
ভারতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর জন্য ইলন মাস্কের স্টারলিংক এবং মুকেশ আম্বানির জিওসহ একাধিক সংস্থাকে লাইসেন্স দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে এই ছাড়পত্র দেওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তা, আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা এবং স্বচ্ছতার অভাবসংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন-স্পেসের (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার) চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, স্টারলিংকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত বেশির ভাগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশাল ভারতীয় ভূখণ্ডে বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিপ্লব ঘটাতে পারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট। বিশ্বজুড়ে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। স্টারলিংক ইতিমধ্যে ১০০টির বেশি দেশে এই পরিষেবা দিচ্ছে। তবে ভারতে যেভাবে এই পরিষেবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
প্রথমত, মোদি সরকার এই সংস্থাগুলোকে স্পেকট্রাম লাইসেন্স দিয়েছে কোনো নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই, শুধু প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে। তবে এই পদ্ধতির স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেয়নি।
দ্বিতীয়ত, স্টারলিংকসহ অন্যান্য দেশি-বিদেশি সংস্থাকে দেওয়া লাইসেন্সের শর্তাবলি স্পষ্ট করা হয়নি। এতে পক্ষপাতিত্ব এবং সম্পদের অস্বচ্ছ বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে।
সরকার অবশ্য উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের টেলিকমিউনিকেশন আইন অনুসারে স্যাটেলাইট পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্পেকট্রাম বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে।
২জি মামলার আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ
সাবেক প্রশাসনিক সচিব ই এ এস শর্মা দাবি করেছেন, এমন বরাদ্দ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ২জি স্পেকট্রাম মামলার রায় লঙ্ঘন করে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বরাদ্দে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
শর্মা কেন্দ্রের কাছে এক স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন—এই বরাদ্দে কি কোনো বেসরকারি সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে?
শর্মার মতে, স্টারলিংকের সঙ্গে মার্কিন সেনার যোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভারতে সরাসরি স্যাটেলাইট নজরদারি চালানো হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি।
আধুনিক যুদ্ধে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এ কারণেই ইরান, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশ স্টারলিংক নিষিদ্ধ করেছে।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার কালোবাজারে স্টারলিংক টার্মিনাল বিক্রি হচ্ছে।
স্টারলিংকের দ্রুত সংযোগ ও নিরাপদ ব্যবস্থার জন্য তা ইউক্রেন, সুদানসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রোন চালনাসহ আধুনিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
মণিপুরে স্টারলিংক ব্যবহারের অভিযোগ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মণিপুরের সংঘর্ষ পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিএলএ স্টারলিংক ব্যবহার করেছে। যদিও ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংক চালু হয়নি, তবে প্রতিবেশী মিয়ানমারে এটি বৈধভাবে চালু আছে।
এক পিএলএ নেতার দাবি, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে তারা মিয়ানমার থেকে স্টারলিংক ডিভাইস এনে সংযোগ চালু রাখে।
সরকারি রাজস্বের ক্ষতি
সরকার এখনো জানায়নি কত দামে এই স্পেকট্রাম বরাদ্দ হয়েছে। এতে বিপুল রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। শর্মার মতে, স্টারলিংক, জিও ও এয়ারটেল মিলে ‘কার্টেল’ তৈরি করছে, যা একচেটিয়াভাবে স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ফলে কোটি কোটি গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এতে সাধারণ গ্রাহকের পছন্দ ও প্রতিযোগিতা কমে যাবে।
এসব বিষয়ে গত মার্চে লোকসভায় যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সরকার কীভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রশাসনিক বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা বিধান কীভাবে হবে?’
তখন প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর বলেন, এসব সংস্থাকে ভারতে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সুরক্ষাসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্যাটেলাইট গেটওয়ে ভারতেই থাকতে হবে এবং সব ডেটা সেই গেটওয়ের মাধ্যমে যাবে। সীমান্তে ‘বাফার জোন’ রাখতে হবে।
গত এপ্রিলে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের (সিএইচআরআই) ডিরেক্টর বেঙ্কটেশ নায়ক আরটিআই আবেদন (তথ্য জানার অধিকার) করেন। তিনি জানতে চান—কে লাইসেন্স পেয়েছে, কী শর্তে পেয়েছে আর আবেদনকারীদের তালিকা কী?
সরকার শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির নাম জানিয়েছে। তবে বাকি তথ্য আরটিআই আইনের ৮ (১) (ডি) ও ৮ (১) (ই) ধারার আওতায় গোপন রাখে।
আরটিআই আইনের এ দুই ধারায় যা রয়েছে—
ধারা ৮ (১) (ডি) : কোনো তথ্য যদি ব্যবসায়িক গোপনীয়তা বা প্রতিযোগিতায় ক্ষতি করে, তাহলে তা গোপন রাখা যায়।
ধারা ৮ (১) (ই) : যদি তথ্য কোনো ‘বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক’ (ফ্রিডিউশারি) থেকে পাওয়া হয়, তাহলে তা প্রকাশযোগ্য নয়।
তবে বেঙ্কটেশ নায়কের যুক্তি, সরকার এই তথ্য নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পেয়েছে, কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে নয়।
তিনি বলেন, ‘আরটিআই আইনের ৪ (১) (বি) (১৩) ধারা অনুযায়ী, সরকার বাধ্য এ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমতির নথি প্রকাশ করতে।’
আরবিআই বনাম জয়ন্তীলাল মিস্ত্রি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়—সরকার আইন অনুযায়ী সংগৃহীত তথ্যকে ফিউডিশারি (‘ব্যক্তিগত’ বা ‘বিশ্বাসভিত্তিক) বলে গোপন রাখতে পারে না।
দ্য ওয়্যার হিন্দি এ বিষয়ে টেলিকম সচিব নীরজ মিত্তল এবং মিডিয়া বিভাগের উপ-মহানির্দেশক হেমেন্দ্র কুমার শর্মাকে ই-মেইল পাঠিয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দের পদ্ধতি, শর্ত ও সুবিধাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। একটি সরকারি সম্পদ (স্পেকট্রাম) বেসরকারি সংস্থার কাছে সরাসরি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইন ও গণতন্ত্রের নীতিমালার পরিপন্থী বলেই মনে করছেন বহু বিশ্লেষক।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়্যার

একসময় অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের কাছে কিংবা রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে যাওয়াই ছিল একমাত্র উপায়। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তন সেই চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। এখন আপনার হাতে থাকা একটি ছোট ঘড়ি শুধু সময় নয়, নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করে আপনার হৃৎস্পন্দন আর অক্সিজেনের মাত্রা।
১৪ ঘণ্টা আগে
অস্ত্রোপচার ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ইঁদুরের মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এতে মাথার ত্বক ও খুলি অক্ষত রেখেই মগজের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ধারণ করা সম্ভব। ‘চায়না সায়েন্স ডেইলি’ এ তথ্য জানায়। গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে।
১৫ ঘণ্টা আগে
কিউআর কোড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় এটি মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে নির্দিষ্ট তথ্য বা ওয়েবসাইট পাওয়া যেত। প্রথম দিকে এর ব্যবহার বেশ সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে সবখানে ছড়িয়ে পড়ে।
১৫ ঘণ্টা আগে
ডিজিটাল ডেটা চুরি—বিষয়টি কয়েক দিন থেকে আমাদের দেশে বেশ ভাইরাল হয়ে গেছে। সম্প্রতি একটি চেইন সুপার শপের ডেটা চুরি গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এ বিষয়ে অনলাইনে মানুষের প্রতিক্রিয়া নেহাতই ট্রলের পর্যায়ে রয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে