রোববার, ৩০ আগস্ট, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযানে করে উৎক্ষেপিত হলো আরেকটি বিস্ময়কর নভোদুরবিন ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ।
টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে এল২-এ স্থাপিত হবে। সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করতে আরও মাস তিনেক সময় লেগে যাবে। একই দূরত্বে আগে থেকেই রয়েছে টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস এবং ইউক্লিড। এই তিনটি নভোদুরবিন মিলে পরিপূরক পর্যবেক্ষণ চালাবে। আর এই রোমান টেলিস্কোপের পুরো প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি ডলার।
নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু মিলিয়ে এ পর্যন্ত মানুষ শুধু দৃশ্যমান মহাকাশের খুবই অল্প অংশ, মাত্র ৫ শতাংশ দেখতে সক্ষম হয়েছে। অথচ অদৃশ্যে লুকিয়ে আছে এই মহাবিশ্বের প্রায় সবটুকু অর্থাৎ ৯৫ শতাংশ। তাই এই লুকানো মহাবিশ্বকে দেখতে, পর্যবেক্ষণ করতে মানুষ মহাবিশ্বে পাঠিয়েছে তাদের ‘নতুন চোখ’ এই রোমান টেলিস্কোপ। কারণ, মহাবিশ্বের রহস্য পেটে নিয়ে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে চায় নাসা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে প্রধানত যে কয়েকটি প্রশ্ন, সেগুলো হলো ১. মহাবিশ্বের প্রসারণ কি চিরকাল চলবে, ২. ডার্ক এনার্জি আসলে কী, ৩. মহাবিশ্বের বিপুল অংশজুড়ে থাকা ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি কেমন, ৪. আমাদের সৌরজগতের বাইরে কতটি গ্রহ রয়েছে, আর ৫. সেই গ্রহগুলোতে কি প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা রয়েছে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে রোমান টেলিস্কোপ।
ডার্ক ম্যাটার এমন একধরনের অদৃশ্য পদার্থ, যা কোনোভাবে আলোকে শোষণ বা প্রতিফলন করে না। আলোর বিচ্ছুরণও ঘটায় না। এটি ছায়াপথগুলোকে একত্রে ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত মহাকর্ষীয় শক্তি জোগায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই ডার্ক ম্যাটারের কারণেই মহাকাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নক্ষত্রগুলো দ্রুত ঘুরতে ঘুরতে ছিটকে বেরিয়ে যেতে পারে না। তাঁদের ধারণা, মহাবিশ্বের ২৭ শতাংশজুড়ে এই ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। চোখে দেখা না গেলেও এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলো ডার্ক ম্যাটারের মহাকর্ষীয় টানের প্রভাবেই বেঁকে যায়। একে বলে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। এর মাধ্যমে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব বুঝতে পারেন বিজ্ঞানীরা।
এনার্জি মূলত রহস্যময় একটি বিকর্ষণকারী শক্তি, যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করে। মহাকর্ষ যেমন বস্তুকে আকর্ষণ করে, এটি তার বিপরীত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের ৬৮ শতাংশজুড়ে রয়েছে ডার্ক এনার্জি এবং এই ডার্ক এনার্জির কারণেই প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে মহাবিশ্ব।
রোমান টেলিস্কোপের প্রধান আয়নাটির ব্যাস ২ দশমিক ৪ মিটার বা ৬ দশমিক ৬ ফুট। সঙ্গে সংযুক্ত ক্যামেরাটি মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে বড় ইনফ্রারেড ক্যামেরা ও স্পেকট্রোমিটার। এতে ১৮টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ডিটেক্টর রয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে ৩০ কোটির বেশি পিক্সেলের একটি বিশাল ইমেজিং ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে। সোজা কথায়, হাবল টেলিস্কোপের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি কার্যক্ষম এই টেলিস্কোপটি অত্যন্ত উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন নভোদুরবিন। টেলিস্কোপটি পাঁচ বছরে আকাশের প্রায় ৫ হাজার ১০০ বর্গ ডিগ্রি এলাকা ম্যাপ করবে, যা পূর্ণিমার চাঁদের আকারের প্রায় ২৬ হাজার গুণ বেশি।
এই টেলিস্কোপের সঙ্গে করোনাগ্রাফ যন্ত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রটি নক্ষত্রের উজ্জ্বল আলো ঢেকে তার চারপাশের এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করবে দক্ষতার সঙ্গে। এমনিতেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখে এ পর্যন্ত ধরা পড়েছে ৬ হাজার ৫০০ এক্সোপ্ল্যানেট। রোমান টেলিস্কোপের চোখে ধরা পড়বে বিশালসংখ্যক এক্সোপ্ল্যানেট। তা ছাড়া ২০০ কোটির বেশি ছায়াপথের গতি-প্রকৃতি নিয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জ্যোতির্ময় করবে সর্বকালের বিস্ময়কর এই টেলিস্কোপ।
এই টেলিস্কোপের নাম? ন্যান্সি গ্রেস রোমান হলো কেন উত্তরটা সহজ। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমান (১৯২৫-২০১৮)। মহাকাশে বড় ধরনের টেলিস্কোপ পাঠানোর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর ছিল অসামান্য ভূমিকা। তাঁর দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মতো মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথ সুগম হয়। এ কারণেই তাঁকে ভালোবেসে বলা হয় ‘হাবল টেলিস্কোপের জননী’।
শুধু নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে নয়, মহাকাশ পর্যবেক্ষণে ন্যান্সির ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে নাসার নতুন প্রজন্মের এই নভোদুরবিনের নামকরণ করা হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।
প্রযুক্তির বিস্ময় এই টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ গবেষণার নতুন যুগের সূচনা হলো। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মহাকাশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা আমূল বদলে দেবে এই যন্ত্র। মহাকাশের অন্ধকার যতই গভীর হোক, মানুষের অনুসন্ধিৎসা তার চেয়ে শক্তিশালী। সেই অনুসন্ধিৎসারই নতুন প্রতীক হয়ে মহাকাশের পথে পাড়ি জমাল মহাবিশ্ব দেখার মানুষের এক নতুন চোখ ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সনি মিউজিক ও ওয়ার্নার চ্যাপেল। মামলায় অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেই এবং বেঞ্জামিন ম্যানকে ব্যক্তিগতভাবে বিবাদী করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাস।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ডজনখানেক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। পাশাপাশি মেটা এবং অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা টিকটক এবং ইউটিউবকেও অনুরূপ পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
অনেক ক্ষেত্রের মতো পিৎজা তৈরিতেও রোবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আপনার প্রিয় পিৎজাটি যদি একটি রোবট বানিয়ে দেয়, কেমন লাগবে? এখন আর এটি প্রশ্ন নয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, মানুষ নাকি রোবট, কার হাতের পিৎজা সেরা।
৪ ঘণ্টা আগে