Ajker Patrika

আন্তর্জাতিক নারী

তাফতানে অধিকার আদায়ে বালুচ নারীদের লড়াই

ফিচার ডেস্ক
তাফতানে অধিকার আদায়ে বালুচ নারীদের লড়াই
নিজেদের অস্তিত্ব ও ভিটেমাটি রক্ষায় এগিয়ে এসেছে বালুচ নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

বেলুচিস্তানের এক শান্ত উপত্যকা তাফতান। সেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পশুপালন আর ডালিম, অ্যাপ্রিকট, চেরি ও আপেলের বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। ২০২২ সাল থেকে সেই শান্ত জীবনের ছন্দ কেটে যায়। আঞ্জিরক বা মাধোফাতি সোনার খনিতে অনিয়ন্ত্রিত খননকাজ শুরু হতেই হঠাৎ শুকিয়ে যেতে থাকে শত বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক পানির ঝরনাগুলো। ফলে খেতের ফসল নষ্ট হয় এবং পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এলাকার ফলবতী অ্যাপ্রিকট বাগানগুলো।

বালুচ নারীদের ইতিহাস আজ এক অভূতপূর্ব নারী আন্দোলনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। পাকিস্তানের বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটির অধীনে ড. মাহরাং বালুচ ও সামি দ্বীন বালুচের মতো নারীরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বলপ্রয়োগে গুম ও প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানবাধিকার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক বালুচের লংমার্চে নিজেদের নিখোঁজ স্বজনদের ফেরাতে শত শত কিলোমিটার হেঁটেছিলেন এসব নারী। এই লংমার্চ বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

পাকিস্তান প্রশাসনের দমনপীড়ন আর অসহযোগিতার কারণে স্থানীয় পুরুষেরা যখন অসহায় হয়ে পড়েছিলেন, তখন নিজেদের অধিকার ও ভিটেমাটি রক্ষায় সরাসরি রাজপথে নামেন এই নারীরা। সরকার ও খনি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বিরুদ্ধে যখন পুরুষদের কোনো পদক্ষেপ দেখা গেল না, তখন নিজেদের অস্তিত্ব ও ভিটেমাটি রক্ষায় এগিয়ে এলেন বালুচ নারীরা। গত ১৬ জুন রাতে ‘সার-সিয়াহ’ গ্রামের একদল নারী খনির ভারী ট্রাক চলাচলের প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা দাবি করেন, পানি না থাকায় বাগান শুকিয়ে যাচ্ছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া গ্রাম ভেদ করে ২৪ ঘণ্টা ভারী যান চলাচলে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে তাঁদের ওপর নেমে আসে নির্মম অত্যাচার। নুকাবাদ থানার পুলিশ এসে নারীদের গালিগালাজ করে এবং বন্দুকের বাঁট দিয়ে বেধড়ক পেটায়। এই হামলায় বিবির নূর রিগি কোতেহ নামের ৫৫ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারী গুরুতর আহত হন।

এমন নিপীড়ন করা সত্ত্বেও অবহেলিত এসব নারীর প্রতিরোধ থেমে থাকেনি। প্রখ্যাত আলেম আবদুল হামিদ ইসমাইল জাহি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে গর্জে ওঠেন এবং সরকার ও প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘পুরুষদের কাছ থেকে সাহায্য না পেয়ে নারীরা নিজেদের অধিকারের জন্য চিৎকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের কথা শুনুন।’ সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া চালু হওয়া এই খনি এবং রাষ্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে বালুচ নারীরা এখন প্রধান প্রতিরোধের প্রাচীর।

পাকিস্তানের অত্যাচার, বিচারিক হয়রানি ও পুলিশি বর্বরতা সহ্য করেও স্বজনদের ফিরিয়ে আনতে এবং নিজের দেশের মাটি ও পানি রক্ষায় বালুচ নারীরা নিজেদের এক অবিসংবাদিত সাহসী অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট, ইরান ওয়ার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত