আজকের পত্রিকা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ার এক মাস পার হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম নিজেকে মুক্ত অনুভব করছে অ্যামি। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী জানাল, সে এখন ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারছে এবং তার দৈনন্দিন রুটিন বদলে গেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনে অনলাইন আসক্তির টান অনুভব করেছিল অ্যামি। প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতায় সে তার ডায়েরিতে লিখেছিল, ‘আমি জানতাম, স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে পারব না। তবুও অভ্যাসবশত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই অ্যাপটি খোলার জন্য হাত বাড়াতাম।’
নিষেধাজ্ঞার চতুর্থ দিনে যখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের কম বয়সী হাজার হাজার অস্ট্রেলীয় শিশুর জন্য বন্ধ হয়ে গেল, তখন অ্যামি স্ন্যাপচ্যাটের এই তীব্র আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করল।
অ্যামি লিখেছে, ‘বন্ধুদের স্ন্যাপ পাঠাতে পারছি না বলে খারাপ লাগছে ঠিকই, কিন্তু অন্য মাধ্যমে তো তাদের সঙ্গে টেক্সট করা যাচ্ছে। সত্যি বলতে, স্ট্রিক বজায় রাখার চিন্তা নেই ভেবে এখন নিজেকে অনেকটা মুক্ত মনে হচ্ছে।’
স্ট্রিক হলো স্ন্যাপচ্যাটের এমন এক ফিচার, যা অনেকের মতে প্রচণ্ড আসক্তি তৈরি করে। এতে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিদিন একে অপরকে ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হয়। এটি দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর চলতে থাকে।
ষষ্ঠ দিনে এসে স্ন্যাপচ্যাটের মোহ অ্যামির কাটতে শুরু করে। ১২ বছর বয়সে এই অ্যাপ নামানোর পর থেকে সে দিনে বহুবার এটি চেক করত। সে লিখেছে, ‘আগে স্কুল থেকে ফিরে স্ন্যাপচ্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতাম। এখন সেটা পারছি না বলে দৌড়াতে বেরিয়েছিলাম।’
এক মাস পর এখন অ্যামির অভ্যাস পুরোপুরি বদলে গেছে।
সিডনির এই কিশোরী বিবিসিকে বলে, ‘আগে স্ন্যাপচ্যাট খোলা আমার রুটিন হয়ে গিয়েছিল। একবার ওটা খুললে পরে ইনস্টাগ্রাম আর টিকটকে ঢুকে পড়তাম। অ্যালগরিদমের পাল্লায় পড়ে সময়ের জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম। এখন আমি আগের চেয়ে কম ফোন ধরি এবং কেবল জরুরি প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করি।’
অ্যামির অভিজ্ঞতা শুনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিশ্চয়ই খুশি হবেন। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে তিনি শিশুদের কাছে এই অভ্যাস ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। অনলাইনে উত্ত্যক্ত করা ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে কিশোরদের রক্ষা করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো টেক কোম্পানি ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে যৌক্তিক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাদের ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
আলবানিজ আশা করেছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন প্রজন্মের শিশুরা খেলাধুলা, বই পড়া বা বাদ্যযন্ত্র শেখার প্রতি আগ্রহী হবে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে চিত্রটা এমন নয়।
১৩ বছর বয়সী আহিল জানায়, সে আগের চেয়ে বেশি বই পড়ছে না বা খেলাধুলাও বাড়িয়ে দেয়নি। উল্টো সে এখনো প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কাটায়, যা নিষেধাজ্ঞার আগের মতোই।
ভুয়া জন্মতারিখ দিয়ে আহিল স্ন্যাপচ্যাট আর ইউটিউব ব্যবহার করছে। এ ছাড়া তার বেশির ভাগ সময় কাটে গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্স এবং মেসেজিং অ্যাপ ডিসকর্ডে, যেগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই।
আহিলের মতে, আসলে কিছুই বদলায়নি। কারণ, তার বেশির ভাগ বন্ধু এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়।
তবে আহিলের মা মাউ ছেলের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সে (আহিল) এখন আগের চেয়ে খিটখিটে মেজাজের হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি ভিডিও গেম খেলছে। যখন সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিল, অনেক বেশি সামাজিক ছিল। আমাদের সঙ্গে বেশি কথা বলত।’
তবে মাউ মনে করেন, আহিলের এই খিটখিটে মেজাজ বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনের কারণেও হতে পারে।
এ বিষয়ে ভোক্তা মনস্তত্ত্ববিদ ক্রিস্টিনা অ্যান্থনি বলেন, এই মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে আবেগ নিয়ন্ত্রণের তাৎক্ষণিক প্রভাব। অনেক কিশোর-কিশোরীর কাছে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদন নয়—এটি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ এবং সামাজিক উদ্বেগ কাটানোর মাধ্যম। যখন হঠাৎ এই মাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে বিরক্তি বা বিচ্ছিন্নতা কাজ করতে পারে। কারণ তারা তাদের পরিচিত অবলম্বন হারিয়ে ফেলেছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কিশোরেরা বিশ্বাসভাজন বড়দের সঙ্গে কথা বলার মতো নতুন উপায় খুঁজে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যান্থনি।

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ার এক মাস পার হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম নিজেকে মুক্ত অনুভব করছে অ্যামি। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী জানাল, সে এখন ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারছে এবং তার দৈনন্দিন রুটিন বদলে গেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনে অনলাইন আসক্তির টান অনুভব করেছিল অ্যামি। প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতায় সে তার ডায়েরিতে লিখেছিল, ‘আমি জানতাম, স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে পারব না। তবুও অভ্যাসবশত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই অ্যাপটি খোলার জন্য হাত বাড়াতাম।’
নিষেধাজ্ঞার চতুর্থ দিনে যখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের কম বয়সী হাজার হাজার অস্ট্রেলীয় শিশুর জন্য বন্ধ হয়ে গেল, তখন অ্যামি স্ন্যাপচ্যাটের এই তীব্র আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করল।
অ্যামি লিখেছে, ‘বন্ধুদের স্ন্যাপ পাঠাতে পারছি না বলে খারাপ লাগছে ঠিকই, কিন্তু অন্য মাধ্যমে তো তাদের সঙ্গে টেক্সট করা যাচ্ছে। সত্যি বলতে, স্ট্রিক বজায় রাখার চিন্তা নেই ভেবে এখন নিজেকে অনেকটা মুক্ত মনে হচ্ছে।’
স্ট্রিক হলো স্ন্যাপচ্যাটের এমন এক ফিচার, যা অনেকের মতে প্রচণ্ড আসক্তি তৈরি করে। এতে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিদিন একে অপরকে ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হয়। এটি দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর চলতে থাকে।
ষষ্ঠ দিনে এসে স্ন্যাপচ্যাটের মোহ অ্যামির কাটতে শুরু করে। ১২ বছর বয়সে এই অ্যাপ নামানোর পর থেকে সে দিনে বহুবার এটি চেক করত। সে লিখেছে, ‘আগে স্কুল থেকে ফিরে স্ন্যাপচ্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতাম। এখন সেটা পারছি না বলে দৌড়াতে বেরিয়েছিলাম।’
এক মাস পর এখন অ্যামির অভ্যাস পুরোপুরি বদলে গেছে।
সিডনির এই কিশোরী বিবিসিকে বলে, ‘আগে স্ন্যাপচ্যাট খোলা আমার রুটিন হয়ে গিয়েছিল। একবার ওটা খুললে পরে ইনস্টাগ্রাম আর টিকটকে ঢুকে পড়তাম। অ্যালগরিদমের পাল্লায় পড়ে সময়ের জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম। এখন আমি আগের চেয়ে কম ফোন ধরি এবং কেবল জরুরি প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করি।’
অ্যামির অভিজ্ঞতা শুনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিশ্চয়ই খুশি হবেন। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে তিনি শিশুদের কাছে এই অভ্যাস ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। অনলাইনে উত্ত্যক্ত করা ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে কিশোরদের রক্ষা করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো টেক কোম্পানি ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে যৌক্তিক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাদের ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
আলবানিজ আশা করেছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন প্রজন্মের শিশুরা খেলাধুলা, বই পড়া বা বাদ্যযন্ত্র শেখার প্রতি আগ্রহী হবে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে চিত্রটা এমন নয়।
১৩ বছর বয়সী আহিল জানায়, সে আগের চেয়ে বেশি বই পড়ছে না বা খেলাধুলাও বাড়িয়ে দেয়নি। উল্টো সে এখনো প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কাটায়, যা নিষেধাজ্ঞার আগের মতোই।
ভুয়া জন্মতারিখ দিয়ে আহিল স্ন্যাপচ্যাট আর ইউটিউব ব্যবহার করছে। এ ছাড়া তার বেশির ভাগ সময় কাটে গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্স এবং মেসেজিং অ্যাপ ডিসকর্ডে, যেগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই।
আহিলের মতে, আসলে কিছুই বদলায়নি। কারণ, তার বেশির ভাগ বন্ধু এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়।
তবে আহিলের মা মাউ ছেলের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সে (আহিল) এখন আগের চেয়ে খিটখিটে মেজাজের হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি ভিডিও গেম খেলছে। যখন সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিল, অনেক বেশি সামাজিক ছিল। আমাদের সঙ্গে বেশি কথা বলত।’
তবে মাউ মনে করেন, আহিলের এই খিটখিটে মেজাজ বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনের কারণেও হতে পারে।
এ বিষয়ে ভোক্তা মনস্তত্ত্ববিদ ক্রিস্টিনা অ্যান্থনি বলেন, এই মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে আবেগ নিয়ন্ত্রণের তাৎক্ষণিক প্রভাব। অনেক কিশোর-কিশোরীর কাছে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদন নয়—এটি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ এবং সামাজিক উদ্বেগ কাটানোর মাধ্যম। যখন হঠাৎ এই মাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে বিরক্তি বা বিচ্ছিন্নতা কাজ করতে পারে। কারণ তারা তাদের পরিচিত অবলম্বন হারিয়ে ফেলেছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কিশোরেরা বিশ্বাসভাজন বড়দের সঙ্গে কথা বলার মতো নতুন উপায় খুঁজে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যান্থনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কাছে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। তবে সেই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ মানার বিষয়ে ওপেনএআই অনেকবারই সতর্ক করেছে। তবে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যের চাহিদা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকায় এবার নতুন এক সেবা নিয়েছে ওপেনএআই।
৩ দিন আগে
উবার তাদের বৈশ্বিক রাইড-শেয়ার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাস্টম রোবোট্যাক্সি। সোমবার লাস ভেগাসে এই স্বচালিত যান উন্মোচন করে প্রতিষ্ঠানটি। গুগল-মালিকানাধীন ওয়েমোর ঘাঁটি সান ফ্রান্সিসকো থেকেই রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর পরিকল্পনা করেছে উবার।
৫ দিন আগে
একটা সময় ছিল, যখন প্রযুক্তি মানে ছিল শুধু যন্ত্র। আজ সেই ধারণা বদলে গেছে। প্রযুক্তি এখন আমাদের সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি কখনো কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও। ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, চিকিৎসা, পড়াশোনা, কেনাকাটা—সবখানেই এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া।
৫ দিন আগে
বাড়িতে পোষা প্রাণী রাখা অনেকের শখ। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এসব প্রতিকূলতা দূর করতে বাজারে এসেছে বিশেষ ধরনের গ্যাজেট, যেগুলো এখন প্রাণী পোষা আরও সহজ করে তুলছে।
৫ দিন আগে