Ajker Patrika

২০২৬ সাল বদলে দেবে যে ৮ প্রযুক্তি

পল্লব শাহরিয়ার
২০২৬ সাল বদলে দেবে যে ৮ প্রযুক্তি

একটা সময় ছিল, যখন প্রযুক্তি মানে ছিল শুধু যন্ত্র। আজ সেই ধারণা বদলে গেছে। প্রযুক্তি এখন আমাদের সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি কখনো কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও। ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, চিকিৎসা, পড়াশোনা, কেনাকাটা—সবখানেই এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া। এই পরিবর্তন আর ধীরে নয়; বরং ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এমন কিছু প্রযুক্তি আমাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে, যেগুলো শুধু কাজের ধরন নয়, চিন্তাভাবনার ভাষাও বদলে দেবে। কেমব্রিজ ওপেন একাডেমির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যে আটটি প্রযুক্তিপ্রবণতা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে, সেগুলো নিয়ে এবারের আয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সহকারী থেকে সহযাত্রী

২০২৫ সালে এআই জগতের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার মতো অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এআই চর্চা বাড়া শুরু হয়েছে আরও বড় পরিসরে। এর সঙ্গে বিনিয়োগ বেড়েছে কয়েক গুণ। এ বছর থেকে এআইয়ের ব্যবহার আরও বেশি বাড়বে এবং ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যক্তিগত এআই সহকারী আমাদের অভ্যাস বুঝে আগেভাগে প্রয়োজন আন্দাজ করতে পারবে এবং কাজকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলবে।

Quantum-computing-iStock-1346925522

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং: গণনার সীমা ভাঙার নতুন যুগ

আমাদের পরিচিত সাধারণ কম্পিউটার কাজ করে ‘বিট’-এর ওপর। এর মান হয় শূন্য বা ১। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে ‘কিউবিট’, যা একসঙ্গে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সুপার পজিশন’। এই বৈশিষ্ট্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে দেয় অসাধারণ গতি ও ক্ষমতা। ফলে যে জটিল হিসাব করতে আজকের সুপারকম্পিউটারেরও দীর্ঘ সময় লাগে, তা কোয়ান্টাম কম্পিউটার করতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। যদিও এ প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সাল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত দিতে পারে। উপাদান বিজ্ঞান, নতুন ওষুধ আবিষ্কার কিংবা আর্থিক মডেলিং—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রভাব পড়তে শুরু করবে।

এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি: বাস্তব ও ভার্চুয়ালের সেতুবন্ধন

বাস্তব আর কল্পনার মাঝখানে যে অদৃশ্য দেয়াল ছিল, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি কিংবা এক্সআর সেই দেয়াল ভেঙে দিচ্ছে। এই প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এআই বাস্তব জগতের ওপর ডিজিটাল তথ্য কিংবা দৃশ্য বসিয়ে দেয়, আর ভিআর তৈরি করে সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও নিমগ্ন এক জগৎ। প্রযুক্তি গবেষণা বলছে, চলতি বছরের মধ্যে এক্সআর আর বিশেষ কোনো প্রযুক্তি থাকবে না। তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যাবে। বসার ঘরে বসেই ভিআরের মাধ্যমে লাইভ কনসার্ট উপভোগ করা যাবে।

১

বায়োপ্রিন্টিংয়ের উত্থান: চিকিৎসা ও উৎপাদনে যুগান্তকারী পরিবর্তন

জীবন্ত কোষ আর বিশেষ বায়োম্যাটেরিয়াল দিয়ে যদি মানবদেহের অংশ ‘ছাপা’ যায়? শুনতে অবাক লাগলেও বায়োপ্রিন্টিং সেদিকেই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং নামে পরিচিত এই প্রযুক্তির সাহায্যে ত্রিমাত্রিক মানব টিস্যু ও অঙ্গ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে, যা আমাদের ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসার আরও কাছে পৌঁছে দেবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর বদলে নতুন টিস্যু, এমনকি সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রিন্ট করে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে অঙ্গদানের দীর্ঘ অপেক্ষার দিনও হয়তো একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে।

বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তা: বদলাচ্ছে হুমকি, বদলাচ্ছে প্রতিরোধ

প্রযুক্তির ওপর আমাদের নির্ভরতা যত বাড়ছে, পৃথিবী যত বেশি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, ততই সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর আরও জটিল এবং সংগঠিত সাইবার হামলার সংখ্যা বাড়বে। বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা, ব্যাংকিং পরিকাঠামো, বড় সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য—সবই থাকবে হ্যাকারদের নিশানায়। তাই সাইবার নিরাপত্তা তখন আর শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় ও সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম অংশ হয়ে উঠবে।

ইন্টারনেট অব থিংস

ইন্টারনেট অব থিংস বলতে এমন বিস্তৃত নেটওয়ার্কে বোঝায়, যেখানে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। স্মার্ট ফ্রিজ, ফিটনেস ব্যান্ড বা সংযুক্ত গাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার যন্ত্র—সবকিছু এই নেটওয়ার্কের অংশ। ২০২৬ সালে এ ধরনের সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বাড়বে। প্রতিটি যন্ত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে তৈরি হবে আরও বুদ্ধিমান এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা।

স্মার্ট সিটি: টেকসই ভবিষ্যতের পথে

স্মার্ট সিটি মানে এমন একটি আধুনিক শহর, যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা হয়। এই শহরে রাস্তা, ট্রাফিক সিগন্যাল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ—সবকিছুই একধরনের বুদ্ধিমান ব্যবস্থার আওতায় থাকে। ধরা যাক, কোনো এলাকায় হঠাৎ যানজট বেড়ে গেল। স্মার্ট সিটিতে তখন ট্রাফিক সিগন্যাল নিজে থেকে সময় বদলে নেয়, যাতে গাড়ি দ্রুত চলতে পারে। আবার কোথায় ময়লা বেশি জমেছে, তা সেন্সরের মাধ্যমে জানা যায় এবং আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি সেই অনুযায়ী সবচেয়ে সুবিধাজনক পথে পাঠানো হয়।

এ সবকিছু সম্ভব হয় শহরের বিভিন্ন জায়গায় বসানো থাকা বিশেষ সেন্সর ও যন্ত্রের কারণে। বড় কথা, স্মার্ট সিটির পরিকল্পনায় পরিবেশের দিকটি গুরুত্ব পায়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দূষণ কমানো এবং বসবাসের উপযোগী শহর গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।

হাইপার অটোমেশন: রুটিন কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে যন্ত্র

অটোমেশন মানে শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া নয়, হাইপার অটোমেশন সেই ধারণাকে ছাপিয়ে যাবে। এখানে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াই স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে। রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং—এই তিন প্রযুক্তির সম্মিলিত প্রয়োগে তৈরি হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা, যা কাজকে করবে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও বিস্তৃত পরিসরে কার্যকর। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের নানা প্রযুক্তি গবেষণা ও বড় প্রযুক্তি সম্মেলনে এই প্রবণতাকে আগামী দিনের করপোরেট রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিবর্তন নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

‘চাইলে বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আচরণ অনুসরণ করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন বলির পাঁঠা’

উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, যা থাকছে সফরসূচিতে

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ, আটলান্টিকে তেলের ট্যাংকার পাহারা দেবে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

নিখোঁজ এনসিপি সদস্য ওয়াসিমের সন্ধান মিলল মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত