আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে কল্পবিজ্ঞান আর বাস্তবতার পার্থক্য ঘুচে যাচ্ছে। ফলে এ যুগে শুধু স্মার্টফোন চালানো জানলেই চলবে না, সঙ্গে প্রযুক্তির অন্দরে কী ঘটছে, তা-ও বুঝতে হবে। সেটা এখন সময়ের দাবি। গত এক দশকে প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যতটুকু সহজ করেছে, গত দুই বছরে তার চেয়ে বেশি ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি, কীভাবে সিলিকন ভ্যালির ল্যাবরেটরিতে তৈরি হওয়া এক-একটি কোড বদলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন।
কর্মসংস্থানের নতুন সমীকরণ
আগে ভাবা হতো, এআই শুধু কায়িক শ্রমের বিকল্প হবে। কিন্তু এখন সৃজনশীল কাজেও (যেমন লেখালেখি, ছবি আঁকা, কোডিং ইত্যাদি) এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত করতে সক্ষম। পরিস্থিতি এমন যে এআই আপনার চাকরি কেড়ে নেবে কি না, এই প্রশ্নের চেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে এআই ব্যবহারকারী একজন মানুষ আপনার জায়গা দখল করবে কি না। এই প্রতিযোগিতার যুগে নিজেকে প্রতিনিয়ত ‘আপস্কিল’ করা এখন আর শখের বিষয় নয়, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। গ্লোবাল ইকোনমি এখন শুধু তেল কিংবা খনিজ সম্পদের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এখনকার সম্পদ হলো ‘ডেটা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে প্রচলিত অনেক পেশা বিলুপ্ত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তৈরি হচ্ছে ‘প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ‘এআই অডিটর’-এর মতো নতুন সব খাত। এর ফলে ধনী-দরিদ্রের ডিজিটাল বৈষম্য আরও তীব্র হচ্ছে। যার কাছে প্রযুক্তি আছে, সে দ্রুত এগোচ্ছে। অন্যরা পিছিয়ে পড়ছে এক গভীর অনিশ্চয়তায়।
প্রযুক্তির নতুন ‘কোল্ড ওয়ার’
এখনকার যুদ্ধ শুধু ব্যাটল ফিল্ডে নয়, সেমিকন্ডাক্টর চিপ আর ডেটা সেন্টারের ভেতরে। যে দেশের হাতে উন্নত এআই এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং থাকবে, তারাই বিশ্ব শাসন করবে। প্রযুক্তির এই লড়াই এখন বড় দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে। কোনো দেশের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব এখন তার ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া ইন্টারনেটে যা দেখছেন, তার কতটুকু সত্য? ডিপফেক প্রযুক্তি এখন এতই উন্নত হয়েছে যে কারও কণ্ঠস্বর কিংবা চেহারা হুবহু নকল করে মুহূর্তের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা অথবা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় এই প্রযুক্তি বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্টচেকিং’ এখন প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি মৌলিক দক্ষতা হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
সাইবার নিরাপত্তা
বর্তমান সময়ে একটি পারমাণবিক বোমার চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে একটি ‘সাইবার অ্যাটাক’। ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে শুরু করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড—সবই এখন হ্যাকারদের নিশানায়। সাধারণ মানুষের জন্য এখনকার বড় আতঙ্ক ‘ডিপফেক’ ও ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’। কণ্ঠস্বর কিংবা চেহারা নকল করে নিমেষে খালি করা হতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা নষ্ট করে দেওয়া হতে পারে আপনার সামাজিক সম্মান। কখনো ভেবে দেখেছেন, অজান্তেই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৬ সালে এসে গোপনীয়তা এখন শুধু পাসওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কী ভাবছেন—সবই ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে। তাই ‘ডেটা সভরেন্টি’ বা নিজের তথ্যের ওপর নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
খাঁচায় বন্দী শৈশব ও যৌবন
প্রযুক্তি আমাদের ভেতর থেকে একা করে তুলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন আমরা সারাক্ষণ স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকি। এর ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা, বডি ডিসমরফিয়া এবং মনোযোগের ঘাটতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। তবে মানুষ এখন রক্ত-মাংসের সম্পর্ক থাকার চেয়ে ডিজিটাল ভ্যালিডেশন কিংবা লাইক-কমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত। আবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিংবা মেটাভার্স। এটি আমাদের ঘরে বসে বিশ্ব ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি সংযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তির আড়ালে আমরা যেন রোবটের মতো যান্ত্রিক না হয়ে পড়ি, সেই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।
এআই এথিক্স এবং মানবিক অস্তিত্বের প্রশ্ন
মেশিন যখন মানুষের মতো চিন্তা করতে শেখে, তখন প্রশ্ন জাগে, নৈতিকতার দায় কার? এআই যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তার বিচার কীভাবে হবে? মানুষ এবং যন্ত্রের এই যে ব্লেন্ডিং অথবা সংমিশ্রণ, এটি আমাদের সৃজনশীলতাকে অলস করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। প্রযুক্তির এই জোয়ারে এখন বড় চ্যালেঞ্জ স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখা।

ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবহারকারীর সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বিভিন্ন থার্ড পার্টি মোবাইল ব্রাউজারে একটি বহুল ব্যবহৃত ফাঁকিবাজি বা লুপহোল বন্ধ করে দিয়েছে ইউটিউব। এসব ব্রাউজারের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক ব্যবহার করা যেত। এখন থেকে এসব থার্ড পার্টি মোবাইল ব্রাউজার ব্যবহার করে ইউটিউব চালু রেখে অন্য অ্যাপে যাওয়ার সুবিধা আর মিলবে ন
৯ ঘণ্টা আগে
নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরও ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক অনেক ক্ষেত্রে সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিদের নগ্ন ছবি তৈরি করছে—এমনটাই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধান।
৯ ঘণ্টা আগে
মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগ, কাজকর্ম ও ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এখন স্মার্টফোনকেন্দ্রিক। স্মার্টফোন কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি ‘ডিজিটাল ভল্ট’, যেখানে সংরক্ষিত থাকে ব্যক্তিগত কথোপকথন, সংবেদনশীল তথ্য এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত ডেটা।
১১ ঘণ্টা আগে