
বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, শিরোপা উঠেছে স্পেনের হাতে। তবে ট্রফির লড়াইয়ের পাশাপাশি নীরবে আরেকটি প্রতিযোগিতাও শেষ হয়েছে; কোন ক্লাব সবচেয়ে বেশি অর্থ পাবে ফিফার কাছ থেকে। সেই দৌড়ে আবারও সবার ওপরে ম্যানচেস্টার সিটি।
বিশ্বকাপে জাতীয় দলগুলোর হয়ে খেলতে ফুটবলার ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ক্লাবগুলোকে অর্থ দেয় ফিফা। ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম (সিবিপি) নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার আওতায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগের দুই বিশ্বকাপে যেখানে মোট তহবিল ছিল ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে তা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের হিসাবে, এই তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। মূল পর্ব থেকে তাদের আয় প্রায় ৪৪ লাখ ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টানা তিনটি বিশ্বকাপেই ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ আয়কারী ক্লাব সিটিই। ক্লাবটির ছয় ফুটবলার বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত খেলেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে ছিলেন রায়ান শেরকি, মার্ক গেহি, নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস ও জেমস ট্রাফোর্ড। আর ফাইনালে স্পেনের হয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি। যে ক্লাবের খেলোয়াড় যত দিন বেশি বিশ্বকাপে টিকে থেকেছেন, সেই ক্লাবই বেশি আয় করেছে

।
আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। ইংল্যান্ডের আরেক শীর্ষ ক্লাব আর্সেনালও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে। যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার কারণে তাদের কয়েক ফুটবলার জাতীয় দলে যোগ দিয়েছিলেন দেরিতে, ফলে সম্ভাব্য আয় কিছুটা কমেছে।
তবে এবার শুধু ইউরোপের জায়ান্টরাই নয়, চমক দেখিয়েছে তুলনামূলক ছোট ক্লাবও। ১২ খেলোয়াড় বিশ্বকাপে পাঠিয়ে ক্রিস্টাল প্যালেস পাচ্ছে প্রায় ২৭ লাখ ডলার। সান্ডারল্যান্ডের আয়ও ২২ লাখ ডলার, যা তাদের মতো ক্লাবের জন্য বড় আর্থিক প্রাপ্তি।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ ফুটবলারের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশই ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের। ফলে লিগ হিসেবেও সবচেয়ে বেশি অর্থ যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো সম্মিলিতভাবে পাচ্ছে ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলোর প্রাপ্তি ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি নতুন দিক যোগ করেছে ফিফা। শুধু মূল পর্ব নয়, প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বে খেলোয়াড় ছাড়ার জন্যও আলাদা ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূল পর্বের জন্য বরাদ্দ ২৫ কোটি ডলার, আর প্রশাসনিক ও উন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে বাকি অর্থ। মে মাসের শেষ দিক থেকে কোনো দেশের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার করে পায় সংশ্লিষ্ট ক্লাব।
তবে এই অঙ্ক শুনে যত বড়ই মনে হোক, ইউরোপের ধনী ক্লাবগুলোর আর্থিক বাস্তবতায় তা খুব বেশি নয়। উদাহরণ হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির কথাই ধরা যায়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া ৪৪ লাখ ডলার যেন সমুদ্রের এক ফোঁটা জল।
তবু এই কর্মসূচির গুরুত্ব অন্য জায়গায়। বিশ্বকাপ শুধু জাতীয় দলগুলোর আয়োজন নয়, খেলোয়াড়দের গড়ে তোলা ও তাঁদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর পেছনে ক্লাবগুলোরও বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই ফিফার এই ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ। তবে সবকিছু তো বিশ্বকাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। ঠিক তেমনই এক ঘটনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষকে আটকের খবর। তবে এএফএ তা মিথ্যা বলে দাবি করছে।
১৯ মিনিট আগে
নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল শেষে কী হয়েছে, সেটা তো সকলেরই জানা। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস হারের পর এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে গলা চেপে ধরেছেন। তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভি দেশে ফেরার পর বরণ করা হয়েছে টমেটো দিয়ে।
১ ঘণ্টা আগে
নিউজার্সিতে গত ১৯ জুলাই লিওনেল মেসির কান্নাভেজা চেহারার কথা নিশ্চয়ই ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশা তাঁকে কতটা পোড়াচ্ছিল, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তিনি আজ এমএলএসে খেলতে নামেননি। তাঁকে ছাড়াই ইন্টার মায়ামি হারিয়েছে শিকাগো ফায়ারকে।
২ ঘণ্টা আগে
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। অথচ টানা তিন বিশ্বকাপেই অনুপস্থিত বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। সর্বশেষ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির ফুটবল কাঠামোকেই ঢেলে সাজানোর পথে হাঁটছে ইতালি।
৩ ঘণ্টা আগে