১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস। আজকের পর্বে অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়ার নাম নিলেই চোখে ভেসে ওঠে ১৯৫০-এর দশকের সেই ‘ওয়ান্ডার টিমের’ কথা। সময়ের আবর্তে সেই সোনালি আভা ম্লান হয়েছে আগেই। ১৯৯৮ সালের পর টানা ২৮ বছর বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি আল্পস-কন্যাদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্যতম রোমাঞ্চকর দল হিসেবে ফিরল তারা।
শীতকালীন খেলার দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রিয়া এখন ফুটবলের নতুন উন্মাদনায় মেতেছে, যেখানে ভিয়েনার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি বসার ঘরে এখন শুধুই বিশ্বকাপের ডামাডোল।
অস্ট্রিয়ার এই আমূল পরিবর্তনের নেপথ্য কারিগরের নাম রালফ রাংনিক। ‘প্রেসিং’ ফুটবলের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রিয়া ফুটবলের খোলনলচে বদলে দিয়েছেন। গতানুগতিক রক্ষণাত্মক ফুটবল ঝেড়ে ফেলে তিনি দলটিকে শিখিয়েছেন তাঁর চিরচেনা ‘রেড বুল’ স্টাইলের আক্রমণাত্মক ফুটবল। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবের কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে রাংনিক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন, যা তাঁকে দেশটির ফুটবল-সমর্থকদের কাছে এক সম্মানের আসনে বসিয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা আরবি লাইপজিগের মতো ক্লাবে যা করতে চেয়েছিলেন, তার পূর্ণ প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলে।
বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পথটা অস্ট্রিয়ার জন্য ছিল রোমাঞ্চ আর নাটকে ঠাসা। উয়েফা বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপে তারা শুরু থেকে ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রথম পাঁচ ম্যাচের সব কটিতে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে যায়; বিশেষ করে সান মারিনোর বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয়টি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে চার গোল করে কিংবদন্তি টনি পোলস্টারকে টপকে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম খোদাই করেন মার্কো আর্নাউটোভিচ। তবে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করতে তাদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
রোমানিয়ার কাছে হেরে কিছুটা পথ হারানো অস্ট্রিয়া শেষ পর্যন্ত ভিয়েনার কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মহানাটকীয়ভাবে জয় পায়। পিছিয়ে পড়েও মাইকেল গ্রেগরিচের ৭৮ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক সমতাসূচক গোলটি অস্ট্রিয়াকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়।
অস্ট্রিয়া দলের বর্তমান প্রাণশক্তি হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা যখন রক্ষণ সামলান, তখন মাঝমাঠে ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার ও মার্সেল সাবিৎজার প্রতিপক্ষের বক্সে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন; বিশেষ করে বাউমগার্টনারের সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা দলটির আক্রমণের মূল চাবিকাঠি। তবে বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমে রাংনিকের উচ্চ গতির ‘গেগেনপ্রেসিং’ ফুটবল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, দলের মূল শক্তি আর্নাউটোভিচ, গ্রেগরিচ এবং সাবিৎজার ত্রিশের কোঠা অনেকটা পার করে ফেলেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘জে’তে। সেখানে তাদের লড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। ভিয়েনার গ্যালারিতে ফিরে আসা সেই উদ্দীপনা আর খেলোয়াড়দের হাতে থাকা প্রতীকী ‘গোল্ডেন কি-চেইন’ এখন শুধু একটাই প্রতিধ্বনি তুলছে—‘বিশ্বকাপ, আমরা (অস্ট্রিয়া) আসছি!’

২০২২ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা রালফ রাংনিকের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা অস্ট্রিয়াকে বদলে দিয়েছে। জার্মানির শ্যালকে, স্টুটগার্ট ও হফেনহাইমে কাজ করা এই কোচ মূলত আরবি লাইপজিগকে শীর্ষ স্তরে তোলার কারিগর হিসেবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে ‘প্রেসিং’ ফুটবলের পথপ্রদর্শক রাংনিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে অস্ট্রিয়ায় যোগ দেন। বায়ার্ন মিউনিখের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ফুটবল-দর্শনের মাধ্যমে দলটিকে ইউরো ২০২৪ এবং দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়ে অস্ট্রিয়ান ফুটবলের পুনর্জন্ম ঘটিয়েছেন।

রিয়াল মাদ্রিদে চোটের কারণে নিয়মিত দলে জায়গা করে নিতে পারছেন না। তবে অস্ট্রিয়া দলের মূল ভরসা ডেভিড আলাবা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জেতা এই ডিফেন্ডার তাঁর বহুমুখী খেলার শৈলী ও নিখুঁত পাসের জন্য সেরাদের একজন হয়ে আছেন। রাংনিকের উচ্চগতির ফুটবল-দর্শনে আলাবার রক্ষণ সামলানোর ক্ষমতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৮ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অস্ট্রিয়া যখন ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামবে, তখন দলের রক্ষণে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হবেন তিনি।
র্যাঙ্কিং: ২৪
অংশগ্রহণ ৮
অঞ্চল: ইউরোপ
ডাকনাম: বুরশেন
সর্বোচ্চ সাফল্য: তৃতীয় (১৯৫৪)
বিশ্বকাপে
ম্যাচ ২৯
জয় ১২
ড্র ৪
হার ১৩
১৭ জুন জর্ডান সান ফ্রান্সিসকো সকাল ১০টা
২২ জুন আর্জেন্টিনা ডালাস রাত ১১টা
২৮ জুন আলজেরিয়া কানসাস সিটি সকাল ৮টা

শেষ দিকে নোমান আলীর ঘূর্ণিতে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। ২৪০ রানে ৯ উইকেট হারালে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। তাই ঢাকা টেস্ট জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ২৬৮ রান।
২৯ মিনিট আগে
ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর সামনে। কিন্তু অতি অভিজাত শট খেলতে গিয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
৪২ মিনিট আগে
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪১৩ রানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান নাজমুল হোসেন শান্ত। দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেছেন অধিনায়ক। তাঁর ব্যাটে লিড বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ।
১ ঘণ্টা আগে
মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট গড়িয়েছে পঞ্চম দিনেই। সম্ভাব্য পরিণতি ড্র মনে হলেও গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে ঘটতে পারে যেকোনো কিছুই। পাকিস্তানি মিডল অর্ডার ব্যাটার সালমান আলী আঘা রোমাঞ্চকর শেষের আশাই করছেন।
১৩ ঘণ্টা আগে