্জ
বাইরের মানুষ বাজে কথা না বললেও অনেক জায়গায় শুনতে হয়, মেয়ে হয়ে ছবি তুলছেন? বিষয়টি সবাই ভালো চোখে দেখে না। তার ওপর বিশেষ চ্যালেঞ্জ হলো, বাড়ির লোকজন এখনো জানেই না, তিনি ছবি তোলেন! তাই নিজের ভালোবাসার কাজটুকু তাঁকে চুপিচুপি, নিজের মতো করে করতে হয়।
পাখির ছবি, প্রকৃতির ছবি
মাহমুদার ভালো লাগে ল্যান্ডস্কেপ, স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ও পোর্ট্রেট। বারান্দায় এসে ডেকে ওঠা শালিক পাখিগুলো তাঁর ছবি তোলার নিয়মিত বিষয়। খেলা করতে করতে শালিকদের যে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গি, সেগুলো তিনি ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

অভাববোধ করেন একজন গাইডের
মাহমুদার বড় আফসোস, কেউ নেই যিনি বলে দেবেন, কোন ছবি ভালো, কোনটা নয়, কোথায় ভুল, কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়। একজন অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে পথনির্দেশনা পেলে তিনি বিশ্বাস করেন, গল্প আরও গভীরভাবে বলতে পারবেন।
স্বপ্ন এখনো চলমান
একদিন চাকরি হবে, ব্যস্ততা তখন নিশ্চয় বাড়বে। কিন্তু ছবি তোলার নেশা কখনো হারিয়ে যাবে না। সুযোগ পেলে নিজের একটি ক্যামেরা কিনবেন; তখন আরও দক্ষভাবে, আরও গল্পময় ছবি তুলবেন। নতুন নতুন গল্পের সন্ধানে পথচলা অব্যাহত থাকবে— মাহমুদার স্বপ্ন আপাতত এতটুকুই।

যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
০৯ মার্চ ২০২৫
প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
৪ ঘণ্টা আগে
পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন,
৫ ঘণ্টা আগে
বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
৬ ঘণ্টা আগেব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন

প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
নুসরাত জিনিয়া, মুন্সিগঞ্জ
উত্তর: দীর্ঘ ১৪ বছরের মানসিক-শারীরিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইঙ্গিতে যৌতুক দাবি করা—এ সবই আইনের চোখে অপরাধ।
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী
এ ক্ষেত্রে যা করতে পারেন, তা হলো:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার সুযোগ যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থাকে—
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ শাস্তির বিধান আছে।
যৌতুক মামলা করতে চাইলে কী হয়
যৌতুক মামলায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং প্রমাণ পেলে মামলাটি আদালতে যাবে।
সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য সুবিধা
ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের অধিকার
আপনি পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ মামলা এবং সন্তানের হেফাজত মামলা করতে পারবেন। ৮ বছর বয়সী সন্তানের হেফাজত সাধারণত মায়ের পক্ষেই যায়, যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচারক সিদ্ধান্ত নেন।
মামলা করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনার ভাববার বিষয়, নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা, স্বামীর সঙ্গে থাকা কি বাস্তবে সম্ভব, নাকি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে? আপনার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কি না? তবে সম্পূর্ণ প্রমাণ না থাকলেও প্রাথমিক তথ্য দিয়ে মামলা করা যায়।
নিরাপদ আশ্রয় বা জরুরি সহায়তা যদি আপনি বিপদের মুখে থাকেন—
তবে মামলা করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনার ভাববার বিষয় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা, স্বামীর সঙ্গে থাকা কি বাস্তবে সম্ভব, নাকি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে? আপনার কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আছে কি না?
তবে সম্পূর্ণ প্রমাণ না থাকলেও প্রাথমিক তথ্য দিয়ে মামলা করা যায়।
পরিস্থিতি অনুযায়ী মামলা করা আপনার প্রতি চলমান নির্যাতন এবং যৌতুকের চাপ থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
নুসরাত জিনিয়া, মুন্সিগঞ্জ
উত্তর: দীর্ঘ ১৪ বছরের মানসিক-শারীরিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইঙ্গিতে যৌতুক দাবি করা—এ সবই আইনের চোখে অপরাধ।
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী
এ ক্ষেত্রে যা করতে পারেন, তা হলো:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার সুযোগ যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থাকে—
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ শাস্তির বিধান আছে।
যৌতুক মামলা করতে চাইলে কী হয়
যৌতুক মামলায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত করবে এবং প্রমাণ পেলে মামলাটি আদালতে যাবে।
সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য সুবিধা
ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের অধিকার
আপনি পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ মামলা এবং সন্তানের হেফাজত মামলা করতে পারবেন। ৮ বছর বয়সী সন্তানের হেফাজত সাধারণত মায়ের পক্ষেই যায়, যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচারক সিদ্ধান্ত নেন।
মামলা করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনার ভাববার বিষয়, নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা, স্বামীর সঙ্গে থাকা কি বাস্তবে সম্ভব, নাকি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে? আপনার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কি না? তবে সম্পূর্ণ প্রমাণ না থাকলেও প্রাথমিক তথ্য দিয়ে মামলা করা যায়।
নিরাপদ আশ্রয় বা জরুরি সহায়তা যদি আপনি বিপদের মুখে থাকেন—
তবে মামলা করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনার ভাববার বিষয় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা, স্বামীর সঙ্গে থাকা কি বাস্তবে সম্ভব, নাকি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে? আপনার কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আছে কি না?
তবে সম্পূর্ণ প্রমাণ না থাকলেও প্রাথমিক তথ্য দিয়ে মামলা করা যায়।
পরিস্থিতি অনুযায়ী মামলা করা আপনার প্রতি চলমান নির্যাতন এবং যৌতুকের চাপ থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
০৯ মার্চ ২০২৫
মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছ
৩ ঘণ্টা আগে
পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন,
৫ ঘণ্টা আগে
বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
৬ ঘণ্টা আগেকেনিয়ার ‘ইঙ্কড সিস্টারহুড’
ফিচার ডেস্ক

পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন, পরিবর্তনের ডাক দেওয়া একটি নীরব আন্দোলন এই বাইক যাত্রা। এই মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে আছেন বিজ্ঞানী, আইনজীবী ও সরকারি কর্মকর্তারা। এই দলের নাম ইঙ্কড সিস্টারহুড। দলটি পরিণত হয়েছে সংহতি ও নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গভীর সৌহার্দ্যের প্রতীকে।
২০১৭ সালে নাইরোবির একটি রাইডিং স্কুল থেকে তাদের যাত্রা শুরু। এর সদস্যরা একটি বিশেষ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুধু পুরুষেরাই মোটরসাইকেল চালানো উপভোগ করেন, এমন ধারণা তাঁরা ভেঙে দিতে চান। এই দলের সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন কেনিয়া হাইকোর্টের আইনজীবী লুসি মোনিয়েন্যে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা শতাধিক সদস্যে উন্নীত হয়েছি। এই সংখ্যা বাড়ছে আবার কমছেও। কারণ, জীবনে নানা ঘটনা ঘটে।’ প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইঙ্কড সিস্টারহুড নামের এই ক্লাব কেনিয়ার প্রচলিত আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত। এই ক্লাবের মাধ্যমে নারীরা মোটরসাইকেল চালানোকে স্বাধীনতার প্রতীক এবং করপোরেট চাকরি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে গ্রহণ করছেন।
ইঙ্কড সিস্টারহুড শখের ক্লাব নয়, এটি কেনিয়ার নারীদের সামাজিক ও মানসিক সমর্থনেরও উৎস।
এর সদস্যরা সড়কের নিরাপত্তা প্রচার এবং দাতব্য রাইড, বৃক্ষরোপণ, স্মৃতি রাইড এবং লিঙ্গ-নিরপেক্ষ প্রচারণার মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহত্তর কমিউনিটিকে সহায়তা করছেন। তাঁদের মার্কেটিং পরামর্শক ও রাইডার আমান্ডা খামাতি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কারও সন্তান হলে বা কেউ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে, আমরা তাঁর পরিবারে যাই। শুধু বাইকিং নয়, আমরা একসঙ্গে সামাজিকতা করি এবং সময় কাটাই।’
কেউ কেউ এই শখকে ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের মাধ্যম হিসেবে দেখেন। সমাজবিজ্ঞানী কিসিয়ানান কেনানা বলেন, ‘মোটরসাইকেলে বসলে নিজেকে শক্তিশালী মনে হয়। সবাই ভাবে, রাইডিং শুধু পুরুষদের জন্য। আর আমি সেই নারীদের একজন, যারা দেখাতে এসেছে, এটা সবাই করতে পারে।’
পুরুষতান্ত্রিক ধারণার পরিবর্তন
কেনিয়ার নারীরা শিক্ষা, রাজনীতি ও খেলাধুলায় এগিয়ে এলেও লৈঙ্গিকভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এখনো। কেনিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে এখনো এমন গ্রাম আছে, যেগুলোর তিন মিটার গভীর কংক্রিটের ট্যাংক থেকে পানি নিতে হয়। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে সেই পানি সংগ্রহ করে নারীরা। উত্তর কেনিয়ার পরিবারগুলো জীবনধারণের সংস্থান করছে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে। এমন সামাজিক অবস্থায় এই নারী বাইকারদের যাত্রাকে উল্টো ধারারই বলতে হবে। এই বাইকারদের বড় বাধা কেনিয়ার সামাজিক পুরোনো স্টেরিওটাইপ ধারণা।
এ বিষয়ে কেনানা বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, একজন নারী বাইকার পুরুষদের চেয়ে ধীরে চালাবে, তারা লম্বা দূরত্বে যেতে পারবে না, তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এ ছাড়া তারা টমবয়, জেদি এবং শুধু অ্যাড্রেনালিন পছন্দ করে। হ্যাঁ, শেষ অংশটি হয়তো সত্যি হতে পারে, কিন্তু বাকিটা...।’
গত কয়েক বছরে ইঙ্কড সিস্টারহুডের সদস্যদের সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক ধারণায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ট্যাক্স পরামর্শক এবং মোটরবাইকপ্রেমী মাইকেল ওথিয়েনো বলেন, ‘নারীদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হলো, নারীরা আরও বেশি করে প্রশিক্ষণের সন্ধান করেন এবং এতে তাঁরা আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা হেলমেট খুললে তার নিচে ড্রেডলকস বা বিনুনি দেখা যাবে। এতে আপনি বুঝতে পারবেন, তাঁরা বাইকিং মন থেকে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা পুরুষের মতোই দক্ষ। কেউ কেউ তো আরও ভালো।’
সূত্র: আফ্রিকা নিউজ

পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন, পরিবর্তনের ডাক দেওয়া একটি নীরব আন্দোলন এই বাইক যাত্রা। এই মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে আছেন বিজ্ঞানী, আইনজীবী ও সরকারি কর্মকর্তারা। এই দলের নাম ইঙ্কড সিস্টারহুড। দলটি পরিণত হয়েছে সংহতি ও নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গভীর সৌহার্দ্যের প্রতীকে।
২০১৭ সালে নাইরোবির একটি রাইডিং স্কুল থেকে তাদের যাত্রা শুরু। এর সদস্যরা একটি বিশেষ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুধু পুরুষেরাই মোটরসাইকেল চালানো উপভোগ করেন, এমন ধারণা তাঁরা ভেঙে দিতে চান। এই দলের সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন কেনিয়া হাইকোর্টের আইনজীবী লুসি মোনিয়েন্যে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা শতাধিক সদস্যে উন্নীত হয়েছি। এই সংখ্যা বাড়ছে আবার কমছেও। কারণ, জীবনে নানা ঘটনা ঘটে।’ প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইঙ্কড সিস্টারহুড নামের এই ক্লাব কেনিয়ার প্রচলিত আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত। এই ক্লাবের মাধ্যমে নারীরা মোটরসাইকেল চালানোকে স্বাধীনতার প্রতীক এবং করপোরেট চাকরি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে গ্রহণ করছেন।
ইঙ্কড সিস্টারহুড শখের ক্লাব নয়, এটি কেনিয়ার নারীদের সামাজিক ও মানসিক সমর্থনেরও উৎস।
এর সদস্যরা সড়কের নিরাপত্তা প্রচার এবং দাতব্য রাইড, বৃক্ষরোপণ, স্মৃতি রাইড এবং লিঙ্গ-নিরপেক্ষ প্রচারণার মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহত্তর কমিউনিটিকে সহায়তা করছেন। তাঁদের মার্কেটিং পরামর্শক ও রাইডার আমান্ডা খামাতি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কারও সন্তান হলে বা কেউ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে, আমরা তাঁর পরিবারে যাই। শুধু বাইকিং নয়, আমরা একসঙ্গে সামাজিকতা করি এবং সময় কাটাই।’
কেউ কেউ এই শখকে ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের মাধ্যম হিসেবে দেখেন। সমাজবিজ্ঞানী কিসিয়ানান কেনানা বলেন, ‘মোটরসাইকেলে বসলে নিজেকে শক্তিশালী মনে হয়। সবাই ভাবে, রাইডিং শুধু পুরুষদের জন্য। আর আমি সেই নারীদের একজন, যারা দেখাতে এসেছে, এটা সবাই করতে পারে।’
পুরুষতান্ত্রিক ধারণার পরিবর্তন
কেনিয়ার নারীরা শিক্ষা, রাজনীতি ও খেলাধুলায় এগিয়ে এলেও লৈঙ্গিকভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এখনো। কেনিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে এখনো এমন গ্রাম আছে, যেগুলোর তিন মিটার গভীর কংক্রিটের ট্যাংক থেকে পানি নিতে হয়। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে সেই পানি সংগ্রহ করে নারীরা। উত্তর কেনিয়ার পরিবারগুলো জীবনধারণের সংস্থান করছে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে। এমন সামাজিক অবস্থায় এই নারী বাইকারদের যাত্রাকে উল্টো ধারারই বলতে হবে। এই বাইকারদের বড় বাধা কেনিয়ার সামাজিক পুরোনো স্টেরিওটাইপ ধারণা।
এ বিষয়ে কেনানা বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, একজন নারী বাইকার পুরুষদের চেয়ে ধীরে চালাবে, তারা লম্বা দূরত্বে যেতে পারবে না, তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এ ছাড়া তারা টমবয়, জেদি এবং শুধু অ্যাড্রেনালিন পছন্দ করে। হ্যাঁ, শেষ অংশটি হয়তো সত্যি হতে পারে, কিন্তু বাকিটা...।’
গত কয়েক বছরে ইঙ্কড সিস্টারহুডের সদস্যদের সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক ধারণায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ট্যাক্স পরামর্শক এবং মোটরবাইকপ্রেমী মাইকেল ওথিয়েনো বলেন, ‘নারীদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হলো, নারীরা আরও বেশি করে প্রশিক্ষণের সন্ধান করেন এবং এতে তাঁরা আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা হেলমেট খুললে তার নিচে ড্রেডলকস বা বিনুনি দেখা যাবে। এতে আপনি বুঝতে পারবেন, তাঁরা বাইকিং মন থেকে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা পুরুষের মতোই দক্ষ। কেউ কেউ তো আরও ভালো।’
সূত্র: আফ্রিকা নিউজ

যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
০৯ মার্চ ২০২৫
মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছ
৩ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
৪ ঘণ্টা আগে
বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
৬ ঘণ্টা আগেফিচার ডেস্ক

বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
চার্লস ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন-সম্পর্কিত একটি ফরাসি নিবন্ধ অনুবাদ করেছিলেন অ্যাডা লাভলেস। শুধু তা-ই নয়, এর সঙ্গে তিনি নিজস্ব নোটসও যুক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি বার্নোলি সংখ্যা গণনার জন্য একটি ধাপে ধাপে নির্দেশনা বা অ্যালগরিদম তৈরি করেন। তাঁর এই অ্যালগরিদম যেন মেশিন দিয়ে সম্পাদনা করা যায়, সেভাবে ডিজাইন হয়েছিল। এই অ্যালগরিদমকে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম হিসেবে গণ্য করা হয়। অ্যাডা লাভলেসই প্রথম উপলব্ধি করেন, অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনটি শুধু গাণিতিক হিসাব-নিকাশের বাইরেও বর্ণ, প্রতীক বা সাংকেতিক তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে। যেমন সংগীত। এই ধারণা ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক কম্পিউটিংয়ের।
অ্যাডার এই দূরদর্শী কাজের জন্য চার্লস ব্যাবেজ তাঁকে ‘দ্য এনসেনট্রেস অব নম্বরস’ বা সংখ্যার জাদুকর নামে আখ্যায়িত করেন।
তাঁর সম্মানে একটি প্রোগ্রামিং ভাষার নামকরণ করা হয় অ্যাডা বা আদা। এটি ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে তৈরি করা আধুনিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষার নাম। অ্যাডার জন্ম ১৮১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৮৫২ সালের ২৭ নভেম্বর।

বাবা কবি। তাই সন্তানেরাও কবিতা লিখবেন—এমন কোনো কথা নেই। বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রনের কন্যার বেলায়ও তেমন ঘটেনি। বায়রনের কন্যার নাম অ্যাডা লাভলেস। বাবার মতো রোমান্টিক কবি না হয়ে অ্যাডা বেছে নিয়েছিলেন প্রযুক্তির পথ। আর তার সূত্রপাত হয়েছিল অনুবাদ করা থেকে।
চার্লস ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন-সম্পর্কিত একটি ফরাসি নিবন্ধ অনুবাদ করেছিলেন অ্যাডা লাভলেস। শুধু তা-ই নয়, এর সঙ্গে তিনি নিজস্ব নোটসও যুক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি বার্নোলি সংখ্যা গণনার জন্য একটি ধাপে ধাপে নির্দেশনা বা অ্যালগরিদম তৈরি করেন। তাঁর এই অ্যালগরিদম যেন মেশিন দিয়ে সম্পাদনা করা যায়, সেভাবে ডিজাইন হয়েছিল। এই অ্যালগরিদমকে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম হিসেবে গণ্য করা হয়। অ্যাডা লাভলেসই প্রথম উপলব্ধি করেন, অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনটি শুধু গাণিতিক হিসাব-নিকাশের বাইরেও বর্ণ, প্রতীক বা সাংকেতিক তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে। যেমন সংগীত। এই ধারণা ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক কম্পিউটিংয়ের।
অ্যাডার এই দূরদর্শী কাজের জন্য চার্লস ব্যাবেজ তাঁকে ‘দ্য এনসেনট্রেস অব নম্বরস’ বা সংখ্যার জাদুকর নামে আখ্যায়িত করেন।
তাঁর সম্মানে একটি প্রোগ্রামিং ভাষার নামকরণ করা হয় অ্যাডা বা আদা। এটি ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে তৈরি করা আধুনিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষার নাম। অ্যাডার জন্ম ১৮১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৮৫২ সালের ২৭ নভেম্বর।

যেকোনো সম্পর্কের একটি মৌলিক দিক হলো—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান। তবে প্রাপ্য সম্মান (শুধু মৌখিক প্রশংসা নয়) পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন নারীরা। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পেশাগত পরিবেশেও হতে পারে।
০৯ মার্চ ২০২৫
মাহমুদা পারভীন। নামটি এখনো খুব পরিচিত নয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আরও উজ্জ্বল; তিনি একজন মুহূর্ত-শিকারি, ফটোগ্রাফার। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে গ্রুমিংও নয়; নিজের ভালোবাসা আর অনুভূতির টানে তিনি ধরে রাখতে শুরু করেছ
৩ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন: বিয়ের পর থেকে আমি নানা জুলুমের শিকার। বলতে গেলে, সব ধরনের জুলুম হয়েছে ১৪ বছর ধরে। আমাদের ৮ বছরের একটি সন্তান আছে। ইশারা-ইঙ্গিতে সাহায্য চায়। অর্থাৎ যৌতুক। সেটা পায় না বলে নানা কারণে রাগ প্রকাশ করে এবং চাপ দেয়। এর থেকে রক্ষা পেতে আমি কী করতে পারি?
৪ ঘণ্টা আগে
পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়া। মালভূমি ও পাহাড়ে ঘেরা এ দেশে বহু জাতির মানুষের বসবাস। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। এই শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে দলে দলে বাইকার জ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের গিয়ার এবং হেলমেট পরা নারী মোটরবাইকচালকদের। না, এটি দৃশ্যত কোনো আন্দোলন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বললেন,
৫ ঘণ্টা আগে