ইঙ্গিতটা আগেই এসেছিল, কিন্তু করছি-করব বলে এত দিন করা হয়নি। বারবার মনে হচ্ছিল, কী লাভ? চলছে তো। ভেতর থেকে কোনো প্রেরণা পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আসন্ন শীতের আগে প্রেরণা ও প্রণোদনা দুটিই পাওয়া গেল। ফলে কোনো কথা না বলে, কাকপক্ষীকে জানতে না দিয়ে, চন্দ্র-সূর্যকে সাক্ষী রেখে নিজের বডি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে নিলাম। এখন বেশ ঝরঝরে লাগছে। দৌড়াচ্ছিও বেশ। বয়স এক ধাক্কায় কমে গেছে প্রায় পাঁচ বছর। ন্যাজের কাছে যে দু-একটা পাকা চুল ছিল, সেগুলো দেখলাম কালো হয়ে গেছে। দাড়ি তো নেই, তবে গোঁফের সাদা অংশ হাপিস। চোখের ম্রিয়মাণ বুদ্ধিদীপ্ত আভা ফিরে এসেছে পুরোপুরি। বুকের কাছের পশমগুলো দেখলাম সেই ছোটবেলার রোঁয়ার মতো, কোমল। অর্থাৎ, পাঁচ বছর কমে গেছে বয়স। তবে একটা জায়গায় খচখচ করছে কিঞ্চিৎ। বলছি একটু পরেই।
এত দিন জাবনা খেয়ে চালাচ্ছিলাম শরীরটা। খারাপ না। ভুসি কমই জুটত। হলদেটে খড় আর ভাতের মাড়ই জুটত বেশি। ঘাস জোটে খুব কম। সেই কবে, যখন ছোট ছিলাম, শীতের সময় তখন ভীষণ বৃষ্টি হতো। বাঁশঝাড়ে প্রচুর সবুজ বাঁশপাতা পড়ে থাকত। সেগুলো খেতাম। এখন আর খাওয়া হয় না। বাঁশঝাড়গুলো চোখের সামনে শেষ হয়ে ভিটেবাড়ি হয়ে গেল। শীতের সময় পুরোনো পাটের তৈরি বস্তা দিয়ে আমাকে ঢেকে দেওয়া হতো। ওটা ছিল বছরান্তের ফ্যাশন শো। গেল পাঁচ বছরে, না, মানে দশ বছরে কত যে ফিল্ডিং মেরেছি ওই চটের বস্তার পোশাক পরে, তার কোনো হিসেব নেই। সেই জামা দেখেই তো পুব পাড়ার অস্ট্রেলিয়ান গাইয়ের বাছুরটা কাছে ভিড়েছিল। তারপর যা হলো! সে যাকগে।
বলছিলাম যে, খড়কুটো খেয়েই তো দিন যাচ্ছিল। তাই আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু কাল যখন আমার মালিক আর মালকিন গভীর রাতে আলাপ করছিল, লম্বা বেগুন ৯২ টাকা কেজি, এক ফালি মিষ্টি কুমড়া ৪৫ টাকা, একমুঠো পালং শাক ৩০ টাকা। শুধু আলুরই দাম কম। তখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলি। বেচারাদের নিজেদেরই যা অবস্থা, কোন দিন ফ্যানটুকুও বন্ধ হয়ে যায়! সে ভয়েই সিদ্ধান্তটা নিতে হলো। সিদ্ধান্তটা হলো, নিজের বডিটাকে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে নেওয়া। কষ্ট হয়েছিল বটে। কিন্তু মালিক সকালবেলা যখন পত্রিকা পড়ছিল তখন শুনেছি, সব সিএনজিচালিত গাড়িঘোড়া নাকি ডিজেলচালিত হয়ে গেছে। ভাবলাম, গাড়ির হাড় জিরজিরে ঘোড়া যদি বডি বদলে ফেলতে পারে, আমি কেন পারব না? আমি কোন দিকে কম আছি ওই হাড় জিরজিরে ঘোড়ার চেয়ে? তাই কোনো কথা না বলে, কাকপক্ষীকে জানতে না দিয়ে, চন্দ্র-সূর্যকে সাক্ষী রেখে ঘোড়ার হাড় জ্বালিয়ে কালা করে দিতে নিজের দশ বছরের বডিটাকে বদলে ফেললাম। তারপর থেকেই ফুরফুরে লাগছে।
কিন্তু ওই যে বললাম, একটি জায়গায় খচখচ করছে। হ্যাঁ, করছে। যখন আমার বাছুরটা হাম্বা করে আমাকে ডাকছে, তখনই মনে হচ্ছে, আমার বয়স হয়েছিল। এতবার চোখের ইশারায় বলেছি, অমন ডাকিসনে। বডি বদলে বয়স কমিয়েছি বলে জনে জনে বলে বেড়াবি? কে শোনে কার কথা!
এখন হাওয়া ঢুকছে ভর ভর করে। মজা লাগছিল আমার। কেমন সুড়সুড়ি অনুভূতি হচ্ছিল। একটু পরেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অনুভূতিকে পুঁতে দিয়েছি। এখন আরও ভালো লাগছে। ফুরফুরে লাগছে। সাদা চুলবিহীন ন্যাজ এখন এমনিতেই নড়ছে। কেন যে লোকে বলে, ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড—বুঝি না।

ভারতে এক যুবকের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, একটি রানি মৌমাছি তাঁর প্যান্টে বসে পড়ার পর হাজার হাজার মৌমাছি তাঁকে ঘিরে ফেলে। সম্ভাব্য বিপদের মুখে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট সম্পূর্ণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত কোনো হুলের আঘাত...
১০ ঘণ্টা আগে
আচ্ছা বলুন তো, একজন ভারতীয় ‘চাচা’কে কীভাবে চিনবেন। তাঁকে চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাঁর মুখের এক চেনা বাক্য—‘আমাকে বলতে দাও/দিন।’ এর ঠিক পরপরই তিনি একটি লম্বা বক্তব্য দেওয়া শুরু করবেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তু হবে—দেশের আসলে কোথায় সমস্যা বা কিসের অভাব।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিমানবন্দরের স্ক্যানার ভুলবশত মসলাকে হেরোইন হিসেবে শনাক্ত করায় টানা ৫৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে ভারতের এক ব্যবসায়ীকে। পরে আদালত তাঁকে প্রায় ৯ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৮ দিন আগে
বাংলাদেশে এক অদ্ভুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাকে ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। তবে এই তারকা কোনো অভিনেতা বা গায়ক নয়, বরং সোনালি চুলওয়ালা এক অ্যালবিনো মহিষ। কয়েক দিনের মধ্যেই কোরবানির জন্য জবাই হওয়ার কথা এই মহিষটির। কিন্তু তার আগেই এটিকে একনজর দেখতে আর ছবি তুলতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।
১২ দিন আগে