Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন

জোকোভিচ নাকি আলকারাস, ফাইনালে স্বপ্নপূরণ হবে কার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জোকোভিচ নাকি আলকারাস, ফাইনালে স্বপ্নপূরণ হবে কার
কোর্টে আজ দুই টেনিস তারকার লড়াই দেখবে ভক্তরা। ছবি: সংগৃহীত

ইচ্ছা দেবী যদি দুজনকে একটি করে বর দিতেন– জোকোভিচ ও আলকারাস দুজনই চাইতেন মেলবোর্ন পার্কে আজকের ফাইনালের জয়!

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই ফাইনালের জয় আকাশ উচ্চতায় তুলে দেবে সার্বিয়ান তারকাকে। ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম নিয়ে এমনিতে গগনচুম্বী অবস্থান তাঁর। ছেলেদের টেনিসে এত গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা নেই আর কারও। তবে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জেতার রেকর্ড আছে মেয়েদের টেনিসের অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টেরও। আজ জিতলে তাঁকেও ছাড়িয়ে এমন এক উচ্চতায় নিজেকে তুলবেন জোকোভিচ, যেখানে অদূর ভবিষ্যতে কাউকে দেখার কল্পনাও করবে না টেনিস।

ইতিহাসের হাতছানি কার্লোস আলকারাসের সামনেও। রাফায়েল নাদালের দেশের এই প্রতিযোগী এরই মধ্যে জিতে নিয়েছে দুবার করে ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন। কিন্তু মেলবোর্ন পার্কে এখনো ট্রফি উঁচিয়ে ধরা হয়নি তাঁর। আজকের ফাইনাল জিতলে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি গড়বেন আলকারাস। আর টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি বলে দিয়েছেন এটাই তাঁর লক্ষ্য, ‘এ বছর এটাই আমার মূল লক্ষ্য। শিরোপার জন্য ক্ষুধার্ত আমি। এখানে সত্যি দারুণ একটা ফল করতে চাই।’

আজকের ফাইনালের দিন আলকারাসের বয়স হবে ২২ বছর ২৭২ দিন। এত কম বয়সে যে কীর্তি গড়তে পারেনি কেউ, আজ জিতলে সেটাই গড়বেন আলকারাস। ১৯ বছর ৪ মাস বয়সে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে যিনি টেনিসের ‘নাম্বার ওয়ান’ হওয়ার যোগ্যতা দেখিয়েছেন, সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র‍্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি তো তাঁরই শোভা পায়। আজ জিতলে রেকর্ড বইয়ের একটা পাতায় আলকারাস আড়াল করে দেবেন তাঁরই আশৈশব আদর্শ রাফায়েল নাদালকে। উন্মুক্ত যুগের টেনিসে যিনি, ২০১০ সালে ২৪ বছর ১০১ দিন বয়সে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি গড়েছিলেন।

তো আজ স্বপ্নপূরণ হবে কার? উত্তরটা সময়ের হাতেই। তবে ফাইনালের লড়াই শুরুর আগে এটা বলে দেওয়া যায়, কাব্যিক এক লড়াইয়ের অপেক্ষা মেলবোর্ন পার্ক, বিশ্ব টেনিসও।

ফাইনালে ওঠার পথে চতুর্থ রাউন্ড ও কোয়ার্টার ফাইনালে একটা সেটও জিততে হয়নি জোকোভিচকে। জ্যাকুব মেনসিকের বিপক্ষে ওয়াক ওভার পেয়েছিলেন জোকো। আর কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দুই সেটে পিছিয়ে পড়েও চোটের কারণে পার পেয়ে যান সার্বিয়ান তারকা। তবে দুই রাউন্ডে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ায় যাঁরা সেমিফাইনালের তাঁর বিপক্ষে ইয়ানিক সিনারকে এগিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদের ভুল প্রমাণ করেন আটত্রিশ বছর বয়সী জোকোভিচ। পাঁচ সেটের ম্যারাথন সে ম্যাচে অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরেন তিনি। ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের সেমিফাইনালে সিনারকে হারাতে ১৮টি ব্রেক পয়েন্টের ১৬টিই বাঁচাতে হয় তাঁকে। এমন ম্যাচ জিতে ফাইনালের প্রতিপক্ষ আলকারাসকে ‘ফুরিয়া যাইনি’ বার্তাও দিয়েছেন জোকো। মেলবোর্নের নীল কোর্টে দারুণ একটা রেকর্ডও কথা বলে জোকোভিচের পক্ষে—অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল কখনো খালি হাতে ফেরেন না জোকোভিচ। আগের ১০ ফাইনালের সবকটিতে জিতেছেন তিনি।

তবে নতুনের কেতন ওড়ানো আলকারাসও যেন অন্য ধাতুতে গড়া। কোনো পরিস্থিতিতেই হারতে জানেন না তিনি। সেমিফাইনালে আলকারাস খেলেছেন পাঁচ সেটের আরও লম্বা ম্যাচ। আলেক্সান্দার জভেরেভের বিপক্ষে ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট লড়াই করে টুর্নামেন্টে দীর্ঘতম সেমিফাইনালের জন্ম দিয়েছেন। কাব্যিক এই সেমিফাইনাল শেষে আলকারাস আরও একবার ঘোষণা করেন—‘পরাজয়কে ঘৃণা করি আমি।’

দুই প্রতিযোগী যখন হারতে চান না, তখন তো কাব্যিক এক ফাইনালেরই প্রত্যাশা!

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত