ইমতিয়াজ মাহমুদ

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে আজকাল বেগুনি রং পরতে দেখি সবাইকে। এখন তো সারা দুনিয়াতেই নারী দিবস পালিত হয়, জাতিসংঘেরও একটা নতুন শাখা হয়েছে ইউএন উইমেন নামে, ওরাও ঘটা করে উদ্যাপন করে। একেক বছর একেকটা থিম ঠিক করে, সেটা সামনে রেখে সবাই সচেতনতা তৈরি করতে নামে। এসবে কোনো দোষ নেই। তথাপি এসব উদ্যাপনে একটা অসম্পূর্ণতা যেন থেকেই যায় শ্রমজীবী নারীর অধিকার আদায়ের প্রসঙ্গে।
কেন নারী দিবসে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রসঙ্গটা আসবে? কেননা, শ্রমজীবী নারীর অধিকার ও অধিকার আদায়ে আন্দোলন প্রশ্নেই ৮ মার্চ তারিখটা নারী দিবস হিসেবে উদ্যাপনের সূচনা হয়। এই সূচনাটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, জাতিসংঘে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণারও অনেক অনেক বছর আগে।
সূচনাটা হয়েছিল আমেরিকার নিউইয়র্কে, তৈরি পোশাকশিল্পে ১৯০৯ সালে। তখন তৈরি পোশাকশিল্পে সেখানে কম বয়সী অনেক মেয়ে কাজ করত। কাজের পরিবেশ, মজুরি, ছুটি–সবকিছুই ছিল ভয়াবহ রকমের অমানবিক। সে সময় নিউইয়র্কের পোশাকশিল্পের ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকার ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না। তাদের দাবিদাওয়া গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনাও করা হতো না। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে কিশোরী, ১৬-১৭ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২-২৩ বছরের তরুণী ছিল তারা, একটা ধর্মঘট ডেকেছিল নভেম্বরের ২৩ তারিখ থেকে। ওদের মূল নেতা ক্লারা লেমলিখেরও বয়স ছিল ২৩ বছর মাত্র। সেই ধর্মঘট চলে ৩ মাস ধরে, এর মধ্যে ক্লারা লেমলিখকে ১৭ বার গ্রেপ্তার করা হয়, মেরে ওর পাঁজরের ৬টি হাড় ভেঙে দেওয়া হয়, চলে সব ধরনের নির্যাতন। কিন্তু সেই মেয়েরা ওদের দাবিতে অনড় ছিল, মাটি কামড়ে ধরে চালিয়ে যায় ধর্মঘট।
সেই ধর্মঘটের মুখে নারী শ্রমিকদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়। অর্থাৎ আংশিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ধর্মঘট। নারী শ্রমিকদের এই সাফল্য উদ্যাপন করার জন্য ১৯১০ সালের মার্চ মাসে মার্কিন সমাজতন্ত্রীরা পুরো আমেরিকায় শোভাযাত্রা করে। সেই বছরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রী নারী সম্মেলন। সেই সম্মেলনে জার্মানির কমিউনিস্ট নেতা ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিবছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে নারী দিবস উদ্যাপন করা হবে। ১৯১১ সালে ইউরোপের হাজার হাজার নারী দিনটি উদ্যাপন করে। কয়েক বছর পর, ১৯১৭ সালের ৮ মার্চে জারশাসিত রাশিয়ায় নারীরা ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট ডাকে। সে ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল খাদ্যসংকটের নিরসন করা ও যুদ্ধের অবসান ঘটানো। নারীদের এই ৮ মার্চের ধর্মঘটটি ছিল পরবর্তীকালে রুশ বিপ্লবের সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ইউরোপের অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশে ৮ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের আগপর্যন্ত ৮ মার্চ নারী দিবস উদ্যাপন করত মূলত সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা, আর তাদের সঙ্গে অন্যান্য নারীবাদী। আমেরিকা ও ইউরোপে নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গের পর দুনিয়াজুড়ে যখন ‘নারীবাদ’ একটি সর্বজনীন আন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময় অর্থাৎ ১৯৭৫ সালকে জাতিসংঘ নারী বর্ষ ঘোষণা করে। এর পরের ১০ বছরকে নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে ৮ মার্চ ঘোষিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং দুনিয়াজুড়ে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন হতে থাকে। নারী দশকের অর্জনের কথা আপনারা জানেন। সেই এক দশকে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৯ সালে নারী অধিকারের সনদ হিসেবে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের জন্য সিইডিএডব্লিউ কনভেনশন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
বৈষম্য থেকে নারীর মুক্তি তো অনেক দূরের কথা, নারীর যেসব অধিকার সবাই স্বীকার করেন, সেই অধিকারও কি আমাদের আদায় হয়েছে? এবার যখন আমরা বিশ্ব নারী দিবস পালন করলাম, তখন নিউইয়র্কের সেই কিশোরী শ্রমিকদের কথা একবার স্মরণ করে এই প্রশ্নটা করেছি কি? নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত আছে। এই যে আমাদের দেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের বেতন-ভাতা, কাজের পরিবেশ এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন, এটাও কি ১৯০৯ সালের নিউইয়র্কের কম বয়সী সেই মেয়েদের সংগ্রামের একটি ধারাবাহিকতা নয়?

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে আজকাল বেগুনি রং পরতে দেখি সবাইকে। এখন তো সারা দুনিয়াতেই নারী দিবস পালিত হয়, জাতিসংঘেরও একটা নতুন শাখা হয়েছে ইউএন উইমেন নামে, ওরাও ঘটা করে উদ্যাপন করে। একেক বছর একেকটা থিম ঠিক করে, সেটা সামনে রেখে সবাই সচেতনতা তৈরি করতে নামে। এসবে কোনো দোষ নেই। তথাপি এসব উদ্যাপনে একটা অসম্পূর্ণতা যেন থেকেই যায় শ্রমজীবী নারীর অধিকার আদায়ের প্রসঙ্গে।
কেন নারী দিবসে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রসঙ্গটা আসবে? কেননা, শ্রমজীবী নারীর অধিকার ও অধিকার আদায়ে আন্দোলন প্রশ্নেই ৮ মার্চ তারিখটা নারী দিবস হিসেবে উদ্যাপনের সূচনা হয়। এই সূচনাটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, জাতিসংঘে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণারও অনেক অনেক বছর আগে।
সূচনাটা হয়েছিল আমেরিকার নিউইয়র্কে, তৈরি পোশাকশিল্পে ১৯০৯ সালে। তখন তৈরি পোশাকশিল্পে সেখানে কম বয়সী অনেক মেয়ে কাজ করত। কাজের পরিবেশ, মজুরি, ছুটি–সবকিছুই ছিল ভয়াবহ রকমের অমানবিক। সে সময় নিউইয়র্কের পোশাকশিল্পের ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকার ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না। তাদের দাবিদাওয়া গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনাও করা হতো না। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে কিশোরী, ১৬-১৭ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২-২৩ বছরের তরুণী ছিল তারা, একটা ধর্মঘট ডেকেছিল নভেম্বরের ২৩ তারিখ থেকে। ওদের মূল নেতা ক্লারা লেমলিখেরও বয়স ছিল ২৩ বছর মাত্র। সেই ধর্মঘট চলে ৩ মাস ধরে, এর মধ্যে ক্লারা লেমলিখকে ১৭ বার গ্রেপ্তার করা হয়, মেরে ওর পাঁজরের ৬টি হাড় ভেঙে দেওয়া হয়, চলে সব ধরনের নির্যাতন। কিন্তু সেই মেয়েরা ওদের দাবিতে অনড় ছিল, মাটি কামড়ে ধরে চালিয়ে যায় ধর্মঘট।
সেই ধর্মঘটের মুখে নারী শ্রমিকদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়। অর্থাৎ আংশিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ধর্মঘট। নারী শ্রমিকদের এই সাফল্য উদ্যাপন করার জন্য ১৯১০ সালের মার্চ মাসে মার্কিন সমাজতন্ত্রীরা পুরো আমেরিকায় শোভাযাত্রা করে। সেই বছরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রী নারী সম্মেলন। সেই সম্মেলনে জার্মানির কমিউনিস্ট নেতা ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিবছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে নারী দিবস উদ্যাপন করা হবে। ১৯১১ সালে ইউরোপের হাজার হাজার নারী দিনটি উদ্যাপন করে। কয়েক বছর পর, ১৯১৭ সালের ৮ মার্চে জারশাসিত রাশিয়ায় নারীরা ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট ডাকে। সে ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল খাদ্যসংকটের নিরসন করা ও যুদ্ধের অবসান ঘটানো। নারীদের এই ৮ মার্চের ধর্মঘটটি ছিল পরবর্তীকালে রুশ বিপ্লবের সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ইউরোপের অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশে ৮ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের আগপর্যন্ত ৮ মার্চ নারী দিবস উদ্যাপন করত মূলত সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা, আর তাদের সঙ্গে অন্যান্য নারীবাদী। আমেরিকা ও ইউরোপে নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গের পর দুনিয়াজুড়ে যখন ‘নারীবাদ’ একটি সর্বজনীন আন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময় অর্থাৎ ১৯৭৫ সালকে জাতিসংঘ নারী বর্ষ ঘোষণা করে। এর পরের ১০ বছরকে নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে ৮ মার্চ ঘোষিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং দুনিয়াজুড়ে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন হতে থাকে। নারী দশকের অর্জনের কথা আপনারা জানেন। সেই এক দশকে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৯ সালে নারী অধিকারের সনদ হিসেবে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের জন্য সিইডিএডব্লিউ কনভেনশন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
বৈষম্য থেকে নারীর মুক্তি তো অনেক দূরের কথা, নারীর যেসব অধিকার সবাই স্বীকার করেন, সেই অধিকারও কি আমাদের আদায় হয়েছে? এবার যখন আমরা বিশ্ব নারী দিবস পালন করলাম, তখন নিউইয়র্কের সেই কিশোরী শ্রমিকদের কথা একবার স্মরণ করে এই প্রশ্নটা করেছি কি? নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত আছে। এই যে আমাদের দেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের বেতন-ভাতা, কাজের পরিবেশ এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন, এটাও কি ১৯০৯ সালের নিউইয়র্কের কম বয়সী সেই মেয়েদের সংগ্রামের একটি ধারাবাহিকতা নয়?

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
১ দিন আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
৩ দিন আগে