Ajker Patrika

সমীহ জাগাচ্ছে ইকুয়েডর

১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে ইকুয়েডর

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৩: ১৫
সমীহ জাগাচ্ছে ইকুয়েডর
এবারের বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে পড়েছে ইকুয়েডর। ছবি: এএফপি

লাতিন আমেরিকার ফুটবল মানেই চিরাচরিত আক্রমণাত্মক নান্দনিকতা। তবে সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে এবারের বিশ্বকাপে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার এক নতুন সংজ্ঞায় হাজির হচ্ছে ইকুয়েডর। একসময় যারা স্রেফ অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট ছিল, সেই লা ত্রিরা এখন ফুটবলের নতুন ডিফেন্সিভ পাওয়ারহাউস।

২০০২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটা দলটি চার বছর পর দেখা পায় সেরা সাফল্যের। সেই দলের খেলোয়াড়েরা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের ক্লাব ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় নিজ নিজ দেশ বা মেক্সিকোতে কাটিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে ‘স্টার পাওয়ার’ অনেক বেশি এবং তাঁদের কাছে প্রত্যাশা এখন শুধু বাধা ভাঙার নয়, বরং নতুন উচ্চতা ছোঁয়ার।

কনমেবল বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থেকে মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ১৮ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল হজম করার যে রেকর্ড তারা গড়েছে, তা আধুনিক ফুটবলে বিরল। পিএসজির উইলিয়ান পাচো এবং আর্সেনালের পিয়েরো হিনকাপিয়েকে নিয়ে গড়া রক্ষণভাগই দলটির মূল শক্তির জায়গা। বাছাইপর্বে ইকুয়েডর ১৩টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি (ক্লিন শিট)। বেকাসেস গোল থেকে বাঁচার জন্য দুটি রক্ষণাত্মক দেয়াল তৈরি করেছেন। ফরোয়ার্ডদের নিচে নেমে আসা এবং মিডফিল্ডারদের জমাটবদ্ধ অবস্থান ইকুয়েডরের ‘লো ব্লক’ রক্ষণকে নিশ্ছিদ্র করে তুলেছে।

তবে এই পুরো কাঠামোর প্রাণভোমরা হলেন মোইসেস কাইসেদো। চেলসি মিডফিল্ডার বর্তমানে এই পজিশনে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর বল কেড়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে যেকোনো দলের জন্যই ইকুয়েডরের মাঝমাঠ ভেদ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বেকাসেসের পাল্টা আক্রমণভিত্তিক কৌশলে কাইসেদো রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।

এত সব ইতিবাচক দিকের মাঝেও ইকুয়েডরের প্রধান চিন্তার কারণ হলো আক্রমণভাগে ধারালো ফিনিশারের অভাব। সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া স্কোয়াডে থাকলেও ৩৬ বছর বয়সে তিনি ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে। বেকাসেসের কৌশলে খুব বেশি গোল করার সুযোগ তৈরি হয় না; বরং ইকুয়েডর সাধারণত অল্প গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিতে পছন্দ করে। আক্রমণের সৃজনশীলতার দায়িত্ব বর্তাতে পারে ১৮ বছর বয়সী কেন্দ্রি পয়েসের ওপর। পয়েসকে এরই মধ্যে ইকুয়েডরের ফুটবল ইতিহাসের সেরা প্রতিভা বিবেচনা করা হয়।

ইকুয়েডরের সামনে এখন নতুন ইতিহাস গড়ার সব ভিত্তি তৈরি। তাদের বাস্তববাদী খেলার ধরন টুর্নামেন্ট ফুটবলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর আগে নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ না জেতা ইকুয়েডর যদি এবার তা করতে পারে, তাহলে এই প্রজন্ম ফুটবলের পাতায় আলাদা জায়গা করে নেবে।

২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলাটা সেরা সাফল্য হলেও এবার নতুন কোনো ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপে আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে মঞ্চগুলো তাদের সামর্থ্য প্রমাণের অপেক্ষায়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাগুলোই একসময়ের আন্ডারডগ থেকে সমীহজাগানিয়া শক্তিতে পরিণত হওয়া ইকুয়েডর ফুটবলের নতুন বিজ্ঞাপন।

সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে এবার বিশ্বকাপে খেলবে ইকুয়েডর। ছবি: এএফপি
সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে এবার বিশ্বকাপে খেলবে ইকুয়েডর। ছবি: এএফপি

কোচ: সেবাস্তিয়ান বেকাসেস

আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে ইকুয়েডর এখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দল। ফেলিক্স সানচেজের বিদায়ের পর স্প্যানিশ ক্লাব এলচে থেকে এসে দলের হাল ধরেন তিনি। শুরুটা ব্রাজিলের কাছে হার দিয়ে হলেও পরবর্তী ১১ ম্যাচে মাত্র ১ গোল হজম করে চমক দেখান তাঁর শিষ্যরা। কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়সহ ১১ ম্যাচে ৫ জয় ও ৬ ড্রয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে লা ত্রিরা। রক্ষণের দৃঢ়তা ও উবিল্ড-আপ প্লে এখন বিশ্বকাপে তাদের বড় শক্তি।

এবারের বিশ্বকাপে তারকা মইসেস কাইসেদোর দিকে তাকিয়ে ইকুয়েডর। ছবি: এএফপি
এবারের বিশ্বকাপে তারকা মইসেস কাইসেদোর দিকে তাকিয়ে ইকুয়েডর। ছবি: এএফপি

তারকা: মোইসেস কাইসেদো

মাত্র ২৪ বছর বয়সে মোইসেস কাইসেদো প্রতিভাবান থেকে অন্যতম তারকায় পরিণত হয়েছে। যাঁর ঝুলিতে রয়েছে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের শিরোপাও। চেলসিতে নিজের অবস্থান শক্ত করে নেওয়া কাইসেদো এখন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে লা ত্রির অন্যতম নেতা হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাঠের সর্বত্র বিচরণ এবং ‘সার্জনের’ মতো নিখুঁত ট্যাকলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার। রক্ষণাত্মক দৃঢ়তার পাশাপাশি দলের বিল্ড-আপ প্লে-তেও তিনি এখন অপরিহার্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন ‘মিডফিল্ড জেনারেলকে’ কেন্দ্র করেই আবর্তিত।

বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের ইতিহাস

র‍্যাঙ্কিং: ২৩

অংশগ্রহণ: ৫

সর্বোচ্চ সাফল্য: শেষ ষোলো (২০০৬)

অঞ্চল: লাতিন আমেরিকা

ডাকনাম: লা ত্রি

বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের পারফরম্যান্স
ম্যাচজয়ড্রহার
১৩৫২৬
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ
তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যুশুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়)
১৫ জুনআইভরি কোস্টফিলাডেলফিয়াভোর ৫টা
২১ জুনকুরাসাওকানসাস সিটিভোর ৬টা
২৫ জুনজার্মানিনিউজার্সিরাত ২টা
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত