১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে ওজোন স্তর সুরক্ষায় ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়ল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন স্তর মূলত একটি প্রাকৃতিক ছাতা। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে মানুষ ও পরিবেশ রক্ষা করে। ১৯৮৫ সালে অ্যান্টার্কটিকায় এই ওজোন স্তরে একটি বিশাল গহ্বর আবিষ্কৃত হয়। এর প্রধান কারণ ছিল কিছু কৃত্রিম রাসায়নিক ও গ্যাস। সেসব রাসায়নিকের মধ্যে বেশি ক্ষতিকর সিএফসি। এটি ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার ও অ্যারোসলে ব্যবহৃত হতো। এই বিপর্যয় রুখতেই গৃহীত হয়েছিল মন্ট্রিয়ল প্রটোকল। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তির ইতিহাসে এটিই সফল বিশ্বজনীন চুক্তি। চুক্তিটি উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের জন্য ধাপে ধাপে প্রায় ১০০টি ওজোন ক্ষতিকারক পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধের একটি বাধ্যতামূলক এবং পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯১ সালে মাল্টিল্যাটারাল ফান্ড গঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এই ফান্ড ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে ৮ হাজার ৬০০টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক রূপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলো অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় ৯৮ শতাংশ ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি জলবায়ু সুরক্ষায় ২০১৬ সালের কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে পরিচিত এইচএফসিএস কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি চলতি শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের আশা ছিল, এই ধারায় চললে ২০৫০ সালের মধ্যে ওজোন স্তর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে এত সফলতার মাঝেও সম্প্রতি একটি বড় ফাঁক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমআইটি এবং সুইজারল্যান্ডের গবেষণাগারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য কেমিক্যাল তৈরির প্রাথমিক উপাদান বা ফিড স্টক হিসেবে ব্যবহার করা ওজোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারে ছাড় দেওয়াই এখন নতুন বিপদ ডেকে আনছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, শিল্প উৎপাদনে ফিড স্টক ব্যবহারের সময় রাসায়নিকের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। কিন্তু উন্নত নজরদারির মাধ্যমে দেখা গেছে, বাস্তবে এই লিক বা নিঃসরণের হার প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বা তারও বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্লাস্টিক উৎপাদন যেভাবে বাড়ছে, তাতে ফিড স্টকের এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ বন্ধ করা না গেলে ওজোন স্তরের সম্পূর্ণ নিরাময় অন্তত সাত বছর পিছিয়ে ২০৭৩ সাল পর্যন্ত চলে যেতে পারে। মন্ট্রিয়ল প্রটোকল অবশ্যই মানবজাতির বড় অর্জন। এটি প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করছে। কিন্তু সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে শিল্পকারখানার ফিড স্টক নিঃসরণ অবিলম্বে কমানো বা এর বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। স্ক্রিনে শুধু ওজোন স্তর সেরে ওঠার খবর দেখলে চলবে না, পেছনের এই অদৃশ্য লিক বন্ধ করতেই হবে।
সূত্র: ইউএনইপি, এমআইটি নিউজ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আশির দশকের আমেজে ভরে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় সেলফি রূপ নিচ্ছে রেট্রো পোর্ট্রেটে। পুরোনো দিনের হেয়ারস্টাইল, ভিনটেজ পোশাক আর ফিল্ম টেক্সচারের এই ছবিগুলো তৈরি করা বেশ সহজ।
৩ মিনিট আগে
ভাবুন তো, আপনি মঙ্গলের উদ্দেশে ভেসে যাচ্ছেন অসীম মহাশূন্যে। হঠাৎ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মহাকাশযানের সব ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক নেভিগেশন বিকল হয়ে গেল। পৃথিবীর সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন রেডিও যোগাযোগ। অন্তহীন অন্ধকারের বুক চিরে কীভাবে আবার ফিরে আসবেন প্রিয় গ্রহে?
৪৩ মিনিট আগে
নতুন নতুন প্রযুক্তিপণ্যের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল স্মার্ট গ্লাস। এর রয়েছে ব্যাপক সুবিধা। চশমার ফ্রেমে হালকা স্পর্শ করেই ফোন কল করা যায়। শুধু তা-ই নয়, এই স্মার্ট গ্লাসের সাহায্যে এআই ব্যবহার এবং ছবি বা ভিডিও তোলা যায়।
২ ঘণ্টা আগে
‘আরেক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে হ্যাক করছে মেটার এআই’; ‘ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক এআই মডেল নিজের সার্ভারে হামলা চালিয়েছে’; ‘মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করতে ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করেছে অ্যানথ্রপিক এআই’—এই সব শিরোনামই সাম্প্রতিক।
১ দিন আগে