Ajker Patrika

বিশ্ব রোবট সম্মেলনে সব আলো কেড়ে নিল ‘রোবট ঘোড়া’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিশ্ব রোবট সম্মেলনে সব আলো কেড়ে নিল ‘রোবট ঘোড়া’
সম্মেলনে রোবট ঘোড়ার পিঠে চড়ার সুযোগ পেয়েছেন দর্শনার্থীরাও। ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুরু হওয়া ২০২৬ সালের বিশ্ব রোবট সম্মেলনে এবার দর্শকদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে একটি চার পায়ের রোবট ঘোড়া। প্রদর্শনীতে এই রোবট ঘোড়া শুধু দেখার জন্য ছিল না, মানুষ এটির পিঠে চড়ারও সুযোগ পেয়েছে। একই সম্মেলনে নাচতে থাকা মানবসদৃশ রোবটসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্র প্রদর্শন করছে চীনা ও আন্তর্জাতিক নির্মাতারা।

বিবিসি জানিয়েছে, পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়েছে গত বুধবার (১৯ আগস্ট)। এতে ১৬টি দেশের দুই হাজারের বেশি রোবট অংশ নিয়েছে। চীন যখন দ্রুত তার রোবটিকস শিল্প সম্প্রসারণ করছে, তখন এই আয়োজন দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নতুন প্রদর্শনী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনে ‘সাইবার হর্স’ বা রোবট ঘোড়াটি প্রদর্শন করেছে চীনা স্টার্টআপ ‘ড্যাক্সএআই’। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘কিজি এক্স ১ অল-টেরেইন ইন্টেলিজেন্ট মাউন্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে, দর্শনার্থীরা অদ্ভুত আকৃতির এই যন্ত্রটির পিঠে বসে প্রদর্শনীস্থলের ভেতর চলাচল করছেন।

মোটরসাইকেল ও বিশালাকৃতির রোবট কুকুরের সংমিশ্রণের মতো দেখতে যন্ত্রটির চলাফেরা এখনো কিছুটা ঝাঁকুনিপূর্ণ। তবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে বহন করেও এটি সহজেই চলতে পারছে। নির্মাতাদের দাবি, রোবট ঘোড়াটি সর্বোচ্চ ৬৬০ পাউন্ড ওজন বহন করতে পারে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এবং একবার চার্জে প্রায় ২৫ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘চায়না ডেইলি’ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই যন্ত্র খাড়া ঢাল, নুড়িপথ ও কাদামাটিসহ জটিল ভূখণ্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে পারবে। অবসর বিনোদনের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় ভারী মালামাল পরিবহন এবং জরুরি উদ্ধারকাজেও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে সম্মেলন শুরুর দিনই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা ইউনিট্রি রোবোটিক্স সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির রোবটগুলো বেইজিংয়ে চলমান ২০২৬ ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসেও অংশ নিচ্ছে।

রোবট ঘোড়াটি কবে বাজারে আসবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে এটি ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন রসিক মন্তব্য করেছেন, ‘প্রযুক্তি দ্বিতীয়বারের মতো ঘোড়াকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলতে চলেছে।’ আরেকজনের ভাষায়, ‘একসময় ছিল ঘোড়াবিহীন গাড়ি, এবার এল ঘোড়াবিহীন ঘোড়া।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত