
এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জন্ম হয়েছিল তাঁদের। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বরেণ্য। পৃথিবীর প্রতি অসীম মমতা ছিল তাঁদের। এ সপ্তাহের স্মরণে রইলেন মারগেরিটা হ্যাক, অ্যানি অ্যালবার্স, রুথ কওয়ান ন্যাস ও বারবারা ম্যাকলিন্টক।মারগেরিটা হ্যাক
জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান জগতের অনন্য এক নাম মারগেরিটা হ্যাক। বলা যায়, এই নারীর পা ছিল মাটিতে আর চোখ ছিল অনন্ত মহাবিশ্বে। মারগেরিটা হ্যাক একজন ইতালীয় জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখিকা। মহাকাশের অসংখ্য গ্রহাণুর মধ্যে একটির নাম গ্রহাণু ৮৫৫৮ হ্যাক। ১৯৯৫ সালে মারগেরিটা হ্যাক এই গ্রহাণু আবিষ্কার করেন বলে তাঁর সম্মানে নাম রাখা হয়েছিল গ্রহাণুটির। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্ম নেওয়া মারগেরিটা ছোটবেলায় ছিলেন দৌড়বিদ। লেখাপড়া শুরু করেছিলেন সাহিত্য নিয়ে। কিন্তু মাঝপথেই নিজের পথ বদলে পদার্থবিজ্ঞানের জগতে ঢুকে পড়েন তিনি। হয়ে ওঠেন সে জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। মারগেরিটা হ্যাকের জন্ম ১৯২২ সালের ১২ জুন।
বারবারা ম্যাকলিন্টক
শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পাওয়া সাতজন নারী বিজ্ঞানীর অন্যতম বারবারা ম্যাকলিন্টক। ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট বা অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম বংশগতির উপাদান আবিষ্কার করেন তিনি। এ জন্য প্রথমে ভুট্টার দানার ওপরের বিভিন্ন রঙের দাগ ও ফোঁটার বংশগতির কারণ উন্মোচন বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তিনি। গবেষণার একপর্যায়ে বারবারা একধরনের বংশগতির উপাদান (ক্রোমোজোমের অংশ) দেখতে পান, যা একই ও বিভিন্ন ক্রোমোসোমের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে। তিনি এর নাম দেন ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট।
১৯৪৮ সালে নিজের আবিষ্কারের স্বীকৃতির জন্য বারবারা কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটনে আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন যে হালে পানি পায়নি, তা বলাই বাহুল্য। ষাট ও সত্তরের দশকে ব্যাকটেরিয়া ও ড্রসোফিলাতে ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা বারবারার আবিষ্কারের গুরুত্ব বুঝতে পারেন। এ আবিষ্কারের ৩৫ বছর পর ১৯৮৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। ১৯০২ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের হার্টফোর্ডে জন্ম বারবারা ম্যাকলিন্টকের।
অ্যানি অ্যালবার্স
কৃষি ও খাদ্যসংস্কৃতির মতো বয়নশিল্পকেও নারীরা হাজার হাজার বছর বয়ে নিয়ে চলেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। বস্ত্রবয়ন ও নকশাবিষয়ক জ্ঞান নিয়ে বিশ্বদরবারে সমাদৃত হয়েছেন অনেক মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অ্যানি অ্যালবার্স।
২০ শতকের প্রথম সারির টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ছিলেন একজন গ্রাফিক শিল্পী। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই আমেরিকান টেক্সটাইল শিল্পী ১৯২২ সাল থেকে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ৫০ বছর কাজ করেন। ১৯৬৩ সালের দিকে তিনি তাঁর স্বামী জোসেফ অ্যালবার্সের সঙ্গে একটি লিথোগ্রাফি ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা গ্রাফিক আর্ট নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালে প্রিন্ট মেকিং নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি সম্পূর্ণরূপে টেক্সটাইল ডিজাইনিংয়ের কাজ ছেড়ে দেন। অ্যানি অ্যালবার্সের শিল্পকর্ম ১৯৪৯ সালে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৮৯৯ সালের ১২ জুন জার্মানির বার্লিনে জন্মেছিলেন অ্যানিলিসে এলসা ফ্রিদা ফ্লিসম্যান বা অ্যানি অ্যালবার্স।
রুথ কওয়ান ন্যাস
তাঁকে বলা হয় প্রথম নারী যুদ্ধ সাংবাদিক। ১৯২৪ সালে ‘দ্য সান অ্যান্টনিও’ পত্রিকায় চলচ্চিত্র পর্যালোচনাকারী হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন ন্যাস। দুই বছর পর তিনি সেখানে স্থায়ী হয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নারী শাখার একটি সহায়ক ইউনিট উইমেনস আর্মি কর্পস। সে ইউনিটের সঙ্গে ন্যাস উত্তর আফ্রিকায় যান সেখানকার হাসপাতাল এবং সামরিক অপারেশন সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহের কাজে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিসের ইনেজ রব নামের একজন নারী রিপোর্টার। তাঁরাই প্রথম নারী সংবাদকর্মী, যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বুলগের যুদ্ধে এবং ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়েক মাসের জন্য প্যারিসে সংবাদদাতার কাজ করেছেন তিনি। শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, যুদ্ধে নারী ও যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, আহত সৈন্য, নতুন চিকিৎসা এবং বেসামরিক লোকদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কেও বিস্তারিত লিখেছেন রুথ কওয়ান ন্যাস। ১৯০১ সালের ১৫ জুন উটাহর সল্ট লেক সিটিতে জন্মেছিলেন তিনি।

এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জন্ম হয়েছিল তাঁদের। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বরেণ্য। পৃথিবীর প্রতি অসীম মমতা ছিল তাঁদের। এ সপ্তাহের স্মরণে রইলেন মারগেরিটা হ্যাক, অ্যানি অ্যালবার্স, রুথ কওয়ান ন্যাস ও বারবারা ম্যাকলিন্টক।মারগেরিটা হ্যাক
জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান জগতের অনন্য এক নাম মারগেরিটা হ্যাক। বলা যায়, এই নারীর পা ছিল মাটিতে আর চোখ ছিল অনন্ত মহাবিশ্বে। মারগেরিটা হ্যাক একজন ইতালীয় জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখিকা। মহাকাশের অসংখ্য গ্রহাণুর মধ্যে একটির নাম গ্রহাণু ৮৫৫৮ হ্যাক। ১৯৯৫ সালে মারগেরিটা হ্যাক এই গ্রহাণু আবিষ্কার করেন বলে তাঁর সম্মানে নাম রাখা হয়েছিল গ্রহাণুটির। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্ম নেওয়া মারগেরিটা ছোটবেলায় ছিলেন দৌড়বিদ। লেখাপড়া শুরু করেছিলেন সাহিত্য নিয়ে। কিন্তু মাঝপথেই নিজের পথ বদলে পদার্থবিজ্ঞানের জগতে ঢুকে পড়েন তিনি। হয়ে ওঠেন সে জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। মারগেরিটা হ্যাকের জন্ম ১৯২২ সালের ১২ জুন।
বারবারা ম্যাকলিন্টক
শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পাওয়া সাতজন নারী বিজ্ঞানীর অন্যতম বারবারা ম্যাকলিন্টক। ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট বা অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম বংশগতির উপাদান আবিষ্কার করেন তিনি। এ জন্য প্রথমে ভুট্টার দানার ওপরের বিভিন্ন রঙের দাগ ও ফোঁটার বংশগতির কারণ উন্মোচন বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তিনি। গবেষণার একপর্যায়ে বারবারা একধরনের বংশগতির উপাদান (ক্রোমোজোমের অংশ) দেখতে পান, যা একই ও বিভিন্ন ক্রোমোসোমের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে। তিনি এর নাম দেন ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট।
১৯৪৮ সালে নিজের আবিষ্কারের স্বীকৃতির জন্য বারবারা কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটনে আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন যে হালে পানি পায়নি, তা বলাই বাহুল্য। ষাট ও সত্তরের দশকে ব্যাকটেরিয়া ও ড্রসোফিলাতে ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা বারবারার আবিষ্কারের গুরুত্ব বুঝতে পারেন। এ আবিষ্কারের ৩৫ বছর পর ১৯৮৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। ১৯০২ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের হার্টফোর্ডে জন্ম বারবারা ম্যাকলিন্টকের।
অ্যানি অ্যালবার্স
কৃষি ও খাদ্যসংস্কৃতির মতো বয়নশিল্পকেও নারীরা হাজার হাজার বছর বয়ে নিয়ে চলেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। বস্ত্রবয়ন ও নকশাবিষয়ক জ্ঞান নিয়ে বিশ্বদরবারে সমাদৃত হয়েছেন অনেক মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অ্যানি অ্যালবার্স।
২০ শতকের প্রথম সারির টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ছিলেন একজন গ্রাফিক শিল্পী। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই আমেরিকান টেক্সটাইল শিল্পী ১৯২২ সাল থেকে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ৫০ বছর কাজ করেন। ১৯৬৩ সালের দিকে তিনি তাঁর স্বামী জোসেফ অ্যালবার্সের সঙ্গে একটি লিথোগ্রাফি ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা গ্রাফিক আর্ট নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালে প্রিন্ট মেকিং নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি সম্পূর্ণরূপে টেক্সটাইল ডিজাইনিংয়ের কাজ ছেড়ে দেন। অ্যানি অ্যালবার্সের শিল্পকর্ম ১৯৪৯ সালে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৮৯৯ সালের ১২ জুন জার্মানির বার্লিনে জন্মেছিলেন অ্যানিলিসে এলসা ফ্রিদা ফ্লিসম্যান বা অ্যানি অ্যালবার্স।
রুথ কওয়ান ন্যাস
তাঁকে বলা হয় প্রথম নারী যুদ্ধ সাংবাদিক। ১৯২৪ সালে ‘দ্য সান অ্যান্টনিও’ পত্রিকায় চলচ্চিত্র পর্যালোচনাকারী হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন ন্যাস। দুই বছর পর তিনি সেখানে স্থায়ী হয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নারী শাখার একটি সহায়ক ইউনিট উইমেনস আর্মি কর্পস। সে ইউনিটের সঙ্গে ন্যাস উত্তর আফ্রিকায় যান সেখানকার হাসপাতাল এবং সামরিক অপারেশন সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহের কাজে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিসের ইনেজ রব নামের একজন নারী রিপোর্টার। তাঁরাই প্রথম নারী সংবাদকর্মী, যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বুলগের যুদ্ধে এবং ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়েক মাসের জন্য প্যারিসে সংবাদদাতার কাজ করেছেন তিনি। শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, যুদ্ধে নারী ও যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, আহত সৈন্য, নতুন চিকিৎসা এবং বেসামরিক লোকদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কেও বিস্তারিত লিখেছেন রুথ কওয়ান ন্যাস। ১৯০১ সালের ১৫ জুন উটাহর সল্ট লেক সিটিতে জন্মেছিলেন তিনি।

ইরানের ধূলিধূসরিত রাজপথ আজ শুধু প্রতিবাদের সাক্ষী নয়। বর্তমান আন্দোলনের জের ধরে একে মানুষের রক্তেভেজা ইতিহাসের দলিলও বলা চলে। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানের ইস্পাহান, গোরগান এবং তেহরানের রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে স্লোগানে। এই আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছেন নারীরা।
৬ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন: আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। বাড়িতে থাকি। আব্বু, আম্মু অন্য জেলায় চাকরি করেন, ভাইয়া ঢাকায় পড়াশোনা করে। দাদিদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কলেজে যাই, বাসায় আসি, রান্না করি, বাসার অন্যান্য কাজ করি, ঘুমাই। সামনে আমার পরীক্ষা, পড়াশোনায় ফোকাস রাখার চেষ্টা করি।
৬ ঘণ্টা আগে
নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে বর্তমানে বাংলাদেশ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিবিএস, ইউএনএফপিএ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ঘরে-বাইরে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ঘরের ভেতরে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
দেড় শ বছর আগে একজন নারীর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছিল সমাজের চোখে এক বিশাল ধৃষ্টতা। সেই ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলেন সোফিয়া জ্যাকস-ব্লেক। তিনি কঠিন সময়েও পিছু হটেননি। অপমানকে পুঁজি করে জনমত গঠন করে প্রমাণ করেছিলেন, চিকিৎসা পেশায় নারীদের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি।
৬ ঘণ্টা আগে