Ajker Patrika

সাইবারির গোলে মরক্কোর জয়

ক্রীড়া ডেস্ক    
সাইবারির গোলে মরক্কোর জয়
গোলের পর সাইবারির উদযাপন। ছবি:এক্স

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৭০ সেকেন্ড। গ্যালারিতে বসা ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড কোচ পেপ গার্দিওলা হয়তো তখনো ঠিকমতো আসনটি গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গেল স্কটল্যান্ড। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার এক লফটেড পাস ধরে স্কটিশ ডিফেন্ডার গ্র্যান্ট হ্যানলিকে পুরোপুরি পরাস্ত করে বল জালে জড়ালেন ইসমাইল সাইবারি।

২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে মরক্কো। আর প্রথম ৭০ সেকেন্ডের সেই ধাক্কাই পুরো ম্যাচে কাল হয়ে দাঁড়াল স্কটিশদের জন্য।

অথচ এই ম্যাচকে ঘিরে স্কটল্যান্ড কোচ স্টিভ ক্লার্কের কতই না পরিকল্পনা ছিল। রক্ষণে প্রথাগত পাঁচজনের বদলে চারজন নামিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন তিনি। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের ঠিক সামনে কিরণ টিয়ার্নিকে দিয়ে মাঝমাঠের বাঁ দিক সামলানোর ছক কষেছিলেন ক্লার্ক। কিন্তু ম্যাসাচুসেটসের তপ্ত রোদে সেই কৌশল একদমই কাজে আসেনি। প্রথমার্ধে স্কটিশ ফুটবলারদের মাঠের পজিশন খুঁজতে খুঁজতেই সময় পার হয়ে গেছে। ইউরো ২০২৪-এর উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে যেমন ছন্নছাড়া লেগেছিল স্কটল্যান্ডকে, এই ম্যাচের প্রথমার্ধেও দেখা গেছে সেই একই দৃশ্য।

যার পুরো ফায়দা তুলেছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। আজজেদিন ওনাহি, বিলাল এল খানুস আর ব্রাহিম দিয়াজদের নিয়ে গড়া মরক্কোর মাঝমাঠ পুরো ম্যাচেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ৫৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। তবে ব্যবধান যে আরও বাড়েনি, তার জন্য স্কটল্যান্ড ধন্যবাদ দিতে পারে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে। প্রথমার্ধে আশরাফ হাকিমির একটি বিপজ্জনক শট দারুণভাবে রুখে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে এল খানুসের নিশ্চিত গোলের হেডও ফিরিয়ে দেন তিনি। এর মাঝে সাইবারির আরেকটি স্লাইডিং শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি অ্যাটলাস লায়ন্সরা। ফাইনাল থার্ডে এসে দিয়াজদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গোলসংখ্যা বাড়াতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য থাকবে মরক্কোর।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খোলস ছেড়ে বেরিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে স্কট ম্যাকটমিনে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে গতি বাড়িয়ে মরক্কোর ডিফেন্সে ভীতি ছড়ান। তাঁর একটি শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে সাইড-নেটে লাগে। খেলার বিভিন্ন সময়ে বক্সের ভেতর জন ম্যাকগিন ও ম্যাকটমিনে পড়ে গেলে দুইবার পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে স্কটিশরা। তবে ভিএআর পরীক্ষা শেষে রেফারি তা নাকচ করে দেন, যা মূলত সঠিক সিদ্ধান্তই ছিল। তবে আক্রমণে ধার বাড়ালেও পুরো ম্যাচে মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভেঙে একটি শটও অন-টার্গেটে রাখতে পারেনি স্কটল্যান্ড।

এই জয়ের পর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-র টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মরক্কো। নকআউটের টিকিট বলতে গেলে তাদের হাতের মুঠোয়। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের পরের ম্যাচ শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে। তবে মরক্কোর কাছে মাত্র ১-০ গোলে হারায় গোল ব্যবধানে বড় কোনো বিপর্যয় হয়নি স্কটিশদের। হাইতির বিপক্ষে হিসাব মেলাতে পারলে প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুনার্মেন্টের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ এখনো টিকে আছে তাদের সামনে। তবে তার আগে শেষ ম্যাচে এখন স্কটিশ সমর্থকদের হাতে ক্যালকুলেটর নিয়ে সমীকরণের মারপ্যাঁচে বসতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত