
যুদ্ধের বীভৎসতা যতই থাক, বছর ঘুরে আসে ঈদ। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর শিকড়ের টানে ফেরার এক পরম মুহূর্ত। কিন্তু এ বছরের ঈদুল ফিতরে বিশ্বজুড়ে একই সুর বাজেনি। কোথাও বেজেছে পুনর্মিলনের আনন্দগান, আবার কোথাও রণক্ষেত্রের আর্তনাদ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন উৎসবের আতশবাজিতে নয়, বরং ছেয়ে আছে বারুদের ফুলকিতে। লেবানন থেকে গাজা—সর্বত্র ঈদের খুশির বদলে এখন লড়াই চলছে শুধু প্রাণটুকু টিকিয়ে রাখার।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে টিকে থাকার লড়াই
অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর গাজাবাসীর এটিই প্রথম ঈদ। সেই ঈদ ঘিরে ছিল নানান ব্যস্ততা। তবে গাজা সিটির রেমাল বাজারে মানুষের ভিড় থাকলেও কেনাকাটার সামর্থ্য নেই কারোরই। সাত সন্তানের জননী সামিরা তাঁর মেয়ে ও পুত্রবধূদের নিয়ে রমজানের শেষ দিনগুলোতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করেছেন। একসময় তাঁর একটি সাজানো রান্নাঘর ছিল। আর এখন সামিরার ছেলে আশপাশের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে আসবাবের ভাঙা অংশ কুড়িয়ে আনেন। সেই কাঠের আসবাব পুড়িয়েই জ্বলে তাঁদের চুলা। যেখানে সামিরা পরম মমতায় তৈরি করেছেন ঈদের ঐতিহ্যবাহী কুকিজ কাক ও মামুল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে গাজার সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ময়দা, সুজি, ঘি ও চিনির দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবু প্রতিবেশী আর গ্রাহকদের অর্ডারের কারণে বাড়তি কিছু আয় করার আশায় তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন মাসজুড়ে। পরিবারের চাপে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই নতুন স্বপ্ন বুনছেন তিনি।

উৎসবের আঙিনায় বিষাদের ছায়া
যেখানে ঈদের চাঁদ দেখার কথা ছিল আনন্দের বার্তা নিয়ে, সেখানে অনেকের জন্য তা বয়ে এনেছে স্বজন হারানোর গভীর ক্ষত। ইংল্যান্ডের পিটারবরোর ক্যাথেড্রাল স্কয়ারে নিজের লেবানিজ ফুড ভ্যানে শর্মা পরিবেশন করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সাহার খলিল। আট বছর আগে বিয়ের পর লেবানন থেকে প্রবাসে পাড়ি জমানো লেবাননের এই সাবেক অভিনেত্রীর মন পড়ে আছে দেশের সেই তাঁবুগুলোতে, যেখানে তাঁর পরিবার হাড়কাঁপানো শীতে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশে ঘরছাড়া লেবাননের প্রায় ১০ লাখ মানুষের একজন হয়ে তাঁর পরিবার এখন যাযাবর। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাহার বলেন, ‘লেবাননের পরিস্থিতি অবর্ণনীয়। গত সপ্তাহে আমার এক বন্ধুকে হারিয়েছি, যে লেবানন রেড ক্রসের প্যারামেডিক হিসেবে কাজ করত।’ এই শোক বুকে নিয়ে সাহার এ বছর ঈদ উদ্যাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পিটারবরোর খাদিজা মসজিদের ইমাম ওসামা জাফর জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান, মিসর, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার প্রবাসীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। উৎসবের রঙিন আলোর চেয়ে এখন তাদের প্রধান প্রার্থনা—একটি যুদ্ধবিরতি।
এ বছরের ঈদুল ফিতর গাজা আর লেবাননের মানুষের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল একে অপরের হাত ধরার এবং হার না মানার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। বোমার শব্দ আর ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তাঁরা ঘৃণা ভুলে খুঁজে নিয়েছেন টিকে থাকার চিরন্তন প্রেরণা।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

ঢাকা শহরে বেড়ে ওঠা এক দুরন্ত মেয়ের নাম হামিদ আক্তার জেবা। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ছিল তাঁর নেশা। সেই নেশা একসময় তাঁকে নিয়ে যায় ম্যারাথনের কঠিন পথে। বাবা-মা, ভাই ও ভাবির সঙ্গে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। খেলাধুলাপ্রিয় বাবার অনুপ্রেরণায় জেবার এই পথচলা।
৭ মিনিট আগে
আমার ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আমাদের বাবা নেই। মা, আমি আর ভাই থাকি। খুব সম্প্রতি মায়ের গায়ে হাত তুলেছে ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে সে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল কয়েকবার। আমরা তার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাদের বাসায় দাওয়াত করি।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং সংগীতজগতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি সন্জীদা খাতুন। ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ৯১ বছর বয়সে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি মারা যান। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোলেস্তান। সেখানে বসবাস করেন মারভে পোরকাজ। পেশায় তিনি হেয়ারড্রেসার। সম্প্রতি বাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরিত হলে ভীত পোরকাজ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৩২ বছর বয়সী পোরকাজ জানান, তিনি প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পার্বত্য সীমান্তে পৌঁছান।
৭ দিন আগে