
মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রচলিত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের পরিবর্তে নিজস্ব লিনাক্স ভিত্তিক ইকোসিস্টেম চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারমিনিস্টেরিয়াল ডিরেক্টরেট ফর ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স।
ফ্রান্সের জন প্রশাসন ও হিসাব মন্ত্রী ডেভিড আমিয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাষ্ট্র আর বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল ভাগ্য আমাদের নিজেদের হাতেই ফিরিয়ে নিতে হবে।’
মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর ডেটা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এই পথে হাঁটছে। ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে একটি ‘কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনানফ।
ফ্রান্স সরকার এরই মধ্যে উইন্ডোজ ও মার্কিন কোম্পানির প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা বর্জনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত জানুয়ারি মাসেই দেশের ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়েছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের মাইক্রোসফট টিমস এবং জুম ব্যবহার বাদ দিয়ে ফ্রান্সের তৈরি ভিসিও প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে।
জেন্ডবুন্টু (GendBuntu) মডেল ও ‘ফ্রান্স-ওএস’
ফ্রান্সের এই বিশাল পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে তাদের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব লিনাক্স ডিস্ট্রো ‘জেন্ডবুন্টু’। গত ২০ বছর ধরে প্রায় ১ লাখ কম্পিউটারে সফলভাবে এটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে এখন পুরো জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই সরকারি অপারেটিং সিস্টেমটির নাম হবে ‘ফ্রান্স-ওএস’ (FranceOS), যা উবুন্টু ২৬.০৪ (এলটিএস) সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।
উইন্ডোজ ও মার্কিন অ্যাপের বিকল্প
ফ্রান্স সরকার কেবল অপারেটিং সিস্টেম নয়, বরং পুরো সফটওয়্যার স্ট্যাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তাদের নিজস্ব ‘লা সুইট নিউমেরিক’ (The Digital Suite) স্যুটে থাকছে সাতটি শক্তিশালী ওপেন-সোর্স অ্যাপ্লিকেশন। এই স্যুটটি ওপেন-সোর্স কোলাবোরেশন টুলগুলোর একটি সুসংহত স্ট্যাক। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের ৬ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এটি ব্যবহার করছেন।
এই স্যুটটিতে উইন্ডোজের বিকল্প অ্যাপ্লিকেশনগুলো মধ্যে থাকবে:
LibreOffice: এটি ওয়ার্ড প্রোসেসর। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
Firefox (ESR): ওয়েব ব্রাউজার।
Thunderbird: ই-মেইল ক্লায়েন্ট।
GIMP: গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজের জন্য।
Tchap (মেসেজিং): হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ।
Visio (ভিডিও কনফারেন্সিং): ২০২৭ সালের মধ্যে টিমস এবং জুমের বদলে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।
Docs (ডকুমেন্ট এডিটিং): গুগল ডকস বা ওয়ার্ড অনলাইনের দেশীয় বিকল্প।
Grist (স্প্রেডশিট): ডেটাবেইস ভিত্তিক শক্তিশালী স্প্রেডশিট টুল।
Fichiers (ক্লাউড স্টোরেজ): নেক্সটক্লাউড ভিত্তিক নিরাপদ ফাইল স্টোরেজ।
Messagerie (ই-মেইল): জি-মেইল ও আউটলুকের বিকল্প সার্বভৌম মেইল ব্যবস্থা।
France Transfert: বড় ফাইল আদান-প্রদানের নিজস্ব মাধ্যম।
সাশ্রয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফ্রান্স সরকারের হিসাব অনুযায়ী, উইন্ডোজের লাইসেন্স ফি বর্জন করে লিনাক্সে স্থানান্তরের ফলে কেবল পুলিশ বাহিনীতেই বছরে ২০ লাখ ইউরো সাশ্রয় হচ্ছে। দেশজুড়ে এটি কার্যকর হলে সাশ্রয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ইউরো (৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি) ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৬ সালের শরতের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের নিজস্ব মাইগ্রেশন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: জিডিনেট

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক নাটালিয়া কসমিনা একজন ইন্টার্ন খুঁজছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু সিভি এবং কাভার লেটার পেলেন। এরপর সেগুলো পড়তে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, আবেদনকারীদের কভার লেটারগুলো একই রকম!
৮ ঘণ্টা আগে
চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের নতুন তরল ইলেকট্রোলাইট তৈরি করেছেন, ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হলে যা মুহূর্তেই কঠিন হয়ে যায়। এতে একধরনের ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি হয় এবং সম্ভাব্য বিস্ফোরণের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার এনার্জি’তে।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তিবিশ্বের এক মহিরুহের বিদায়ঘণ্টা বাজল। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের সফল যাত্রার পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন টিম কুক। গতকাল সোমবার অ্যাপল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
গণনা করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন শকুন্তলা দেবী। তিনি পরিচিতি লাভ করেন ‘মানব কম্পিউটার’ নামে। বিস্ময়কর প্রতিভার জন্য ১৯৮২ সালে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ অন্তর্ভুক্ত হয় তাঁর নাম।
১০ ঘণ্টা আগে