Ajker Patrika

মায়ের জন্য কেঁদেছিলেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক, এবার বিশ্বকাপে হবে আলিঙ্গন

ক্রীড়া ডেস্ক    
মায়ের জন্য কেঁদেছিলেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক, এবার বিশ্বকাপে হবে আলিঙ্গন
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়েছিলেন ভোজিনিয়া। এবার বিশ্বকাপে মায়ের সামনে খেলবেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য গোলকিপিংয়ে কেপ ভার্দেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দিয়ে বিশ্বকাপের আলোচনায় উঠে এসেছেন ভোজিনিয়া। তবে ম্যাচ শেষে এই গোলরক্ষকের আবেগঘন এক মন্তব্যও সমানভাবে নাড়া দিয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যেতে পারেননি তাঁর মা। তবে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচেই।

ভোজিনিয়ার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা জানিয়েছেন, তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তিনি মিয়ামিতে গিয়ে ছেলের খেলা দেখবেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে, কিন্তু তবুও আমি আনন্দিত। ঈশ্বর চাইলে আমি বিশ্বকাপে আমার ছেলেকে খেলতে দেখতে যাচ্ছি। আমি সেখানে তাকে সমর্থন দিতে যাচ্ছি, তাকে শক্তি ও সাহস জোগাতে যাচ্ছি। ম্যাচের পর আমি তাকে জড়িয়ে ধরব।’

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর ভোজিনিয়া জানিয়েছিলেন, ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তাঁর মা বিশ্বকাপে আসতে পারেননি। সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিজের। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। পরে জেফরিজ নিশ্চিত করেন, ভোজিনিয়ার মা সময়মতো ভিসা পাবেন এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেফরিজ বলেন, ‘কোনো মায়েরই তাঁর সন্তানকে ইতিহাস গড়তে দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। এটি ঘোষণা করতে পেরে আমি গর্বিত যে ভোজিনিয়ার মা সময়মতো ভিসা পাবেন এবং এই রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ফি মওকুফ করা হয়েছে। মা ও ছেলের মিয়ামিতে পুনর্মিলনের জন্য এখন ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আবেগাপ্লুত ভোজিনিয়া বলেছিলেন, ‘আমি কেঁদেছিলাম, কারণ আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা এখানে নেই। কয়েক বছর আগেই তারা মারা গেছেন। তারা আমার কাছে সবকিছু ছিলেন, আমার জীবনের সবকিছু।

মায়ের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মায়ের কারণেও কেঁদেছি। ভিসার কারণে তিনি এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে অর্থ দিতে হয়, তা সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।’

বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেলা ভোজিনিয়া দেশের হয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি আরেকটি ইতিহাসও গড়েন। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে তিনি কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানো এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আমি ২৫ বছর বয়সে, ২০১২ সালে পেশাদার ফুটবল শুরু করি। আমার মতো একজন মানুষের জন্য সেটি অনেক দেরিতে ছিল। আমি জাতীয় দল ছাড়ার কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু এই স্বপ্নের জন্য শেষ পর্যন্ত চালিয়ে গেছি।’

‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২২ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচেই গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রার সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এভোরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত