
১৯৮৩ সাল। তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার। চোখে কালো পট্টি বাঁধা এক গর্ভবতীকে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রসবযন্ত্রণার মধ্যেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এভাবেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জন্ম নেয় একটি শিশু। নাম সাহর দেলিজানি। জন্মের পর কয়েক ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল মায়ের স্পর্শ পাওয়ার জন্য। মা, বাবা দুজনেই রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন বলে জন্মের প্রথম ৪৫ দিন তাকে থাকতে হয় কারাগারের সেলে। ১৯৮৮ সালে সাহরের চাচা মহসিনকেও কয়েক হাজার মৃত রাজনৈতিক বন্দীর সঙ্গে গণকবর দেওয়া হয়।
সাহর বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়, হয়েছেন লেখক। আর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি মা-বাবা আর চাচার মতোই বামপন্থী। কিন্তু তাঁর পিছু ছাড়েনি সেই অন্ধকার অতীত। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চিলড্রেন অব দ্য জ্যাকারান্ডা ট্রি’তে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সেই দুঃসহ সময়কে। তাঁর সেই সংগ্রামের কথা অনেকে জানেন না। আর আজকের তরুণ প্রজন্ম সেই ইতিহাস প্রায় ভুলতে বসেছিল। সাহর দেলিজানি লিখেছিলেন, ‘আমি ইরানি কারাগারে জন্মেছি। আমার মা-বাবা বন্দী ছিলেন। আমার চাচারা শুয়ে আছেন গণকবরে।’ এই জবানবন্দি এক জ্বলন্ত সত্য। ইরানি শাসনের নিষ্ঠুরতা কিংবা অপরাধ নিয়ে তাঁকে নতুন করে জানানোর কিছু নেই। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘এমন কোনো অপরাধ নেই, যা আমি নিজের রক্ত ও অস্থিমজ্জা দিয়ে অনুভব করিনি।’ তারপরও ইরানের চরম সংকটের মুহূর্তে তিনি মানবতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দাঁড়িয়েছেন মাতৃভূমিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানের সাধারণ মানুষ আবার নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাজপথে নামে। তখন ইরানি প্রশাসন ইতিহাসের অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড চালায়। মেশিনগান, স্নাইপার রাইফেল আর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাস্তাঘাট লাশের মিছিলে ছেয়ে যায়। এ সময় একদিকে যখন দেশের ভেতরের শোষণে মানুষ মারা যাচ্ছিল, অন্যদিকে শুরু হয় বিদেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। নিজের পরিবারকে হারানো এবং কারাগারের ভেতর জন্ম নেওয়ার মতো মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সাহর দেলিজানি কোনো ধ্বংসাত্মক সমাধান চাননি। যখন আকাশ থেকে ইরানের মাটিতে মারণাস্ত্র পড়তে শুরু করল, তখন তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘তার মানে এই নয় যে আমি আমার দেশের মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ চাই, তাদের পঙ্গু হয়ে যাওয়া বা মরতে দেখতে চাই; কিংবা তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হোক, তা চাই।’
সাহর দেলিজানি এই অবস্থান এক গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরে। তিনি মনে করেন, যে মুক্তির পথ নিরপরাধ মানুষের লাশের ওপর দিয়ে যায়, তা আসলে মুক্তি নয়। তিনি বলেন, ‘মুক্তির বিষয়ে আপনার স্বপ্ন যদি শুধু নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংসের মাধ্যমে পূর্ণ হতে চায়, তবে বুঝে
নিন, আপনি আসলে স্বাধীনতা খুঁজছেন না।’ সাহর দেলিজানির গল্প আমাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা জানায়। তাঁর লেখা ও কথায় তাঁর চেতনার বাণী ফুটে ওঠে। যেখানে তিনি বারবার বুঝিয়ে যান, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই মানে হলো অন্য কোনো ধ্বংসলীলাকে আলিঙ্গন করা নয়। সাহর দেলিজানি তাঁর বাবার দেওয়া খেজুরের বিচি দিয়ে তৈরি করা জেলখানার ব্রেসলেটটি আজও আগলে রেখেছেন। সেটি যেমন তাঁর শিকলের স্মৃতি, তেমনি তাঁর টিকে থাকার প্রতীকও বটে।
সাহর দেলিজানি চান মানুষের সত্যিকারের মুক্তি। যেখানে মানুষ শোষকের বুলেটেও মরবে না, আবার বিদেশি বোমার আঘাতেও ছিন্নভিন্ন হবে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, লে মন্ডে

অক্টোবর, ১৯৫১। হিমাচলের কল্পা অঞ্চলের এক দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে এক তরুণী তাঁর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ।
৫ দিন আগে
রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রুমিং বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি ভয়াবহ রূপ নেয়। কারণ, সেখানে ক্ষমতা, প্রলোভন, গোপনীয়তা ও প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে। সম্প্রতি রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের এমন কিছু সংবাদ দেখিয়ে দিয়েছে, গ্রুমিং পরিচিত ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির হাতেও ঘটতে পারে।
৫ দিন আগে
প্রশ্ন: একটি স্কুটি কেনার জন্য ঋণের আবেদন করেছি। আমি একটি স্কুলে পড়াই এবং বেতনসংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আট মাস ধরে আমাকে এই লোনের জন্য ঘোরানো হচ্ছে। আমি ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়েছি। আমরা তিন বোন এবং আমার বাবা নেই। আমার মা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। লোনের গ্যারান্টার কাকে করা হলে আমার লোন পাওয়ার
৫ দিন আগে
আজ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে অগ্রগতি ও উদ্বেগের এক মিশ্র চিত্র সামনে আসে। বিগত বছরগুলোতে সরকারি নানা উদ্যোগ ও উপবৃত্তির কল্যাণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তির হার প্রশংসনীয়ভাবে বেড়েছে এবং লৈঙ্গিক সমতা অর্জিত হয়েছে।
৫ দিন আগে