
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার গুগল ক্রোমকে শিগগির চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে যাচ্ছে ওপেনএআইয়ের ওয়েব ব্রাউজার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র। এই ওয়েব ব্রাউজার এআইচালিত বলে জানা গেছে।
সূত্র তিনটি জানিয়েছে, এই ব্রাউজার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের ধরনই পাল্টে দিতে পারে। এর মাধ্যমে গুগলের সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ব্যবহারকারীর ডেটা আরও সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবে ওপেনএআই। আর এ কারণেই গুগল ক্রোমের চেয়ে এগিয়ে থাকবে ওপেনএআইয়ের ওয়েব ব্রাউজার—এমনটাই ভাবছেন তাঁরা।
বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ৫০ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী। তারা একসঙ্গে যদি নতুন ব্রাউজারটি ব্যবহার শুরু করে, তাহলে গুগলের বিজ্ঞাপননির্ভর আয়ের ওপর বড় রকমের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। গুগলের আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে বিজ্ঞাপন থেকে। আর গুগল ক্রোমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট বিজ্ঞাপনকে আরও কার্যকর ও লাভজনকভাবে পরিচালিত করতে পারে। সেই সঙ্গে এটি গুগলের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েব ট্রাফিক আনারও একটি বড় মাধ্যম।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের নতুন ব্রাউজার এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্যবহারকারীরা কিছু কাজ ওয়েবসাইটে ঢুকেই করতে না গিয়ে সরাসরি চ্যাটজিপিটি ধরনের ইন্টারফেসের মধ্যেই সারতে পারেন। এই ব্রাউজার প্রকল্পটি ওপেনএআইয়ের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তারা চায় ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের নানা কাজে নিজেদের সেবা ঢুকিয়ে দিতে।
এ প্রসঙ্গে ওপেনএআই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, সাম অল্টম্যানের নেতৃত্বে ওপেনএআই ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। শুরুর সেই সাফল্যের পর কোম্পানিটি এখন গুগল ও এনথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে এবং নতুন নতুন সম্ভাবনার খোঁজে আছে।
চলতি বছরের মে মাসে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা হার্ডওয়্যার খাতে প্রবেশ করছে। এ জন্য তারা অ্যাপলের সাবেক ডিজাইন-প্রধান জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত এআই ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘আইও’ কিনে নেয় ৬৫০ কোটি ডলারে।
ওপেনএআইয়ের ব্রাউজারের মাধ্যমে তাদের এআই এজেন্ট পণ্য সরাসরি ব্রাউজিং অভিজ্ঞতায় যুক্ত করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে, যেমন রেস্তোরাঁর বুকিং, ফর্ম পূরণ—সবকিছু সরাসরি ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত ওয়েবসাইটের মধ্যেই করতে পারবে এআই।
তবে ওপেনএআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। কারণ, গুগল ক্রোম এখন বৈশ্বিক ওয়েব ব্রাউজারের বাজারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি একাই দখল করে রেখেছে। এর ব্যবহারকারী ৩০০ কোটির বেশি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাপলের সাফারি এর ধারেকাছেও নেই, তাদের মার্কেট শেয়ার মাত্র ১৬ শতাংশ। ওপেনএআই গত মাসে জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির ৩০ লাখ পেইড বিজনেস ব্যবহারকারী রয়েছে।

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস রোধে নজরদারি বাড়িয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, পরিচয় চুরিতে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ পেলে তা গুগলের মাধ্যমে ট্র্যাক করা শিগগিরই সম্ভব হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
চ্যাটজিপিটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের পরীক্ষা করছে। এই পরীক্ষা চলছে ফ্রি এবং গো সাবস্ক্রিপশন টায়ারে। এই দুই টায়ারই চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে সস্তা প্যাকেজ। অনেকের মতে, এটাই হয়তো বিজ্ঞাপনহীন চ্যাটজিপিটির শেষের শুরু।
২ দিন আগে
কয়েক বছর আগেও এআই নতুন এক প্রযুক্তি হিসেবে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর সবকিছু যেন দ্রুত বদলে যেতে থাকল। মাঝে চীনের ডিপসিক নিয়েও চলল ব্যাপক আলোচনা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এআই পুরো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে গড়ে উঠল।
২ দিন আগে
প্রায় সময় দেখা যায়, ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষায় ভিপিএন ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন অ্যাপগুলো আইপি ঠিকানা লুকিয়ে রাখে এবং ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে। অনেকে গেমিং, সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করার মতো কাজে ভিপিএন অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন।
২ দিন আগে