Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

চলচ্চিত্রে নারীদের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে

চলচ্চিত্রে নারীদের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে

৩ এপ্রিল ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ দিনটি সামনে রেখে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিবর্তন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাংলা চলচ্চিত্রের অবস্থান, চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের চিরাচরিত ছাঁচ ভাঙার চ্যালেঞ্জ এবং নিজের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অনলাইনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শিহাব আহমেদ

একুশ শতকের চার ভাগের এক ভাগ চলে গেল। পুরো পৃথিবীর সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমরা সেই পরিবর্তন ধরতে পেরেছি

কি না? আপনার মূল‍্যায়ন কী?

আমি মনে করি, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একধরনের বিপ্লব হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সিনেমা তৈরি হচ্ছে, দর্শকনন্দিত হচ্ছে। বিদেশি উৎসবগুলোতে অংশ নিচ্ছে। এসব দেখে বোঝা যায়, বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তন এসেছে।

সিনেমাশিল্প এখন শুধু হলকেন্দ্রিক নেই। নেটফ্লিক্সসহ আরও বিভিন্ন মাধ্যমে সেটি দেখা যাচ্ছে এখন। সেগুলোতে বাংলাদেশের উপস্থিতি তেমন নেই। কীভাবে দেখেন বিষয়টি?

আসলে নেটফ্লিক্স বা অন্যান্য মাধ্যমে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা আছে আমাদের এখানে। সেটা কাটিয়ে উঠে শিগগির হয়তো আমাদের দেশের সিনেমাও বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে যাবে। আমার অভিনীত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ যেমন একটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মে গেছে। ‘মাস্টার’ যাবে। ‘নোনা জলের কাব্য’ গেছে। এভাবে টুকটাক কাজগুলো যায়। আমার ধারণা, প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে পরে আরও যাবে। বাংলাদেশের ওটিটি যেগুলো হয়েছে, সেগুলোতে এ দেশের সিনেমা রিলিজ হচ্ছে। মানুষ সেগুলো দেখছে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও শিগগির বাংলাদেশের সিনেমা জায়গা করে নিতে পারবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কারের জন‍্য যেসব সিনেমা তৈরি হচ্ছে, দেশের দর্শকদের জন‍্য সে তুলনায় সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। এর কারণ আসলে কী?

আমি তো দেখতে পাচ্ছি, দর্শকপ্রিয় সিনেমাগুলোও তৈরি হচ্ছে! তবে ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা তৈরি হচ্ছে, এটাও ঠিক। সারা বছর সিনেমা তৈরি হওয়া উচিত হলমুখী মানুষের জন্য। তার পরেও আমার মনে হয়, আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা যেগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলোও একপর্যায়ে জনপ্রিয়তা পাবে—এমনটাই আমি মনে করি। দর্শক সেই সিনেমাগুলোও বুঝতে পারবেন। এ ছাড়া দর্শকনন্দিত হচ্ছে সিনেমাগুলো। এর অনেক বড় উদাহরণ হলো ঈদে সিনেমা হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়।

একসময় বাংলা সিনেমায় নারীরা ছিল নির্দিষ্ট কিছু ছাঁচে ঘেরা চরিত্র হিসেবে। বর্তমানে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বা ‘খুফিয়া’র মতো কাজে আপনি যে ধরনের জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক নারী চরিত্র ফুটিয়ে তুলছেন, তা কি আমাদের মূলধারার সিনেমার নারী ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে?

অবশ্যই তাই। আমার ধারণা, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমায় আমার চরিত্র রেহানা, ‘গুটি’তে আমার চরিত্র—এই ধরনের চরিত্রগুলো অবশ্যই সমাজে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে এবং মূলধারার সিনেমায় নারীদের যে ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়েছে, সেখান থেকে বের হবে। এই ঈদে একটা সিনেমা রিলিজ হয়েছে ‘প্রেশার কুকার’ নামে। সেখানে নাজিফা তুষি যে চরিত্রটি করেছেন, সেটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। টিপিক্যালি নারীদের সিনেমায় যেভাবে উপস্থাপন

করা হয়, সেখান থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই চরিত্র একদম আলাদা। সেখানে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। আমার মনে হয়, আমাদের বিভিন্ন রকমের নারী চরিত্র দিয়ে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার সেই সময়টা চলে এসেছে।

ক্যারিয়ারের একটা দীর্ঘ সময় আপনি ছোট পর্দায় কাজ করেছেন। এখন করছেন বড় পর্দায়। এই যে বড় পর্দার ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ক্যানভাস, এখানে একজন অভিনেতাকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়, একজন অভিনেত্রীও কি একই ধরনের পরিবেশ পেয়ে থাকেন?

আমি খুব বেশি সিনেমা করিনি। ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ করেছি। সেটিও নারীপ্রধান গল্প ছিল। তবে সেটিও টিপিক্যাল নারী চরিত্রের বাইরে। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ও এর বাইরে। ছোট পর্দায় যখন কাজ করেছি, তখন কাজটা কাজের জন্যই করতাম।

শুধু শুধুই করতাম। সত্যি বলতে, আমি তখন শুধু টাকার জন্যই কাজ করতাম। কাজটাকে ততটা ভালোবেসে করতাম না। কিন্তু ভালোবাসা তৈরি হয়েছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ থেকে। তারপরে মনে হয়েছে, সিনেমার কাজে বেশি ফোকাস করব। নাটকেও হয়তো করব। কিন্তু আমি যে বয়সে এখন আছি, সেই বয়সী চরিত্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই কম আছে। তাই স্বাগত জানানোর তেমন কোনো পরিবেশ আমাদের এখানে নেই। কারণ, এই বয়সী তো চরিত্রই নেই। সেখানে কয়টা কাজ করা যায়? এটা বড় চ্যালেঞ্জ থেকে যায়। এখন মনে হয়, অনেক ধরনের চরিত্র নিয়ে মানুষ আমার কাছে আসছে।

আপনার অভিনীত চরিত্রগুলোতে একধরনের ‘র’ এবং ইনট্যান্স ইমোশন দেখা যায়। আমাদের দেশের সাধারণ দর্শক এই ধরনের চরিত্রগুলোকে কীভাবে গ্রহণ করেন বলে আপনি মনে করেন?

আমি যে চরিত্রগুলোতে কাজ করি, সেগুলোই যে দর্শকনন্দিত হয়, এমনটা নয়। কিন্তু আমি অনেকটা আশাবাদী যে একটা সময় আসবে, যখন দর্শক এই চরিত্রগুলোকে বুঝবে। এগুলো নিয়ে যুগের পর যুগ আলোচনা

হবে। কিছু কাজ আছে হয়তো, যেগুলো সব সময় সবার কাছে বোধগম্য হয় না। কিন্তু

সে চরিত্রগুলোর একটা প্রভাব আমাদের সমাজে থেকে যায়। তেমনই একটা চরিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমায় আমি করেছি। এ ধরনের চরিত্রগুলো দর্শকেরা দীর্ঘদিন মনে রাখে।

আমাদের দেশীয় সিনেমায় নারী চরিত্রের উপস্থাপনে ঠিক কতটা পরিবর্তন এসেছে? ভবিষ্যতে এই জায়গাকে আপনি কেমন দেখতে চান?

একটা ভালো পরিবর্তন এসেছে বলতে পারি। যদিও কমার্শিয়াল সিনেমাগুলোতে নারীকে সেই অলংকার হিসেবে দেখানো হয়। সেটা আমার ততটা ভালো লাগে

না। তবে রায়হান রাফীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই জন্য যে নারীকে নিয়ে গল্প এবং নারীকে একদম অন্য রকমভাবে উপস্থাপনা করে—এমন একটা গল্প নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। আমার মনে হয়, রায়হান রাফীর এই পথ অনুসরণ করে অনেকে এমন গল্পে সিনেমা বানাতে আগ্রহী হবেন। আমাদের অন্য যে সিনেমাগুলো বিভিন্ন উৎসবে যাচ্ছে, সেগুলোতে ভীষণভাবে জেন্ডার সেনসিটিভ ক্যারেক্টার থাকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত