Ajker Patrika

‘বয়স কম’ তাই কর্মীকে ছাঁটাই করল মাইক্রোসফট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘বয়স কম’ তাই কর্মীকে ছাঁটাই করল মাইক্রোসফট
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

‘বয়স কম’ তাই ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম উঠল মাইক্রোসফটের এক কর্মীর। ভারতের হায়দরাবাদের ওই সফটওয়্যার প্রকৌশলী জানান, ছাঁটাইয়ের খবর দেওয়ার সময় তাঁর ব্যবস্থাপক তাঁকে ‘তুলনামূলকভাবে তরুণ’ উল্লেখ করেছেন। অথচ প্রায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। আর কোম্পানি ভেবেছিল বয়স কম তাই তাঁর পারিবারিক দায়িত্ব কম কিন্তু তিনিই তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ওই প্রকৌশলী এ নিয়ে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নতুন কাজের সন্ধানে সহায়তাও চান।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপকের ধারণার চেয়ে তাঁর আর্থিক দায়িত্ব অনেক বেশি। তিনি মা-বাবার খরচ চালানোর পাশাপাশি বোনের পড়াশোনার ব্যয় বহন করেন। এ ছাড়া বাবার নেওয়া ঋণও তাঁকে দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মাইক্রোসফটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইন্ডিয়া টুডে টেক।

রেডিটে পোস্টটি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটিতে ৯০০টির বেশি আপভোট ও ২০০-এর বেশি মন্তব্য পড়েছে।

পরে ওই প্রকৌশলী অবশ্য স্পষ্ট করেন, ছাঁটাইয়ের প্রকৃত কারণ তাঁর বয়স ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর ব্যবস্থাপকের মন্তব্য নিয়ে এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুললে তিনি লেখেন, ‘মূলত আমার বিভাগে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবেই এটি হয়েছে। তবে সম্ভবত আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যই ব্যবস্থাপক কথাটি বলেছিলেন, যা খুবই হাস্যকর।’

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাইক্রোসফটের সাবেক ওই কর্মীর ব্যাকএন্ড ও ফুল-স্ট্যাক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি এজেন্টিক এআই প্রকল্পে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন হ্যাকাথনেও অংশ নিয়েছেন। এখন তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও এসডব্লিউই–২ পদে চাকরি খুঁজছেন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ কিংবা প্রযুক্তি খাতের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। প্রয়োজনে অন্য শহরে বা এলাকায় স্থানান্তরিত হতেও প্রস্তুত। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্স ও চুক্তিভিত্তিক কাজেও আগ্রহী তিনি।

প্রকৌশলীর বিশ্বাস, তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে স্বাধীনভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি প্রকল্প সম্পন্ন করার সক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাকএন্ড, ফুল-স্ট্যাক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্পও রয়েছে।

রেডিটে তিনি লেখেন, ‘আপনার দল বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চললে, কোনো ফ্রিল্যান্স প্রকল্প থাকলে বা এমন কাউকে চিনলে, দয়া করে আমাকে বার্তা দিন। একটি রেফারেল বা চাকরির কোনো তথ্যও এ মুহূর্তে আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

আলোচনায় আরও প্রশ্ন ওঠে, ওই প্রকৌশলীকে মাইক্রোসফট চাকরিচ্যুত করেছে, নাকি তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানান, চাকরি ছাড়ার নথিতে বিষয়টিকে ‘ভলান্টারি সেপারেশন’ বা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাস্তবে কর্মীদের এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি বলেন, ‘কাগজে-কলমে এটিকে ঠিক চাকরিচ্যুতি বলা হয়নি। আইনি সুরক্ষার জন্য এটিকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ঘটনা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি মেনে নিয়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাইক্রোসফট কয়েক দফায় কর্মী ছাঁটাই করেছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। এটি তাদের মোট কর্মীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়া বিভাগগুলোর মধ্যে ছিল এক্সবক্স ও বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগ। শুধু এক্সবক্স বিভাগ থেকেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী চাকরি হারান।

সে সময় মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, কাজের ধরনে পরিবর্তনের সঙ্গে এসব ছাঁটাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে এবং যেসব পদ বাতিল করা হচ্ছে, সেগুলোর জায়গায় সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রতিষ্ঠানটি এও স্বীকার করেছে, এআই এখন কর্মীদের প্রতিদিনের কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত