দুটো বাঁশ, সামান্য নুয়ে আছে। যদিও তাদের মাঝে জোড়া লাগানোর চেষ্টা আছে, আছে সেতুবন্ধ। তবু কী আর করবে বলুন! নুয়ে থাকা ছাড়া তাদের যে আর উপায় নেই। কারণ তাদের আগায় যে ‘পচ্চুর’ কারেন্ট!
সাধারণত আগার তুলনায় গোড়ায় (বা পেছনে) কারেন্ট থাকলে যেকোনো প্রাণী বা বস্তু লাফায় অনেক। কারেন্টের কারণেই তেমনটা হয় বটে। আর গোড়ার বদলে আগায় কারেন্ট থাকলে মাথা ভারী হয়ে যায়। একবার ভেবে দেখুন—মাথায় যদি হাজার হাজার ভোল্টের কারেন্ট থাকে, তবে আপনি কী করবেন?
একটুও যদি মাথা চক্কর দেয়, তবে এবার অনুভব করার চেষ্টা করুন ছবির বাঁশ দুটোর কী অবস্থা চলছে! ছবিটি তোলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা থেকে। আজকের পত্রিকার খবরে প্রকাশ, উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তিতাস নদের পাড়ে এভাবেই বাঁশের খুঁটিতে ঝুলছে বিদ্যুতের তার। নদে দিনরাতে চলছে শত শত নৌকা। আর তাদের মাথার ওপরেই বাঁশের আগায় স্বমহিমায় আছে ১১ হাজার ভোল্টের এই বিদ্যুতের লাইন। স্থানীয়দের বক্তব্য, নৌকার ধাক্কা, পানির স্রোত কিংবা ঝড়-বৃষ্টিতে খুঁটি পড়ে গেলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব খুঁটি প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়ে এলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আর কর্তৃপক্ষের কথা, বর্ষার পানিরই সব দোষ, বর্ষার পানির কারণেই এমন বাঁশের টাওয়ার বসানো হয়।
স্থানীয়দের বক্তব্যের প্রথম অংশ নিয়ে বিশদ আলোচনা হতেই পারে। হ্যাঁ, দুর্ঘটনা তো ঘটতেই পারে। তবে মুফতে কিন্তু কারেন্টও পাওয়া যাবে! হয়তো সেই সম্ভাবনা (!) মাথায় রেখেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এমন একটি মহৎ কাজে উদ্যোগী হয়েছে। জনগণের সেবা করাই যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠানের একমাত্র কাজ, তাই নিশ্চয়ই টেলিভিশনে কারেন্ট দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদেরও সরাসরি বডিতে কারেন্ট দিতে এমন কাজ করা হয়েছে!
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ আকারে বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই জায়গাটাতেই সমস্যা। যদি স্থানীয়দের সরাসরি বিদ্যুতায়ন করাই কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে আবার পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কেন?
আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল সাব-জোনাল অফিসের দায়িত্বে থাকা এজিএম জহিরুল ইসলাম মোল্লা বলেই দিয়েছেন, বাঁশের খুঁটি না বসালে ওই এলাকার গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ পেত না। তাই নিয়ম না থাকলেও বিদ্যুৎ দিতেই পানির মধ্যে বাঁশের অস্থায়ী টাওয়ার নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পুরো কাজটাই করা হয়েছে স্থানীয়দের বিদ্যুৎ দিতেই। বুঝুন একবার, কী কষ্টটাই না তাঁরা করছেন! এখানে বিদ্যুৎ দেওয়াটাই আসল উদ্দেশ্য। তা দিতে গিয়ে যদি সরাসরি শরীরেও সরবরাহ করতে হয়, তবে দোষটা কোথায়? বিদ্যুৎ পাওয়াই তো মূল কথা। কোনদিক দিয়ে পাওয়া হলো, তা দিয়ে আর কী হবে!
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায় গোপাল ভাঁড়ের এক গল্প। লোকমুখে প্রচলিত এই গল্প অনুযায়ী, গোপাল একদিন গঙ্গা নদী পার হচ্ছিল। কিন্তু সেই নৌকায় আগে থেকেই ছিল অনেক যাত্রী। তাদের আবার ছিল নানা মালপত্র। গোপাল ওঠার পর একপর্যায়ে নাকি নৌকা প্রায় ডুবু ডুবু অবস্থায় চলে যায়। এই নৌকায় পানি উঠল বলে! আর ঠিক সেই সময়ই এক যাত্রী তার বড় বোঝাটা মাথায় তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। নৌকার তো তখন টলোমলো অবস্থা। গোপাল বাধ্য হয়ে ওই যাত্রীকে জিজ্ঞেস করল, সে মাথায় বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল কেন?
উত্তরে ওই যাত্রী জানিয়ে দিল, তাহলে নাকি নৌকাটি ডুবে যাবে না! সবাই যদি এভাবে বোঝা মাথায় তুলে ধরে, তবে বোঝার ওজন পড়বে যার যার মাথায়। আর কমে যাবে নৌকার ওজন। তাতেই নাকি নৌকা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে, আর সেই সঙ্গে বাঁচবে যাত্রীদের জানও!
এ দেশেও খানিকটা তেমন দৃশ্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি। ১১ হাজার ভোল্টের কারেন্ট তো আছে বাঁশের আগায়। পানির সঙ্গে দূরত্ব তো আছেই। মোদের ঘটে বুদ্ধি কি কম নাকি?
সে যাক গে। কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে, পানি কমে গেলেই বাঁশ ফেলে স্থায়ী খুঁটি বসানো হবে। আর বর্ষার পানি কমার আশায় কেউ বসেও নেই। পানি না কমলেও ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে গেছে। সেই ঠিকাদার নিশ্চয়ই এখন থেকেই খুঁটি বানানো শুরু করে দিয়েছেন। তাতে রড আছে, নাকি বাঁশ—তা নিয়ে না হয় পরে গবেষণা হবে।
আসল কথা হলো, এ দেশে এখন বাঁশের সঙ্গে সঙ্গে কারেন্ট ফ্রি! এবং এই কার্যক্রম তৃণমূলেও পৌঁছে গেছে সগৌরবে। বাঁশ খাবেন, আর কারেন্ট নেবেন না (যেদিক দিয়েই হোক না কেন)—তা কখনো হয়?

বিমানবন্দরের স্ক্যানার ভুলবশত মসলাকে হেরোইন হিসেবে শনাক্ত করায় টানা ৫৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে ভারতের এক ব্যবসায়ীকে। পরে আদালত তাঁকে প্রায় ৯ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে এক অদ্ভুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাকে ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। তবে এই তারকা কোনো অভিনেতা বা গায়ক নয়, বরং সোনালি চুলওয়ালা এক অ্যালবিনো মহিষ। কয়েক দিনের মধ্যেই কোরবানির জন্য জবাই হওয়ার কথা এই মহিষটির। কিন্তু তার আগেই এটিকে একনজর দেখতে আর ছবি তুলতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।
৪ দিন আগে
ঈদুল আজহা এলে প্রতিবছরই বাংলাদেশে একটি ‘ট্রেন্ড’ দেখা যায়, সেটি হলো কোরবানির হাটে তোলা পশুর নামকরণ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার বাজারে এসেছে ‘ট্রাম্প’ ও ‘নেতানিয়াহু’ নামের পশু। আর এই নামকরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টেও....
৯ দিন আগে
হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর ওরবানকে পরাজিত করে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পিটার ম্যাগিয়ার। গতকাল রোববার হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষের উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক অভিষেক...
১৩ দিন আগে