Ajker Patrika

২৩ বছরের অপেক্ষা কি ফুরোবে আমেরিকানদের

ক্রীড়া ডেস্ক    
২৩ বছরের অপেক্ষা কি ফুরোবে আমেরিকানদের
শেলটন ও জভেরেভ। ছবি: সংগৃহীত

শেষ কবে ফ্ল্যাশিং মিডোয় কোনো পুরুষ আমেরিকান শিরোপা জিতেছিল, টেনিসের হালহকিকত না জানলে তা মনে রাখা কঠিন। ২০০৩ সালে সর্বশেষ অ্যান্ডি রডিক ইউএস ওপেন জিতেছিলেন হুয়ান কার্লোস ফেরেরোকে হারিয়ে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৩ বছর। এ সময় হয়েছে ৯০টি গ্র্যান্ড স্লাম। কিন্তু রডিকের পর ঘরের মাঠে তো নয়ই, ভিন্ন কোনো গ্র্যান্ড স্লামেও কোনো আমেরিকান পুরুষ শিরোপা জিততে পারেনি।

আমেরিকানদের লম্বা সময়ের এই সাফল্য-বন্ধ্যত্ব ঘোচানোর খুব কাছাকাছি বেন শেলটন। আজ ইউএস ওপেনের ফাইনাল জিতলেই দুই যুগের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটবে আমেরিকানদের। ফাইনালে তাঁর সামনে বাধা জার্মানির আলেক্সান্দার জভেরেভ।

সেমিফাইনালে স্বদেশি ফ্রান্সেস তিয়াফোকে চার সেটের লড়াইয়ে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওঠেন শেলটন। আর তার আগের রাউন্ডে কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে নিজেকে শিরোপার দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন ২৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান।

বাঁহাতি শেলটন সাধারণত আক্রমণাত্মক টেনিস খেলেন। দুর্দান্ত সার্ভ, শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড ও দ্রুত কোর্ট কাভারেজ তাঁর বড় শক্তি। তবে সেমিফাইনালে লড়াই করেই জিততে হয়েছে তাঁকে। শুরুতে ছন্দে ছিলেন না। প্রথম সেটে ১৪টি ভুল করে হেরে যান তিনি। তবে দ্বিতীয় সেট থেকে দুর্দান্ত সার্ভিসে ম্যাচের চেহারা বদলে দেন। ম্যাচে তাঁর ২০টি এইস-ই বলছে, তাঁর সার্ভ প্রতিপক্ষের জন্য কতটা ভয়ানক!

ছন্দে থাকা শেলটনের এটাই প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনাল। ‘প্রথম’ হলেও তাঁর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখেন হুয়ান মাাটিন দেল পোত্রো। এখানে আর্জেন্টাইন সাবেক তারকার পরিচিতি অন্যভাবেও তুলে ধরা যায়। নন ইউরোপিয়ান হিসেবে সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী খেলোয়াড় তিনিই। ২০০৯ সালে তাঁর ইউএস ওপেন জয়ের পর আর কোনো নন ইউরোপিয়ান কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারেনি। রজার ফেদেরারকে হারিয়ে সেবার ইউএস ওপেনজয়ী দেল পোত্রো বললেন, ইউরোপিয়ানদের আধিপত্য ভেঙে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের ক্ষমতা শেলটনের রয়েছে।

তবে ফাইনাল জিততে হলে নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে শেলটনকে। এক নম্বর বাছাই হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলছেন জার্মান এই তারকা। সেমিফাইনালে যিনি কারেন খাচানভকে ৬-৩, ৭-৬ (৭), ৭-৬ (৬) গেমে হারিয়েছেন। চলতি মৌসুমে গ্র্যান্ড স্লামে তাঁর রেকর্ডটাও ঈর্ষণীয়—২৪-২।

শেলটনের মতো জভেরেভের সার্ভও খুব শক্তিশালী। দুই হাতের দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ডও জার্মান এই তারকার বড় শক্তি বেসলাইন থেকে গভীর ও ভারী শট খেলতে পারেন, লম্বা র‍্যালিতে ধৈর্য ধরে মানিয়ে নিতে পারেন।

অর্জন-অভিজ্ঞতাতেও প্রতিপক্ষের চেয়ে ঢের এগিয়ে জেভেরেভ। শেলটনের যেখানে এটাই প্রথম ফাইনাল, সেখানে এটি ২৯ বছর বয়সী জার্মানের ষষ্ঠতম ফাইনাল। এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বাদও নিয়েছেন। এ বছর উইম্বলডনেরও ফাইনাল খেলা জভেরেভ আজ জিতে নিশ্চয়ই তারা শিরোপা সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চাইবেন।

কিন্তু শেলটনের চাওয়ার সঙ্গে জাড়িয়ে আছে আমেরিকানদের আকাঙ্ক্ষাও—ফ্ল্যাশিং মিডোয় দেশেরই কেউ ট্রফি উঁচিয়ে ধরুক। এই আকাঙ্ক্ষার চাপ অনুভব করতে পারছেন শেলটন, ‘সবটুকু দিয়ে লড়াই করব আমি। নিজেকে উজাড় করে দেব। আমি সবটুকু দিয়ে লড়ব। কোর্টে সবকিছু উজাড় করে দেব। চলুন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য করি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত